এমপিভুক্তিতে অর্থপ্রাপ্তির পর এবার প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে জটিলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৮:৪৬ পিএম, ২০ জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৮:২৫ এএম, ২১ জুন ২০১৯ শুক্রবার

নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা মিলেছে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। কিন্তু এখন জটিলতা দেখা দিয়েছে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন নিয়ে। ফলে এখনো প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জটিলতা কাটাতে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। আগামী অর্থবছরের বাজেট পাস হওয়ার পর জুলাই মাসে এমপিওভুক্তির জন্য নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা হতে পারে। তবে যেদিনই ঘোষণা হোক না কেন এমপিওভুক্তি কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকেই।

নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের কঠোর আন্দোলনের মুখে গত বছরের জুলাই মাসে নতুন করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে যোগ্য প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে চারটি মানদণ্ড ঠিক করে দেওয়া হয়। গত বছরের আগস্ট মাস থেকে এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন নেওয়া শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মোট ৯ হাজার ৬১৪টি আবেদন জমা পড়ে। সব শর্ত পূরণ করে দুই হাজার ৭৬২টি প্রতিষ্ঠান। গত মে মাসে ওই সব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে এক হাজার ২৪৭ কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যোগ্যতার মাপকাঠিতে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করতে গেলে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেয়। অনেক উপজেলায় ১০ থেকে ১২টি যোগ্যতাসম্পন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পাওয়া গেছে। আবার অনেক উপজেলায় যোগ্যতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একেবারেই কম। আবার কোনো উপজেলায় পাওয়াই যাচ্ছে না। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চল, চরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায় এমপিওভুক্তির জন্য প্রতিষ্ঠানই মিলছে না।

জানা যায়, এমপিওভুক্তির জন্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে সম্প্রতি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর এমপিওভুক্তি যাচাই-বাছাই কমিটি গত সপ্তাহে একটি সভা করেছে। সভায় পাহাড়ি অঞ্চল, চরাঞ্চল, দুর্গম এলাকা, নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া কোনো উপজেলাই যাতে এমপিওভুক্তি থেকে বাদ না যায় সে বিষয়টিও আলোচনায় আসে। সভা সূত্রে জানা যায়, এ ক্ষেত্রে যদি শর্ত কিছুটা শিথিলও করতে হয় তাও করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া এমপিওভুক্তির জন্য সংসদ সদস্যদের ডিও লেটারও (আধা-সরকারি পত্র) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা পড়তে শুরু করেছে এরই মধ্যে।

এমপিওভুক্তি যাচাই-বাছাই কমিটির আহ্বায়ক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেন, ‘এমপিওভুক্তির জন্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের কাজ চলছে। তবে যত বেশি পারফেকশন ও যত বেশি বেনিফিট দেওয়া যায় সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আশা করছি, কোনো উপজেলাই এমপিওভুক্তির তালিকা থেকে বাদ যাবে না।’

এমপিও নীতিমালা ২০১৮ অনুযায়ী, একটি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তি পেতে প্রধান চারটি শর্ত রাখা হয়েছে। এগুলোর জন্য রাখা হয়েছে ১০০ নম্বর। এতে একাডেমিক স্বীকৃতির তারিখের জন্য রাখা হয়েছে ২৫ নম্বর। প্রতি দুই বছরের জন্য পাঁচ নম্বর এবং ১০ বা এর চেয়ে বেশি বছর হলে পাবে ২৫ নম্বর। শিক্ষার্থীর কাম্য সংখ্যা থাকলে ওই প্রতিষ্ঠান পাবে ১৫ নম্বর এবং এর পরবর্তী ১০ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য পাবে পাঁচ নম্বর, সর্বোচ্চ ২৫ নম্বর।

কাম্য যোগ্যতা পূরণ করতে নীতিমালা অনুযায়ী, সহশিক্ষা ও বালক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহরে ২০০ এবং মফস্বলে ১৫০ শিক্ষার্থী থাকতে হবে। মাধ্যমিকে শহরে ৩০০ এবং মফস্বলে ২০০ শিক্ষার্থী থাকতে হবে। স্কুল অ্যান্ড কলেজে শহরে ৪৫০ এবং মফস্বলে ৩২০ শিক্ষার্থী থাকতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে শহরে ২০০ এবং মফস্বলে ১৫০ শিক্ষার্থী থাকতে হবে। স্নাতক পাস কলেজে শহরে ২৫০ এবং মফস্বলে ২০০ শিক্ষার্থী থাকতে হবে। আর প্রতিটি শ্রেণির পরীক্ষায় শহরে ৬০ এবং মফস্বলে ৪০ শিক্ষার্থীকে অংশ নিতে হবে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হতে হবে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের সর্বশেষ হিসাব থেকে জানা যায়, দেশে এখন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। তবে সবচেয়ে বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে রাজশাহী বিভাগে। এরপর রংপুর ও খুলনা বিভাগে। এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে দুই হাজার ৭০১টি, চট্টগ্রামে দুই হাজার ১৫, কুমিল্লায় এক হাজার ৯৮৪, ঢাকায় তিন হাজার ২৭, খুলনায় তিন হাজার ৫৭৯, ময়মনসিংহে তিন হাজার ৫৭, রাজশাহীতে চার হাজার ১০৮, রংপুরে তিন হাজার ৯৯৭ এবং সিলেট বিভাগে মাত্র এক হাজার ৮৯টি। যেসব এলাকায় কম প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেসব এলাকা নতুন এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে বলেও জানা গেছে।

বাংলাদেশ নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহামুদুন্নবী ডলার বলেন, ‘বাজেট বক্তৃতায় যেহেতু প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন যে এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান রাখা হয়েছে, তাই আমরা আশা করব সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্ত করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতিই এমপিওভুক্ত হওয়ার প্রধান যোগ্যতা। এখানে অন্য কোনো মানদণ্ড বিবেচনায় আসতে পারে না। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পাঁচ হাজার ২৪২টি প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তিই আমরা চাই।’ সূত্র: কালের কন্ঠ

এডুকেশন বাংলা/একে