যেভাবে চাকরি পেলাম

মুহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ১০:১৯ এএম, ৩ জুলাই ২০১৯ বুধবার | আপডেট: ১০:২০ এএম, ৩ জুলাই ২০১৯ বুধবার

ছোটবেলা থেকেই ঝোঁক ছিল খেলাধুলায়। তাই বড় মাঠ দেখে ভর্তি হই খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। এই স্কুল থেকে ২০০৪ সালে এসএসসি এবং আইডিয়াল কলেজ (ধানমণ্ডি) থেকে ২০০৬ সালে এইচএসসি পাস করি। এরপর ভর্তি হই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীনে মার্কেটিংয়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলায় সময় দিয়েছি। ২০১২ সালে বিবিএ এবং ২০১৩ সালে এমবিএ করি।

বিবিএ পাস করার পর থেকেই ভবিষ্যত্ ক্যারিয়ার নিয়ে মাথায় চিন্তা ঢুকে যায়। কী করব, কী করব না, কিভাবে এগোব—এসব ভাবি। চাকরির প্রস্তুতি নিয়ে পরিকল্পনা ঠিক করি। ২০১২ সালে বিবিএ ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার পর তিন-চার মাস থিসিস বা ইন্টার্নশিপ করার সময় তিন-চারজন বন্ধু মিলে স্টাডি গ্রুপ করি, মূল লক্ষ্য বিসিএস।

বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ে বিবিএ ফাইনালের ফল প্রকাশিত হয়। এবার চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পালা। পত্রপত্রিকায় বেসরকারি ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলোতে দেখলাম, আবেদন করতে হলে মাস্টার্স কিংবা এমবিএ থাকতে হবে। পরে এমবিএ শেষ করে বিভিন্ন ব্যাংকে আবেদন করতে থাকি। কয়েকটি ব্যাংকে পরীক্ষা দিতে গিয়ে বুঝতে পারি, বিসিএস এবং ব্যাংক নিয়োগের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে অনেক পার্থক্য। নিয়েছি বিসিএসের প্রস্তুতি, আর সে প্রস্তুতিতে দিতে এসেছি ব্যাংকের পরীক্ষা। ব্যাংকের পরীক্ষায় বাংলা এবং সাধারণ জ্ঞানে ভালো করলেও ইংরেজি ও গণিতে মনমতো করতে পারিনি। কারণ বিসিএস পরীক্ষায় অঙ্ক আসে বাংলায়; কিন্তু ব্যাংকের পরীক্ষায় আসে ইংরেজিতে। আর কমার্সের ছাত্র হওয়ায় এসএসসির পর অঙ্ক খুব একটা অনুশীলন করা হয়নি। অঙ্কে কাঁচাই বলা চলে। ভার্সিটির বড় ভাইদের পরামর্শে সাইফুরস ও প্রফেসরস প্রকাশনীর ম্যাথ এবং ইংরেজির বই কিনে নিজে নিজে প্র্যাকটিস করতে থাকি। অনুশীলনের সময় কোনো অঙ্ক না বুঝলে খাতায় লিখে রাখতাম। এক বন্ধু অঙ্কে বেশ ভালো, তাকে বাসায় এনে প্রবলেম সলভ করেছি। ফেসবুকে শিক্ষামূলক অনেক গ্রুপ বা পেজের সাহায্য নিয়েছি। এসব গ্রুপে চাকরির বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ পরীক্ষার ্রপ্রস্তুতি ও পরামর্শমূলক পোস্ট থাকে। এ ছাড়া বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক, সাধারণ জ্ঞান, কম্পিউটার ইত্যাদি বিষয়ে সমস্যার সমাধান নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। ব্যাংকে চাকরির প্রস্তুতির জন্য বেশ কিছু বই সংগ্রহ করি, যেমন—IBA Admission Test Paper, MBA Admission Test Paper, Saifur`s Math, Professor`s Math, NOVA GRE-Math Bible, GRE BIG BOOK, English Grammar for Competitive exam, Easy Computer, নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড ব্যাকরণ বই, সৌমিত্র শেখরের ‘জিজ্ঞাসা’, ভাষা শিক্ষা (হায়াত্ মামুদ) ইত্যাদি। খবরাখবর জানতে নিয়মিত পত্রিকা দেখেছি।

এক-দুই বছর কঠোর অনুশীলন ও প্রস্তুতি শেষে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিই। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রিলি (এমসিকিউ) ও রিটেন পরীক্ষা নেওয়া হয় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মাধ্যমে। আমি আগে থেকেই বিআইবিএমের এমবিএম প্রশ্ন ব্যাংক দেখে প্রস্তুতি নিয়েছি, তাই পরীক্ষার সময় উত্তর দিতে বেগ পেতে হয়নি।

বিআইবিএমের প্রশ্নপত্রে ইংরেজি ও গণিতের Critical reasoning & puzzle আসে। আগে থেকে চর্চা না থাকলে পরীক্ষার এ অংশে ভালো করা যাবে না।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইভায় আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল,

‘আপনি ব্যাংকের জন্য কিভাবে আমানত সংগ্রহ করবেন?’ উত্তরে বলেছিলাম, ব্যাংকের সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি বর্তমান চাহিদা মোতাবেক নতুন নতুন সুবিধা দিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে পারলে ব্যাংকের আমানত বাড়বে।

এরপর জিজ্ঞেস করলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকিং খাত ঋণখেলাপিসংকটে আছে। অনেক ব্যাংকের অবস্থা ভালো না। তবু কেন ব্যাংকে চাকরি করতে চান?’ মাথা খাটিয়ে উত্তর দিয়েছিলাম। পরে ‘ফার্স্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ পাই।

নতুনদের উদ্দেশে বলব, ব্যাংকে চাকরির বাছাই পরীক্ষা হয় তিন ধাপে—প্রিলি, রিটেন ও ভাইভা। প্রিলি ও রিটেনে মূলত প্রশ্নে যা চাওয়া হয়, প্রার্থী সঠিক সময়ে খাতায় তা ঠিকঠাক লিখে দিতে পারছে কি না, এটা যাচাই করা হয়। ভাইভায় প্রার্থীর সার্বিক জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস পরখ করা হয়। ব্যাংকে চাকরি পেতে হলে গণিত ও ইংরেজিতে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে।

প্রথম দিকে নিয়োগ পরীক্ষার পড়াশোনা ভালো লাগলেও পরে বিরক্তি লাগতে পারে। এই বিরক্তি দূর করতে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখতে হবে। ব্যাংকের পরীক্ষায় নির্দিষ্ট কোনো সিলেবাস নেই, তাই প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখতে না পারলে পিছিয়ে পড়বেন। প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রথমে নিজের সক্ষমতা ও দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করতে হবে, সেই মোতাবেক পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে।

লেখক: ফার্স্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার


এডুকেশন বাংলা/এজেড