বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট, ২০১৯ ০:৪৪ এএম


'রায়ের আলোকেই ১৬৬ টি রিট মামলার সকল বাদীর নিয়োগ হবে'

মো. হান্নান

প্রকাশিত: ১২:১৮, ৮ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১২:২২, ৮ জুলাই ২০১৮

এনটিআরসিএ এর বিরুদ্ধে দায়ের করা (১-১২)তম নিবন্ধনধারীদের ১৬৬ টি রিট মামলার গত ১৪/১২/২০১৭ ইং তারিখের রায় যারা বুঝতে অক্ষম হয়েছে,তারাই কেবল নিয়োগ বিষয়ে হতাশ হচ্ছে।

এই রায়ের আলোকেই ১৬৬ টি রিট মামলার সকল বাদীর নিয়োগ হবে। এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই।

পারস্পরিক হিংসা,বিদ্বেষ থেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে সমালোচনা করছে এবং হিংসা ছড়ানোর মাধ্যমে অন্যদেরকেও হতাশ করছে।

আসলে যারা ফেইসবুকে হতাশামূলক খবর ছড়াচ্ছে তারা কিছুই জানে না বা প্রকৃত সত্য জানলেও তা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপণ করছে।

বিষয়টি হচ্ছে এমন যে, নিজ নিজ রিটের সদস্যদেরকে মোবাইল ফোন এসএমএস এর মাধ্যমে তথ্য দিচ্ছে এক রকম আর অন্যদেরকে ফেইসবুকের মাধ্যমে শুনাচ্ছে অন্য রকম।

এখানে বিষয়টি হচ্ছে একজন অন্যজনের নিয়ন্ত্রিত রিটের সদস্যদেরকে সঠিক তথ্য জানাবে না।
কারণ এতে তার কোন লাভ নেই উপরন্তু যাদেরকে তথ্য দিবে তারা বিষয়টিকে অবিশ্বাস করে আরো বেশি বিরক্ত করে।

গত ১৪/১২/২০১৭ ইং তারিখে রিটের বাদীদের মধ্যে একটি ভুল তথ্য মাইন্ডসেট হয়ে গেছে। এখন তাদেরকে যতই সঠিক তথ্যই জানানো হয় না কেন, তা তারা বুঝতে চাইবে না। এটাকে তারা ভাববে অন্য কোন উদ্দেশ্যে তাদেরকে অসত্য তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।

কিন্তু তারা এটা বুঝতেছে না যে, অন্যদের নিয়ন্ত্রিত রিটের সদস্যদেরকে সত্য-অসত্য কোন প্রকার তথ্য সরবরাহ করার মধ্যে ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। কারণ এমন তথ্য প্রদানে তাদের কোন আর্থিক বা অনার্থিক লাভ নেই।

তাই সঠিক ও নির্ভুল তথ্য শুধুমাত্র আপনার রিট পরিচালক ও নেতার কাছ থেকেই পাবেন। অন্য কারোর কাছ থেকে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়ার আশা করা বোকামী ছাড়া আর কিছুই না।

যেখানে রায়ে বলা হয়েছে রিট পিটিশনারদের নাম এবং অন্যান্য সম্ভাব্য আবেদনকারীগণ নিয়োগের উদ্দেশ্য তৈরি করা সম্মিলিত জাতীয় মেধাতালিকায় থাকবে এবং এই মেধাতালিকা হতেই বিষয়ভিত্তিক শুণ্যপদ থাকা সাপেক্ষে মেধাক্রমানুসারে প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য এনটিআরসিএ প্রস্তাব/সুপারিশ করবে এবং প্রস্তাব/সুপারিশ করার ৬০ দিনের মধ্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি প্রার্থীকে নিয়োগ দিবে।

রায়ের আরো বলা হয়েছে রায়ের কপি বিবাদীগণ গ্রহণ করার ৯০ দিনের মধ্যে নিয়োগের উদ্দেশ্যে একটি সম্মিলিত জাতীয় মেধাতালিকা তৈরি করে তা এনটিআরসিএ ওয়েব সাইটে প্রকাশ করবে যাতে প্রার্থী মেধাতালিকায় তার অবস্থান দেখতে পায়।

মেধাতালিকা প্রকাশ করার কত দিনের মধ্যে এনটিআরসিএ প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রস্তাব/সুপারিশ করবে তা রায়ের কপিতে সুস্পষ্ট কোন নির্দেশনা নেই। কোন কোন প্রার্থীর নিয়োগের সুপারিশ মেধাতালিকা প্রকাশের পরের দিনেও করতে পারে আবার কোন কোন প্রার্থীর নিয়োগের জন্য সুপারিশ মেধাতালিকা প্রকাশের ১ বছর পরে এমনকি ৫ বছর পরেও করতে পারে।

তবে নিয়োগের সুপারিশ প্রাপ্ত হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি/ গভর্নিং বডি সুপারিশ প্রাপ্ত প্রার্থীকে নিয়োগ দিবে। অন্যথায় ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি বিলুপ্ত হবে।

এর মধ্যে অনেক প্রার্থীর বয়স ৩৫ বছরে বেশি হয়ে গেছে এবং যাদের বয়স এখন ৩৫ বছরের কম তাদের বয়সও একদিন ৩৫ বছর হয়ে যাবে। কারণ মেধাতালিকায় স্থান পেলেও যার বয়স এখন ৩৫ বছরের কম তার নিয়োগের সুপারিশ পেতে বিলম্ব হলে একদিন তার বয়সও ৩৫ বছরের বেশি হয়ে যাবে।

বেসররকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান(স্কুল ও কলেজ) এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এর ১১(৬) ধারায় আছে বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক - কর্মচারীদের চাকুরিতে প্রথম প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর।

উচ্চ আদালতের রায়ে আছে যাদের এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ইস্যু করবে এবং একই উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে সনদ ইস্যু করেছে নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সনদের মেয়াদ বলবৎ থাকবে।
অর্থাৎ সনদ অর্জন করতে পারলে নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সনদের মেয়াদ থাকবে।

রায়ের আরেক গাইডলাইনে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বলেছে নিয়োগের প্রবেশ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর বয়সসীমা নির্ধারণ কর উচিত। তাই সরকার বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ ১১(৬) ধারায় বয়স ৩৫ বছর নির্ধারণ করেছে যা ১৫ তম নিবন্ধন পরিক্ষা হতে কার্যকর হবে এবং তা ১৫ তম নিবন্ধন পরিক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকবে।

রায়ে বলা হয়েছে প্রতিবছর অন্তত একবার মেধাতালিকা আপডেট করতে হবে। আরেক নির্দেশনায় বলা হয়েছে রিট পিটিশনারদের নাম এবং অন্যান্য সম্ভাব্য আবেদনকারীদের সমন্বয়ে একটি সম্মিলিত জাতীয় মেধাতালিকা তৈরি করে বিষয়ভিত্তিক শুণ্যপদ থাকা সাপেক্ষে মেধাক্রমানুসারে নিয়োগের জন্য প্রার্থীকে এনটিআরসিএ সুপারিশ করবে।

এখানে সম্মিলিত জাতীয় মেধাতালিকাকে প্রতিবছর আপডেট দিতে নির্দেশ দিয়েছে। কারণ মেধাতালিকা হতে প্রতি বছর কিছু প্রার্থীর নিয়োগ হবে আবার নিবন্ধন পরিক্ষা দিয়ে কিছু প্রার্থী যুক্ত হবে।

যারা নিয়োগ পেয়ে যাবে তাদেরকে মেধাতালিকা হতে বাদ দিয়ে নতুন প্রার্থীদের মেধাতালিকায় যুক্ত করে আপডেট দিতে হবে।

রায়ে prospective applicants(সম্ভাব্য আবেবেদনকারী) বলতে ১৩ তম নিবন্ধনুধারী এবং তৎপরবর্তী নিবন্ধন পরিক্ষায় সম্ভাব্য উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরকে নির্দেশ করা হয়েছে। তাই প্রতিবছর অন্তত একবার মেধাতালিকা আপডেট করার নির্দেশনা দিয়েছে।

রায়ে সম্মিলিত জাতীয় মেধাতালিকা তৈরির কথা বলা আছে। এর অর্থ হল কোন উপজেলা, জেলা ও এমনকি বিভাগীয় কোটা থাকবে না। ১-১২ তম নিবন্ধনধারী রিট পিটিশনারদের নাম এবং অন্যান্য সম্ভাব্য আবেদনকারী(১৩ তম এবং এ সময়ের মধ্যে যদি ১৪ তম যুক্ত হওয়ার সম্ভব হয়) সমন্বয়ে সম্মিললিত যে মেধাতালিকা তৈরি করতে বলেছে সেটিই হল সম্মিললিত জাতীয় মেধাতালিকা।

লেখক: শিক্ষক নিবন্ধনধারী,লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর