স্কুলে কোচিং না করায় ছাত্রী ও মা কে মারধর অতপর লাঞ্ছিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৯:৩২ এএম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

সাভারের আশুলিয়ায় স্কুলে কোচিং না করায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে। এছাড়া মারধরের ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা প্রতিবাদ করলে আবারও ছাত্রী ও তার মা কে মারধর করাসহ প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে আটকে রাখা হয়।

পরে বিষয়টি জানতে পেয়ে আটক মা এবং মেয়েকে উদ্ধার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। বুধবার দুপুরে সাভার উপজেলার পলাশবাড়ি বটতলা এলাকার ক্রিয়েটিভ স্কুলে এ ঘটনা ঘটেছে।

থানা পুলিশ জানায়, আশুলিয়ার পলাশবাড়ি বটতলা এলাকার ক্রিয়েটিভ স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী মুক্তা আক্তার ওই স্কুল ভবনের ৪র্থ তলায় পরিবারের সাথে বসবাস করে। স্কুলে কোচিং না করে অন্যত্র কোচিং করায় মঙ্গলবার ওই ছাত্রীকে ক্লাসে বেদম মারধর করেন শবু নামের এক শিক্ষক।

বুধবার সকালে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের ও তার ছেলে ইমরান হোসেনসহ আরও কয়েকজন মিলে মুক্তা ও তার মা কুলসুম আক্তারকে প্রকাশ্যে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখে।

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করেন।

মুক্তার বাবা সালাম শেখ বলেন, প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিং করতে বাধ্য করেছেন। আমার মেয়ে স্কুলে কোচিং না করায় তিনি মেয়েকে মারপিট করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একটি কক্ষে আটকে রাখেন।

মুক্তার মা কুলসুম আক্তার অভিযোগ করেন, মেয়েকে মারধরের কারন জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের রেগে যান এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি বলেন, তোরা আমার বিচার করতে এসেছিস, তোদের ব্যবস্থা করছি। এসময় তিনি তার ছেলে ইমরানকে ফোন করে ডেকে আনেন। এরপর বাবা ও ছেলে মিলে প্রকাশ্যে আমাকে ও মেয়েকে শ্লীলতাহানীসহ মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখে।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বলেন, খবর পেয়ে আটক ছাত্রী ও তার মাকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মূলত কোচিং না করায় স্কুল কর্তৃপক্ষ মুক্তা ও তার পরিবারের ওপর আগে থেকেই ক্ষিপ্ত ছিল।

ছাত্রী ও তার মাকে মারধর করার কারণ জানতে চাইলে ক্রিয়েটিভ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের বলেন, এধরনের ঘটনা ঘটে নাই। এখানে আশুলিয়া থানার পুলিশ এসেছে। তাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

কোচিং না করায় ছাত্রী ও ছাত্রীর মাকে মারধরের বিষয়ে সাভার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. কামরুন্নাহার কে অবগত করা তিনি বলেন, উপজেলায় এতো অসংখ্য স্কুলের মধ্যে কে ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিং করতে বাধ্য করছে, তা আমরা জানি না। আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে স্কুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি। আর এই বিষয়টি যেহেতু থানায় অভিযোগ হয়েছে তাই আমাদের কিছু করার নাই।

এডুকেশন বাংলা/একে