প্রধান শিক্ষককে ছাত্রলীগ নেতার প্রশ্ন ‘তুই জানিস না কেন?’

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৭:৩০ পিএম, ২১ মে ২০১৯ মঙ্গলবার

সাতক্ষীরার দেবহাটা সরকারি খান বাহাদুর আহছানউল্লা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়েজুল্লাহর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কলেজ চত্বরে এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

কলেজ ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, শিক্ষকদের প্রতি অশোভন আচরণ, ইভটিজিংসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত এ মানববন্ধন থেকে ছাত্রলীগের কলেজ শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন কমিটি ঘোষণারও দাবি জানান শিক্ষকরা।


মানববন্ধন শেষে সরকারি খান বাহাদুর আহছানউল্লা কলেজের অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ফয়েজউল্লাহ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অনার্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সে আমাদের ছাত্র। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ ফয়েজউল্লাহ আমার রুমে এসে বলে, ‘আংকেল আপনারা স্টুডেন্টদের কাছ থেকে ৮০ টাকা করে নিচ্ছেন কেন?’ তখন আমি বলি, এটা তোমাদের ভাইস প্রিন্সিপাল স্যার বলতে পারবেন। তার কাছে জিজ্ঞেস করো। আমি একটু অন্য কাজে ব্যস্ত। তখন সে বলে, ‘এই তুই জানিস না কেন?’ তখন আমি তাকে আমার রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলি। ঘটনার সময় আরও দুজন শিক্ষক আমার কক্ষে ছিলেন।

কলেজ অধ্যক্ষ আরও বলেন, আমার ৩৪ বছরের শিক্ষাকতার জীবনে এমন ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনার পর তার বলা কথাগুলো শিক্ষকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষকরা প্রতিবাদ শুরু করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার মানববন্ধন করে প্রতিবাদ ও কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে জানানো হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী ডা. আ.ফ.ম রুহুল হককেও জানানো হবে। এর একটা সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না।


তিনি আরও বলেন, এই ছেলের বিরুদ্ধে ইভটিজিং, গাঁজা সেবন, চাঁদাবাজি, উশৃঙ্খলতার অভিযোগ প্রতিদিনের ঘটনা। তবে তাকে আমরা বুঝাই। অল্প বয়স হয়তো সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু দিন দিন তার আচরণ আরও খারাপের দিকে গেছে। আমরা ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চাই।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ফয়েজউল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক খাতার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ ১০০-১৫০ টাকা করে নেয়ার ঘটনাটি শিক্ষার্থীরা আমাকে জানানোর পর বিষয়টি জানতে আমি অধ্যক্ষের রুমে যাই। এসব কথা জিজ্ঞেস করায় সেখানে আমাকে মারপিট করতে উদ্যত হন। এছাড়া স্যার আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দিচ্ছেন সেটা সত্য নয়।

মানববন্ধনে কলেজ অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম, শিক্ষক গোলাম জাকারিয়া, পবিত্র মোহন দাশ, মোল্লা সাব্বীর হোসেন, কামিদুল ইসলাম, শংকর কুমার দাশ, আজহারুল ইসলাম, আব্দুল আজিজ, শেখ মিজানুর রহমান, শহীদুল ইসলাম, মইনুদ্দিন খান, ফেরদৌসী পপি, শেখ হাবিবুল্লাহ, আছফারুজ্জামান, এস. এম মিজানুর রহমান, মনিরুল ইসলাম, আকবর আলী, মোশারফ হোসেন, শাহানুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবীর, স্বপন কুমার মন্ডল, আকরাম হোসেন, আজিজুর রহমান, মাসুদ করিম, শচীন্দ্র নাথ মন্ডল, রঞ্জন কুমার মন্ডল, অভিজিৎ বসু, আব্দুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, মনিরুজ্জামানসহ সব শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী অংশ নেন।

এডুকেশন বাংলা/একে