শনিবার ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:০৬ এএম


'হৈ হৈ রই রই-শিক্ষক নেতারা সব গেল কই'

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার

প্রকাশিত: ১৮:০৪, ৫ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১১:১২, ৬ জুলাই ২০১৯

রাজপথে এবং অলিতে গলিতে "হৈ হৈ রই রই- অমুকে গেল কই?" শ্লোগানটি যখন শুনতাম, খুব বিরক্তি প্রকাশ করতাম। ভাবতাম এটা অাবার শ্লোগান হয় নাকি? অাজ শিক্ষকতা জীবনের পঁচিশ বছর পর এ শ্লোগানটিই শিরোনামে ব্যবহার করলাম। এজন্য শিক্ষক বন্ধুদের নিকট দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমাপ্রার্থীও বটে।

১৭২৫ টাকায় শিক্ষকতা জীবন শুরু। অনেক কষ্টে জীবনের চাকা সচল রেখেছি। নির্ভর করেছি প্রাইভেট টিউশনীর উপর। এখন এটার উপরও সরকারি অাইনের খড়গ! যদিও প্রধান শিক্ষক হিসেবে সুযোগও নেই। অনুদান যা পাই তা দিয়েই সংসার চালাই। অবশ্য প্রাতিষ্ঠান থেকেও কিছু পাই। জানি অনেকে চুরির অপবাদ দিবেন। এটা সবার ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। বাড়ি ভাড়া ১০০০ টাকা অথচ গ্যাস বিল ৯৭৫ টাকা। বিদ্যুৎ ও পানি তো লাগেই না! বাড়ি হবে নিশ্চয়ই গাছতলায়। ঈদ বোনাস ২৫%। কিন্তু একপায়া গরু কই পাই? চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা। এক্ষেত্রে অবশ্য মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত অাছে। অামার কোন ওষুধ লাগে না। সন্তানের শিক্ষা ভাতা? শিক্ষকের সন্তান অাপনা অাপনি মানুষ হবে! বিনোদন ভাতা? কি যে বলেন, শিক্ষক অাবার বিনোদন করে নাকি?

ধান ভানতে গিয়ে শিবের গীত গাইলাম। এবার অাসল কথায় অাসা যাক। দারিদ্রতা অামাদের ভূষণ। কিন্তু মর্যাদা? তাও তো এখন তলানীতে। অামি জাতীয় বেতন স্কেলের ৭ম গ্রেডের অন্তর্ভূক্ত। অথচ অামার উপর খবরদারি করে কয়েক গ্রেড নিচের সরকারি কর্মকর্তারা। কারণ অামার রাইফেল অাছে গুলি নাই।
অাশায় বুক বেঁধেছিলাম। সরকার হয়তো ২০০০ সালের মধ্যে জাতীয়করণ করবে। এতে শ্যাম কুল দুইই রক্ষা হবে। কিন্তু সে অাশা মনে হয় গুড়েবালি। অার হবেই না বা কেন? শিশু না কাঁদলে মাই তো দুধ দেয় না। অথচ অর্ধশত শিক্ষক সংগঠন থাকলেও নেতারা সব নিখোঁজ। কোন অাওয়াজ নেই! ভেবেছিলাম ঈদুল ফিতরের পর মাঠ গরম হবে। কিন্তু কারো হদিস নেই। নেতারা সব ঘুমোচ্ছে, অামার মতো কুলোর বলদেরা ফেসবুকে চেচাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে কর্তৃপক্ষ খোশমেজাজে অাছে। অনেক অাগে বেনবেইসে একবার এনঅাই খান স্যারের সাথে এ বিষয়ে একান্তে কথা হয়েছিল। তিনি অাক্ষেপ করে বলেছিলেন, অামি অান্তরিক। তবে কুম্ভকর্ণ নেতাদের দিয়ে কিছুই হবে না। তাঁর এ বক্তব্যই অাজ সত্য হলো।
কমবেশি অামরার সকলেই অবগত "সময়ের এক ফোঁড় অসময়ে দশ ফোঁড়।" অামি ধন্যবাদ না দিয়ে পারছি না নজরুল ইসলাম রনি কে। তিনি জানান দিয়েছেন, তিনি নিখোঁজ নন। তাঁকে ১২ জুলাই প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে পাওয়া যাবে। পরিশেষে অামার এলাকার একটি প্রচলিত কথা দিয়ে এ কিঞ্চিৎ অাখ্যায়িকার ইতি টানছি।
"এক লোককে তার নববিবাহিতা স্ত্রী বলছে তুমি এমন কর্কশ ব্যবহার করছ কেন? জবাবে স্বামী বলল, চৈত মাইয়া দিন বিয়া করছি এটাই তো বাপের উপকার করছি!"
লেখকের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া
লেখক: প্রধান শিক্ষক
পীর কাশিমপুর অার এন উচ্চ বিদ্যালয়
মুরাদনগর, কুমিল্লা।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর