মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রকল্পে দুর্নীতি আর লুটপাটের অভিযোগ

এস এম আববাস

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ১২:৫১ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০১৯ সোমবার

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদফতর বাস্তবায়নাধীন মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম (আইসিটি ফেজ-২) প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি আর লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে মে ও জুন মাসে এই প্রকল্পের আওতায় বেসিক টিচার ট্রেনিং (বিটিটি), হেড অব ইনস্টিটিউট (এইচআইটি) ও শিক্ষকদের ইন হাউজ ট্রেনিংয়ের নামে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা তছরুপ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ ওঠার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় মাউশি পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ড. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) আব্দুল খালেক তদন্ত করছেন। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ওএসডি না করে তদন্তকাজ কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাউশির একাধিক কর্মকর্তা।

তদন্ত কমিটির প্রধান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘তদন্ত শুরুর পর মাত্র কয়েকদিন সময় পেয়েছি। তারপর ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় তদন্ত শুরুর পর্যায়েই রয়েছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক ড. অধ্যাপক আব্দুস সবুর খান। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ সত্য নয়। তদন্তেই তা জানা যাবে।’

অভিযোগ মতে, প্রকল্প পরিচালক সরকারি বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো বিল ভাউচার বানিয়ে তার কয়েকজন সহযোগীর মাধ্যমে হিসাব রক্ষণ অফিস থেকে অর্থ উত্তোলন করেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ব্যয় চালানোর ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকের ক্ষমতা এককালীন সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু ব্যয় করা হয়েছে ৯৬ কোটি টাকা। হিসাব রক্ষণ অফিসকে ম্যানেজ করে মন্ত্রণালয়ের আদেশ ছাড়াই বিল তুলে নেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ড. অধ্যাপক আব্দুস সবুর খান বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী অর্থ ছাড়া হয়েছে। ৩০ লাখ টাকার কোনও লিমিটেশন নেই। সাড়ে তিন মাসের মধ্যেই ১ লাখ ৬১ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’

তবে প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবে কোনও মিল পাওয়া যায়নি। অর্থ ছাড়ের নথি অনুযায়ী ৯টি নোটশিটে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ছাড় করা হয়েছে ১৮২ কোটি ৪৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। তবে নোটশিটের যোগফলে উল্লেখ রয়েছে ১৪২ কোটি চার লাখ ৫৩ হাজার। এখানে হিসাবে ৪০ কোটি ৩৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকার কোনও খবরই নেই। তবে জুন মাসের মাসিক প্রতিবেদন (বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ফরম অনুযায়ী) হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৯৬ কোটির ছাড় হয়েছে। মাত্র সাড়ে তিন মাসে এক লাখ ৬১ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণের নামে অর্থ তছরুপ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রকল্পের আওতায় ৪৬ হাজার ৫৫০টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, দুই হাজার ১২০টি স্মার্ট ক্লাসরুম এবং ৫৬৭টি মাল্টিমিডিয়া কনফারেন্স রুম স্থাপন করা হবে। এজন্য প্রায় ৫০ হাজার মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর এবং সমসংখ্যক ল্যাপটপ কিনতে হবে। প্রায় ৮০০ কোটি টাকার এ কেনাকাটায় সিন্ডিকেট করে বড় একটা অংশ লুটপাট করার প্রচেষ্টা চালানো হয়।

এডুকেশন বাংলা/এজেড