মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ৭:৫৪ এএম


'শিক্ষার্থীরা রিডিং পড়তে পারেনা' সচিবের পোস্টের একটি ব্যাখ্যা

জাকির হোসেন

প্রকাশিত: ১১:৩৮, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব মহোদয়ের ফেইসবুকে প্রকাশিত একটি পোস্ট থেকে জানি যে, মাননীয় সচিব মহোদয় আক্ষেপ করে বলেছেন যে, শিক্ষার্থীরা রিডিং পড়তে পারবে না,সাধারণ যোগ-বিয়োগ পারবে না, এ লজ্জা কার? তিনি দেখেছেন তাঁর শিক্ষক বেতন নিয়ে ভাবতেন না। বর্তমানে শিক্ষকেরা তাঁর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রিডিং পড়তে পারেনা এ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই মাথা ব্যথা গ্রেড পরিবর্তন নিয়ে।

আমার শ্রদ্ধেয় সচিব মহোদয়,
আমাকে ক্ষমা করবেন স্যার। স্যার, মাঠ পর্যায়ের কিছু বাস্তব চিত্র তুলতে গিয়ে কাকতালীয় ভাবে শিক্ষক থেকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা মহোদয় সমালোচনায় পড়তে পারেন,যা সরকারী চাকুরী বিধিতে অপরাধের শামিল। তবুও জাতিকে প্রতারণা থেকে মুক্তি পেতে আমার এই তথ্য গুলো তুলে ধরা।
আমি আশা করছি ভুল কিছু হলে আপনি আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

স্যার,
আমার ১৯ বছর চাকুরী চলমান সময়ে ১ বছরের সি-ইন-এড শেষে ডেপুটেশনে শিক্ষাকতা করেছি। তারপর ১২ বছর একটি বিদ্যালয়ে, তিন বছর পরের বিদ্যালয়ে এবং বর্তমান বিদ্যালয়ে তিন বছর প্লাস চলছে।

আমি তিনটি বিদ্যালয়ে আন্তরিকতার সহিত চাকুরী করে গ্রাম পর্যায়ের অবহেলিত তিনটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের সম্বলিত প্রচেষ্টায় উপজেলার শীর্ষ রেজাল্টের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছি।যা আপনাকে সরেজমিনে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার মহীতুড় বিদ্যালয়ে (২০০৪-২০১২) পর্যন্ত ,ভানুরকান্দা (২০১৩-২০১৫) পর্যন্ত এবং দক্ষিণ কানুপুর বর্তমানে কর্মরত (২০১৬-২০১৯) থেকে তথ্য নিয়ে সত্যতা যাচাই করতে অনুরোধ করছি। সুতরাং একটি বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক আন্তরিকতা নিয়ে ক্লাস করলে একটি শিক্ষার্থীও প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য মাত্রা থেকে বঞ্চিত হবে না, এটাই ১০০% সত্য।

তাই বলে বিদ্যালয়ে শতকরা কিছু অংশ যে রিডিং পড়তে না পারা থাকবে না, তা নয়।
আর যারা থাকছে তা যে শুধু শিক্ষকের আন্তরিকতার অভাবে তাও নয়।

কিছু শিক্ষার্থী আছে যারা বিদ্যালয়ে আসেই না। মাঝে মাঝে আসে আর পরীক্ষার সময় পরীক্ষা দেয়।
সেক্ষেত্রে ভীত প্রধান শিক্ষক মহোদয় জবাবদিহিতার ভয়ে, উপস্থিতির হার বেশি দেখাতে,পাশের হার বাড়াতে বা স্কুল থেকে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে তাড়াতে সাদা পাতা রেখে জমা দেওয়া উত্তর পত্রে ভূয়া নম্বর বসিয়ে পাশ করে দেন। দিবেনই না কেন? সব দায় যেন শিক্ষকের। উপস্থিত করার দায়িত্ব শিক্ষকের,ঝরে পড়তে না দেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষকের, নিরাময় দিয়ে যোগ্যতা অর্জনের দায়িত্ব শিক্ষকের। অনুপস্থিতির দায়ে বা উপবৃত্তি কাটা গেলে সমাজের লোকের ভয়ে ভূয়া উপস্থিতি দেখিয়ে উপবৃত্তি দেওয়ার দায়িত্বও শিক্ষকের।শাসন করতে বেত তো দূরের কথা ধমকও দেওয়া যাবেনা, সব মিলে একমুখী শাসন চলে শিক্ষকের উপরে। কিন্তু পরিকল্পনা ও পরিপত্র যত তাড়াতাড়ি চালানো যায় বাস্তবে তা ঘটানো অত তাড়াতাড়ি সম্ভব হয় না স্যার। তার দায়ও শিক্ষকের উপরে।

পড়তে না পারার দোষটা শিক্ষকের ঘারে চেপে বসলেও , যে সকল শিক্ষার্থী সুনামের সাথে পড়ালেখা করছে তাদের সুনামের ভাগিদার কে?
কিছু জনের উক্তি শুনে মনে হয় উনারা অ,আ, ক,খ প্রাথমিক শিক্ষকের কাছে না শিখে বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে ডাক্তার প্রকৌশলী, ডিসি, এস পি, সচিব, মন্ত্রী হয়েছেন।আবার এমনও ডিসি জয়পুরহাট থেকে গিয়েছেন যিনি শিক্ষকদের হারামজাদা বলে গালিও দিয়েছেন। আবার শত প্রশিক্ষণার্থীের মাঝে মাস্টার্স পাশ করা শিক্ষকেরা মাস্টার্স পাশ বানান করতে পারবে না বলে ভৎসনাও করেছেন জৈনক উপসচিব মহোদয়। ধিকৃত হয়ে চোখের পানি মুছে তবুও চেয়ে থাকতে হয়েছে এই জন্য যে, কিছু বলা যাবেনা, বললে বা প্রতিবাদ করলে চাকরীটাও যেতে পারে। আর চাকুরী গেলে সন্তানদের না খেয়ে থাকতে হবে।
কারণ ব্যাংকে তো ঘুষের টাকা মজুত নেই।

তবে, শিক্ষককেরা কেন যে আন্তরিক হচ্ছে না বা হতে চেয়েও হতে পারছে না তা আমার দৃষ্টিতে যা আমি মনে করি।
জীবনের লক্ষ্য ছিল আইনজীবী হবো,হয়ে গেলাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। যে শিক্ষককে শুনতে হয়, প্রাইমারীর মাস্টারের মন ছোট, এরা ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের সাথে চেচামেচি করতে করতে মাথা ঠিক নাই পাগল প্রায়,প্রাইমারীর মাস্টারের চাকুরী ১০ বছর হলে কোর্টে সাক্ষী নেওয়া হয়না।কারণ ওরা পাগল হয়ে গেছে। ভালো একটা ঘরে বিয়ের সম্বন্ধ করতে গিয়ে প্রাইমারী মাস্টার হওয়ার অপরাধে কনে পক্ষ বিয়েতে রাজি হয়না।

আমি নিজ কানে শুনেছি স্যার,
UNO অফিসের এক পিয়ন প্রাইমারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের দরখাস্ত করায় তাঁর সিনিয়র পিয়ন বলেছে ছি ছি তোর রুচি এত্ত নীচে নেমে গেছে? তুই এমন চাকুরী ছেড়ে প্রাইমারী মাস্টার হতে যাচ্ছিস! আমার জানা মতে ঐ পিয়ন আর পরীক্ষাও দেয়নি।

ব্যাংকে বেতন উঠাতে গিয়ে যদি কোন স্যার চেক লিখতে গিয়ে ভুল করে ভুল হয়,তখন ব্যাংক কর্মকর্তা জিজ্ঞেস করে আপনি কি করেন?
সাদা মনের মানুষ আমার স্যার একটু হেঁসে শিরটা উঁচু করে বলেন, আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক! তৎক্ষনাৎ সেই জুনিয়র ব্যাংকার নাকটা বোচা করে বলেন,তাই বলি, মাথাটা গেছে আপনার! প্রাইমারী মাস্টার তো!এই জন্যই ভুল হয়েছে।
নিমিষেই বাদশাহ আলমগীরের দেওয়া উচ্চ শিরের মর্যাদা পাওয়া শিক্ষক, আব্রাহাম লিংকনের দেওয়া যুগান্তকারী মর্যাদা পাওয়ার শিক্ষক , আর রাজনৈতিক মঞ্চে, মতবিনিময়, মা সমাবেশ, অভিভাবক সমাবেশ ইত্যাদি মঞ্চে শোনা মহান পেশার মুরব্বি শিক্ষক মাথা নীচু করে দুচোখ বেয়ে অশ্রুঝরা নোনা ফোটা পুরানো ছেঁড়া পাঞ্জাবি বা শার্টের আঁচল দিয়ে মুছে দক্ষ অভিনেতা হয়ে হেঁসে বলে, ভুল হয়েছে বাবা!

কত টাকা বেতন পান একজন শিক্ষক, যিনি সংসারের ব্যয় শেষে একটা সুন্দর জামা বা জুতা কিনবে?
দরিদ্র জৈনক শিক্ষক টাকার অভাবে ভালো জুতা পায়ের তলাতে না পরাতে জনৈক aueo অপমান করতে ছাড়েননি। তবুও শিক্ষক সমাজ অভাবকে পুঁজি রেখে, ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে, মৃদু হাসি মুখে রেখে সমাজে উচু মনের মানুষ হয়ে চলে,চলতে থাকে।তারপরও শুনতে হয় মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিক্ষককে বেশিই দেওয়া হয়েছে!

স্যার,
আমাদের দেশে,আমাদের সমাজে এই হলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা !
আমরা স্কেল বা গ্রেড নিয়ে স্বপ্ন দেখিনি,স্বপ্ন দেখিয়েছে সেই টিভি-র ব্রেকিং নিউজ,যেখানে লিখা ছিল সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নতি করা হবে। কিন্তু আমার নির্লোভী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা মহোদয়েরা প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় আর সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপ চেয়ে স্মারকলিপি দিলেন সরকার মহোদয়কে।
এমন সুযোগের হাতছাড়া করেনি BNP সরকার। একটি স্কেলের তফাৎ ঘটিয়ে যাত্রা শুরু করল বৈষ্যমের। আর সেই রাস্তা বেয়ে বর্তমান সরকারে আরো দুটি গ্রেড যোগ করে তিনটি গ্রেডের তফাৎ রেখে প্রধান শিক্ষককে দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদার ঘোষণা দিল।

সহকারী শিক্ষকেরা বৈষম্য তৎক্ষনাৎ পেলেও প্রধান শিক্ষকেরা আজও পায়নি দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা।
আমরা তো ভালোই ছিলাম।কেন আমাদের স্বপ্ন দেখাল জ্ঞানপাপী সেই শিক্ষাবিদরা।তাঁরা পত্রিকায় লিখেছে,টকশোতে বলেছে শিক্ষকদের স্কেল বদলাতে হবে,তাদের বেতন বাড়াতে হবে,তাঁরা মানুষ গড়ার কারিগর, তাদের সম্মান দিতে হবে। আজ নার্সেরা সম্মান পেয়েছে আন্দোলন করতে হয়নি,কৃষি ব্লকসুপারেরা গ্রেড পেয়েছে আন্দোলন করতে হয়নি,প্রশাসনিক কর্মচারীরা গ্রেড পেয়েছে আন্দোলন করতে হয়নি। অফিসের করণিক ১০ম গ্রেডের সুপারিশ পাচ্ছে আন্দোলন ছাড়া কিন্তু শিক্ষকদের কেন রাস্তায় নামতে হচ্ছে।

সাবেক মন্ত্রী মহোদয় বললেন যৌক্তিক দাবী হলে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ করব অল্প সময়ে, নির্বাচনী ইশতেহারে সরকার লিখলেন বেতন বৈষম্য নিরসন করবেন। কি পেলোম। বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে করতে হচ্ছে। বড় বড় রাঘব বোয়ালের ছায়া মারতে না পেরে লাগলেন দুদক শিক্ষকের সময়ের পিছে,উপর থেকে না এসে শুরু করছেন নীচ থেকে বায়োমেট্রিক দিয়ে। আমার শিক্ষকেরা সময় মতো পৌছাতে মোটেও ভয় পাচ্ছে না। শুধু তাঁরা বুঝাতে চেয়েছে উপর ওয়ালার অনিয়মের স্বীকার কেন হবো আমরা।

মাননীয় সচিব মহোদয়,
শিক্ষকের কথা বলার সুযোগ নেই কোথাও,শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয়েরা তাদেরই উপরের কর্মকর্তাদের কাছে জি স্যার বলা ছাড়া আর কোন সুযোগ নাই। তাহলে কে শুনবে সমস্যার কথা।

বর্তমানে প্রাথমিক বইয়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই, ফলে শিক্ষার্থীরা গাইড নির্ভর হয়ে পড়ছে। গাইড নির্মাতা প্রকাশনা ঠিকই গাইড বের কর ব্যবসা করলেও শিক্ষক ছুঁতে গেলেই শোকজের ভয়।শিখনের পর্যাপ্ত তথ্য সহজেই সহ শিক্ষাক্রমিক বইয়ে পেলে দোষ কেন হবে।কেন যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা শিক্ষার্থীকে নমনীয় পাশ দিয়ে উপর শ্রেণীতে প্রমোশন দিতে হবে।একজন শিক্ষার্থী তার কাঙ্খিত শিক্ষা নিতে স্কুল পিরিয়ডের বাহিরে শিক্ষা দিলে দোষের কেন হবে। শিক্ষক যদি স্কুল পিরিয়ডের সময় বাহিরে এসে কোচিং বা প্রাইভেটে মত্ত থাকে তাহলে কেন তদরককারী কর্মকর্তাকে দায়ী না করে শিক্ষকদের আইন করে দমিয়ে রাখা করা হচ্ছে।

লিখিত বা মৌখিক ভাবে পরীক্ষককে কেন বলা হচ্ছে একটাও যেন ফেল না থাকে। প্রয়োজনে লিখে দিয়ে পাশ করাতে হবে। যেহেতু পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন পাওয়া যাবে সেহেতু শিক্ষার্থীরা কেন শিক্ষকের কাছে শিখতে শরণাপন্ন হবে? পরীক্ষা থাকবে ফেলও থাকবে।তাহলে কৌশল অবলম্বন করে পাশের হার বাড়াতে কেন শিক্ষককে চাপ দিতে হবে। শতভাগ পাশ হতে হবে।শ্রেণী কক্ষে বা শ্রেণী কক্ষের বাহিরে শিক্ষক যদি অনিচ্ছায় কিছু ভুল করে থাকে তাহলে তাকে সংশোধিত না করে শাস্তির পাল্লায় তুলে টাকা বিনিময়ে সেই ভুলকে বৈধ করে।টাকা ছাড়া শিক্ষকের বদলী হয়না,পেনশন তুলতে গিয়ে বৃদ্ধ শিক্ষকের চোখের পানি নিয়মিত পড়ায় চোখের কোণে ঘাঁ হয়ে থাকে। বর্তমানে একটা শিক্ষকের ১৬ হাজার টাকায় সংসার চালাতে না পেরে বাড়তি উপার্জনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একটা কলেজ বা হাইস্কুলের শিক্ষককে সপ্তাহে ক্লাস ভাগ হয় আর দিনে তিনটির বেশি ক্লাস নিতে হয় না,কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ৬টা থেকে ৭ টা একটানা ক্লাস করতে যেয়ে হিমশিম খেয়ে পড়ে। প্রতিটা বিদ্যালয়ে শিক্ষক ঘাটতি তো রয়েই গেছে। এত কিছুর পরও বলবেন স্যার,সবই শিক্ষকেরই দোষ!
আমার বন্ধু কোনবারই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় টিকতে না পেরে টাকার বিনিময়ে কলেজে
৭ম গ্রেডে বেতন তুলছে। একই যোগ্যতা নিয়ে অন্য ডিপার্টমেন্টে গ্রেডে এগিয়ে থাকলে শিক্ষদের দিতে এত বাঁধা কেন?
অতএব মহোদয়, যৌক্তিক সমস্যা খুঁজে সুষ্ঠ সমাধান নিলে শিক্ষায় এগিয়ে যাবে দেশ তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

সবশেষে আপনার কাছে মিনতি করছি যে, গ্রেড দিয়ে আর্থিক সমস্যা থেকে আমরা রেহাই না পেলেও সামাজিক ভাবে যেন মাথা উঁচু করে বলতে পারি আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। আমরাই সকল শিক্ষকের, সকল শ্রেণীর মানুষ গড়ার কারিগর।

সহকারি শিক্ষক

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর