শনিবার ২৪ আগস্ট, ২০১৯ ১৯:৫৭ পিএম


'শিক্ষকরা সৃজনশীল পদ্ধতিতে এখনও অভ্যস্ত হয়ে ওঠেননি'

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৫৬, ৭ মে ২০১৯  

সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ভগ্নাংশের হিসেবে এবার একটু বেড়েছে। কিন্তু জিপিএ ৫প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। অবশ্য চলতি বছরের ফল প্রকাশের পর সার্বিকভাবে `সন্তুষ্টি`র কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। যদিও দেশের সবক`টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সিলেটে এবার পাসের হার সবচেয়ে কম।

উদ্বেগজনক তথ্য হলো, দেশসেরা রাজশাহী ও সিলেট বোর্ডের পাসের হারের ব্যবধান ২০ দশমিক ৮১ শতাংশ। সারাদেশের গড় পাসের হারের চেয়েও সিলেটে পাসের হার ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ কম।

গতকাল সোমবার প্রকাশিত এসএসসির ফল অনুযায়ী, সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গত বছর এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৪২ শতাংশ। এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে মোট দুই হাজার ৭৫৭ জন, যা আগের বছর ছিল তিন হাজার ১৯১ জন। গতকাল সকালে শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কবির আহমদ। তিনি জানান, সিলেট বোর্ডের অধীনে এবার এক লাখ ১৩ হাজার ১৭১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৮০ হাজার ১৬২ জন।

সিলেটে এ বিপর্যয়কর ফলের জন্য সাধারণ গণিতে `কঠিন প্রশ্নের` কথা বলছেন সংশ্নিষ্টরা। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কবির আহমদও বলছেন, লটারির মাধ্যমে পাওয়া গণিতের প্রশ্নপত্র `কঠিন` ছিল। তিনি জানান, এ বোর্ডে ৩৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে। তাদের মধ্যে শুধু গণিতে ফেল করেছে ২৬ হাজার ২৩৩ জন। সমকালকে তিনি বলেন, অন্য বোর্ডের তুলনায় সিলেটে গণিতের প্রশ্ন কঠিন ছিল। গণিতে একটু ভুল হলেই পূর্ণ মার্ক কাটা যায়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ফলে।

তবে সিলেট বোর্ডের বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ফল আলাদাভাবে বিশ্নেষণ করে ব্যর্থতার এ কারণকে গ্রহণযোগ্য মনে করছে না সচেতন মহল। কারণ এই বোর্ডে পাসের হার বিজ্ঞান বিভাগে ৯৪ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৭৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে সাধারণ গণিতের ব্যর্থতা কোনো শক্তিশালী কারণ নয়। আসলে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতায় পুরো বোর্ডের গড় পাসের হার অনেক কমে গেছে। সিলেট বোর্ডে এবার মানবিক বিভাগে পাসের হার মাত্র ৬৩ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ।

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কবির আহমদ পরিসংখ্যান দিয়ে বলেছেন, সিলেট বোর্ডের মোট পরীক্ষার্থীর ৮০ ভাগই মানবিকের শিক্ষার্থী। তাই এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা খারাপ করলে সার্বিক ফলে এর প্রভাব পড়ে। এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৯ হাজার ২১৫ জন ছিল মানবিক বিভাগের। পাস করেছে ৪৯ হাজার ৯৪৩ জন। অন্যদিকে বিজ্ঞান বিভাগের ২৩ হাজার ৫৬৭ জনের মধ্যে পাস করেছে ২২ হাজার ১৯৩ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ১০ হাজার ৩৮৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে আট হাজার ২৬ জন।

এই বোর্ডে মোট জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের মধ্যে মানবিকে মাত্র ২০ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষার ৩৪ শিক্ষার্থী রয়েছে। এ অঞ্চলের শিক্ষকরা সৃজনশীল পদ্ধতিতে এখনও অভ্যস্ত হয়ে ওঠেননি বলে মনে করেন অভিভাবকরাও। গতকাল ফল ঘোষণার পর একাধিক অভিভাবকও সমকালকে বলেন, অধিকাংশ শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতিতে দক্ষ নন। স্কুল থেকে শিক্ষকরা তাদের সন্তানদের গাইড বই কিনতে উৎসাহিত করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ মিহির কান্তি চৌধুরী বলেন, গণিতের জন্য খারাপ ফল হওয়ায় কথা পুরোপুরি মেনে নেওয়া যায় না। তিনি মনে করেন, সৃজনশীল পদ্ধতির জন্যই শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে না। তিনি বলেন, সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার জন্য সবার আগে শিক্ষকদেরই এতে অভ্যস্ত হতে হবে। কিন্তু পরীক্ষার ফল বলছে, শিক্ষকরা এখনও এ পদ্ধতিতে দক্ষতা অর্জন করেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মৌলভীবাজার জেলার বেসরকারি একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  বলেন, সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশিক্ষণের জন্য নাম দিলে শিক্ষকরা তাতে অংশ নিতে চান না। বিশেষ করে ঢাকায় গিয়ে যেসব প্রশিক্ষণ নিতে হয়, তাতে কেউই যেতে চান না। প্রশিক্ষণের অভাবে শিক্ষকরা এ পদ্ধতিতে শিক্ষা দিতে পারছেন না।

সিলেট বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কবির হোসেন বলেন, জাতীয়ভাবে তিন-চারটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সৃজনশীল পদ্ধতিতে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তারপরও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় সিলেটে আলাদাভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর