বেঁচে ফিরলেন ‘স্ট্যাটাস’ দেয়া সেই যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৮:০৪ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার

বনানীর এফআর টাওয়ারের আগুনে আটকে পড়া যুবক হাসনাইন আহমেদ রিপন বেঁচে আছেন। ফায়ার সার্ভিস-এর কর্মীরা তাকে এয়ার লিফটের মাধ্যমে উদ্ধার করছে বলে জানা গেছে। এর আগে আজ দুপুরে ৩টার দিকে নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন রিপন।

এফ আর টাওয়ারের ১৩ তলায় অবস্থান করছেন দাবি করে তিনি লিখেন, ‘মা, মিনা মিলন আপু ফাহিম ভাই সবাই আমারে মাফ করে দিস। এটাই আমার শেষ স্ট্যাটাস হতে পারে।’ পোস্টে তিনি ৩টি ধোয়াচ্ছন্ন ছবিও প্রকাশ করেছিলেন।

বৃহস্পতিবার পৌনে বেলা ১টার দিকে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের ৩২ নম্বর হোল্ডিংয়ে ওই ভবনে আগুন লাগার পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা এরশাদ হোসাইন বলেন, তাদের ২১টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে। দুটি হেলিকপ্টার দিয়েও আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে।

মো. গিয়াস উদ্দিন নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই ভবনের পঞ্চম তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার পর তা উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ওই ভবন থেকে অন্তত সাত জন লাফিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের গাড়িতে তুলে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।


১২ তলায় আটকে পড়া ভয়ার্ত একজন তার এক স্বজনকে মোবাইল ফোনে এমনভাবে তার জীবনহানির আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, ‘ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে আসছে। উপরে উঠতে পারছি না। আমরা ১৫ জন আটকা পড়েছি। বাঁচব কিনা জানি না, দোয়া করো।’

আগুন লাগার পরপরই ফাহাদ ইবনে কবীর নামে এক যুবক ফোন দেন মা ফরিদা ইয়াসমিনের কাছে। ফোন করে মাকে জানান, ভেতরে আগুনের ধোঁয়ায় তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। তিনি দম নিতে পারছেন না।

ছেলের সঙ্গে কথা বলার পরপরই মা ফরিদা ইয়াসমিন ছেলের সন্ধানে চলে আসেন এফ আর টাওয়ারের নিচে। সেখানে ছেলের সন্ধানে তিনি আর্তনাদ শুরু করেন। ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘ছেলের সঙ্গে এক ঘণ্টা আগে আমার কথা হয়েছে। এখন মোবাইল নম্বর বন্ধ পাচ্ছি।’ তার ছেলে ১২ তলায় ডাট গ্রুপে কাজ করেন। তিনি সেখানকার আইটি ইঞ্জিনিয়ার। ফাহাদের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের ভবানীপুরে। দুই ভাইয়ের মধ্যে ফাহাদ ছোট।

এডুকেশন বাংলা/একে