‘উপাচার্য, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করুন’

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৮:৪৮ এএম, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বুধবার

উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে পূর্বঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে জাবির প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম। দাবি না মানা পর্যন্ত লাগাতার অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রতিবাদী সংগীত ও নাটক পরিবেশন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিকাল ৪টায় দিনের কর্মসূচি শেষ করে আন্দোলনকারীরা।

অবরোধে অংশ নিয়ে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ছাত্রলীগের মধ্যে ভাগাভাগির যে অভিযোগ এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা মিথ্যা দাবি করছে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাই সেটির বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আর মাস্টারপ্ল্যানের সমস্ত শর্ত পুনঃবিন্যস্ত করতে হবে।’

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগকে তিনি মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এসব অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ দিতে বলেছেন। তাই আমরা বিনীতভাবে বলতে চাই, উপাচার্য, আপনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করুন।’

তিনি আরো বলেন, ‘দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন চলবে। এর অংশ হিসেবে বুধ ও বৃহস্পতিবার অবরোধ করা হবে। এর মধ্যে দাবি মেনে না নেওয়া হলে আমরা আলোচনা করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

এদিকে শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে স্থবির ছিল পুরাতন ও নতুন রেজিস্ট্রার ভবনে অবস্থিত সকল অফিসের কার্যক্রম। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, অ্যাকাউন্টস, কম্পট্রোলার, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, জনসংযোগ ও প্রক্টর অফিসে প্রবেশ করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। ফলে স্থবির হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম।

জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘আমি নিজ বাসভবনের কার্যালয়ে বসে দাপ্তরিক কাজ করেছি। কিন্তু প্রশাসনিক ভবনের অন্যান্য অফিসগুলো তাদের কাজ করতে পারেনি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা শুধু আমার কার্যালয় অবরোধ করার কথা বলেছিল। তারা তো সকল অফিস অবরোধ করে এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি করতে পারে না।’ আন্দোলনকারীদের লাগাতার অবরোধে প্রশাসনের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সময় হলে আমরা তাদের সঙ্গে বসব। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাব।’

এডুকেশন বাংলা/এজেড