বেসামাল কিশোর গ্যাং: হাতিরঝিল থেকে ১০০ সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৯:৩১ এএম, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার

একের পর এক অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোর গ্যাং। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, হুমকি-ধমকি, গুলিসহ নানা অপরাধের পাশাপাশি খুনের মতো মারাত্মক অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে গ্যাং সদস্যরা। সর্বশেষ বুধবার রাতেও রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং সদস্যরা এক কিশোরকে চাপাতি দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ঢাকার অলিগলি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। কিশোর গ্যাংগুলোকে পুঁজি করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে নানা অপরাধ সংঘটিত করাচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের যেসব সদস্য অপরাধে জড়িত, তাদের গ্রেফতারে সারাদেশে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব। শুক্রবার রাজধানীর হাতিরঝিলে পুলিশের অভিযানে

কিশোর গ্যাংয়ের শতাধিক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি র‌্যাবের অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের শতাধিক সদস্য গ্রেফতার হয়। তাদের সাজা দিয়ে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের কাছে পিস্তল, রিভলবারসহ বোমা সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরাই এক সময় দেশের বড় বড় সন্ত্রাসী হতে পারে ও মারাত্মক সব অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। এরা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকির কারণ হয়েও উঠতে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা ছাড়াও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন।

এদিকে রাজধানীর হাতিরঝিলে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে শতাধিক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার হাতিরঝিল থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। কটূক্তি, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করাসহ বিভিন্নভাবে পথচারীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে এই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে।

হাতিরঝিল থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাতিরঝিল, মধুবাগ, মহানগর প্রজেক্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে থানায় নেয়া হয়। এদের অধিকাংশই বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তারা বিভিন্ন জায়গায় জটলা করে ইভটিজিং করে, পথচারীদের নানাভাবে কটূক্তি করে, অশ্লীল ভঙ্গি করে বলে জানান ওসি। তাদের থানায় নিয়ে ‘যাচাই-বাছাই’ করা হচ্ছে জানিয়ে ওসি বলেন, কেউ নিরপরাধ হলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সারাদেশে অপরাধে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি কিশোর গ্যাং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কাজ করছে। নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পর কিশোর সংশোধনাগার থেকে বের হওয়া কিশোরদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে নির্দেশনায়।

সারাদেশে অপরাধে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতারে চলমান অভিযানে শতাধিক কিশোর অপরাধী গ্রেফতার হয়েছে। যাদের অধিকাংশই সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে গাজীপুর ও টঙ্গী কিশোর সংশোধনাগারে রয়েছে।

র‌্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের উপপরিচালক মেজর রইসুল ইসলাম জানান, নানা অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে গ্রেফতার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে উত্তরাসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় থাকা কিশোর গ্যাং সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে র‌্যাব কাজ করছে। সাজাপ্রাপ্তদের প্রায় সকলেই মাদকাসক্ত।

দীর্ঘদিন যাবত তারা রাজধানীর বিভিন্নস্থানে ছিনতাই, পথচারীদের ব্যাগ, মোবাইল ফোন, মহিলাদের ভ্যানিটি ব্যাগ চাকু বা ব্লেড দিয়ে কেটে ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ছোঁ মেরে নিয়ে যাওয়াসহ নানা অপরাধ করে আসছিল। ছিনতাই করা প্রতিটি মোবাইল ফোনের বিনিময়ে তারা মোবাইল ফোনের দামভেদে তিন থেকে পাঁচটি করে ইয়াবা ট্যাবলেট পেত।

এডুকেশন বাংলা/এজেড