শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:৪২ এএম


'শিক্ষার গুণগত মান কিন্তু ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে'

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:২৭, ৭ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ০৮:৪৮, ৭ আগস্ট ২০১৯

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির বিষয়টিকে শুধুমাত্র সাময়িকভাবে দেখলে চলবে না। এইক্ষেত্রে জাতীয় কৌশলপত্র প্রণয়ন করতে হবে।

গতকাল সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে টিআইবি এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। তিনি বলেন, যে কৌশলের মধ্যে স্বল্প, মধ্যম, দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনা থাকবে এবং পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট সময় আবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে।

যার মাধ্যমে আমরা সত্যিকার অর্থে আমাদের বর্তমান তরুণদের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মকে প্রয়োজনীয় যোগ্যতার সঙ্গে, সামর্থ্যের সঙ্গে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করার জায়গায় যেতে পারি। এবং সেটি এই কারণে আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পার করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অভীষ্টে পৌঁছে যেতে চাচ্ছি।

সেই অভীষ্টের অন্যতম জায়গাটি হচ্ছে অন্যান্য অংশীজনের পাশাপাশি তরুণদেরকে সম্পৃক্ত করতে হবে। ২০৩০ এর মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে তরুণদের ভূমিকার কথা টেনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০৩০ এর সাফল্য যেমন তরুণদের উপর নির্ভর করে এর ব্যর্থতার দায়ও কিন্তু তরুণদের উপর পৌঁছাবে।

কাজেই যদি আমরা সাফল্য সত্যিকার অর্থে অর্জন করতে চাই টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টে সেইখানে যেমন অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, সেই অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে টেকসই উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে সম্পৃক্ত করতে হবে। সেই সুযোগটা তৈরি করে দিতে হবে।

কোনো করুণা নয়, তাদেরকে অংশগ্রহণ করার মতো পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। তিনি সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনে তরুণদের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেন, তরুণরা দেখিয়েছে যে, আসলে তারা যখন হতে নিজেদের উপর দায়িত্ব তুলে নেয়, তুলে নেয়ার মতো পরিবেশ পায় তখন কিন্তু তারা অনেক অর্জন করতে পারে। সেই জায়গাটাতে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব। আইনি কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ যেটি সৃষ্টি করা হচ্ছে, যেটি বাকস্বাধীনতাকে রুদ্ধ করে, মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোকে রুদ্ধ করে, সেগুলো সংস্কার করতে হবে। যাতে করে তরুণরা তাদের অভিমত প্রকাশের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে তারা কি চায় সেগুলো প্রকাশ করতে পারে এবং সেগুলোর যাতে যথাযথ মর্যাদা দেয়া হয় সেই পরিবেশটা সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা অবশ্যই স্বীকার করতে চাই, বাংলাদেশে সামপ্রতিককালে বিশেষ করে যখন এমডিজি ছিল সেই প্রেক্ষিতে অন্যান্য খাতের মতো আমাদের শিক্ষাখাতে সংখ্যাভিত্তিক ভালো অর্জন অনেক হয়েছে এবং সেটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে। আমরা শিক্ষার হার বৃদ্ধি করতে পেরেছি, শিক্ষায় অভিজ্ঞতার হার বৃদ্ধি করতে পেরেছি সেটি আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়। কিন্তু আমরা পাশাপাশি যেটা দেখছি যে, যারা এই খাতে বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণভাবে যারা এই বিষয় নিয়ে কাজ করে তাদের মধ্যে একটা বদ্ধমূল ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যাতে আমাদের শিক্ষার আমাদের গুণগত মান কিন্তু ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে সেটি সম্পর্কে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। এবং এই প্রেক্ষিতে এই বিষয়টি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ এইজন্য যে, আমরা যে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার কথা বলছি, যে আধুনিক ডিজিটাল বিশ্বের কথা বলছি, ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলছি তার সঙ্গে যদি সামঞ্জস্য রেখে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হয় তাহলে গুণগত মান বৃদ্ধি করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর