অনিয়মকে নিয়ম বানিয়ে চিঠি দিল জেলা পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ১২:০১ পিএম, ১০ আগস্ট ২০১৯ শনিবার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের মনতলা-সীতারামপুর নৌঘাটে অতিরিক্তি টোল আদায় এমপির নির্দেশে বন্ধ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পার না হতেই আবার তা চালু হয়েছে। এবার জেলা পরিষদ পূর্বের টোল আদায়কে স্বীকৃতি দিয়ে চিঠি দিয়েছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আবারও ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রাচীন ওই নৌঘাটে সরকারের বেঁধে দেওয়া যাত্রীপ্রতি পাঁচ টাকার বদলে ১০ টাকা ও মোটরসাইকেলপ্রতি পারাপারে ১৫ টাকার স্থলে ৫০ টাকা হারে অতিরিক্তি টোল আদায় করা হতো। এ নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে স্থানীয় সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুলের নির্দেশে গত সোমবার ওই নৌঘাটে নবীনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জেপি দেওয়ান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অতিরিক্তি টোল আদায় বন্ধ করে দেন।

এ সময় অতিরিক্তি টোল আদায়ের অপরাধে টোল আদায়কারী রহমান মিয়া, শামীম মিয়া ও আল আমীন নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে প্রত্যেককে ১৫ দিন করে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। কিন্তু এ ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার না হতেই রহস্যজনক কারণে বুধবার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নওয়াব আসলাম হাবিবের স্বাক্ষরযুক্ত এক প্রজ্ঞাপনে যাত্রীপ্রতি পাঁচ টাকার বদলে ১০ টাকা ও মোটরসাইকেল পারাপারে ১৫ টাকার বদলে ৪০ টাকা করে আদায়ের জন্য ইজারাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনের ওই চিঠিটি বৃহস্পতিবার স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

এ নিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহরাওয়ার্দী চৌধুরী বলেন, ‘এ কী করল প্রশাসন? এটুকু নদী পারাপারে ১০ টাকা কিভাবে নির্ধারিত হলো? তাহলে কি প্রশাসনের চেয়ে ইজারাদারই ক্ষমতাশালী?’ এ ব্যাপারে স্থানীয় সাংসদ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫) এবাদুল করিম বুলবুল বলেন, ‘কেন এমনটা হলো তা নিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এডুকেশন বাংলা/একে