শনিবার ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:১৩ এএম


'প্রধানমন্ত্রীকে না বুঝিয়ে জাতীয়করণ আদায় করা সম্ভব নয়'

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:০১, ২৮ জুন ২০১৯   আপডেট: ০৮:১২, ২৮ জুন ২০১৯

শিক্ষকদের বেতন থেকে অতিরিক্ত টাকা কর্তন এর আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার সহ আসন্ন ঈদুল আজহার পূর্বেই ২৫% এর পরিবর্তে সরকারী নিয়মে ঈদবোনাস এবং এমপিওভুক্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এক সাথে জাতীয়করণের দাবিতে আগামী ১২জুলাই সকাল -১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ সমন্বয় কমিটি ।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ সমন্বয় কমিটির মুখপাত্র মো. নজরুল ইসলাম রনির ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করা এক ঘোষণায় বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির জেলা ও উপজেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের সকল শিক্ষক কর্মচারীসহ সকলকে মানববন্ধনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রন জানানো হয়েছে।

মানববন্ধন কর্মসূচীতে শিক্ষক নেতা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ সমন্বয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দেলোয়ার হোসেন মিয়া এবং বাংলাদেশ সংবাদপত্র ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মো. সাঈদুল হোসেন সাহেদ উপস্থিত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিন বিকেলে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে মানব বন্ধন কর্মসূচী সফল করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মানববন্ধন কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ সমন্বয় কমিটির মুখপাত্র জনাব মো. নজরুল ইসলাম রনি এবং প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. মেজবাহুল ইসলাম প্রিন্স। সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি গাজী মামুন আল জাকির, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মোঃ আবুল হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম এবং মনসুর ইকবাল,প্রেসিডিয়াম সদস্য মো, আমির হোসেন সহ প্রমুখ।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ সমন্বয় কমিটির মুখপাত্র মো. নজরুল ইসলাম রনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন,` আপনারা জানেন শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য আকাশ ছোঁয়া। অথচ এ সব নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোঝানোর কেউ নেই। শিক্ষক নেতারা সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। কেউ শত শত কোটি টাকার মালিক।শিক্ষক সমাজের রক্ত চুষে অনেকেই কোটি টাকার মালিক।আবার অনেকে অবসরে চলে গেছে।কিন্তু তারপরেও আমরা অনেকেই না বুঝে ওদের পিছনে ঘুরি। এভাবেই দীর্ঘ দিন । অনেকেই প্রশ্নের ব্যবসা কিংবা জমা বা বইয়ের ব্যবসা করে থাকে। আসলে এরা জাতীয়করণ চায় না। জাতীয়করণ হলে শিক্ষক সমিতির বেলা শেষ। এক বছর টার্গেট নিয়ে কাজ করছি।আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।না পারলে বিরূপ মন্তব্য করে কাজ করার গতিকে বিনষ্ট করবেন না।

রনি বলেন, অনেক শিক্ষক বন্ধু না বুঝে মন্তব্য করেন। এক দফা এক দাবির কথা বলেন। শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে না বুঝিয়ে জাতীয়করণ আদায় করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে রাজপথে নামতে বলেন।সরকার যদি এ সময়ে ৩০০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেন,আবার জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে রাজপথে অবস্থান নেয়া জাতি এ মুহূর্তে ভালোভাবে নিবে? আন্দোলনের আবহ লাগবে। ২০ বছর ধরে শিক্ষকদের অধিকার নিয়ে রাজপথে আছি।আন্দোলন কি ভাবে করবো কিছু টা হলেও জানা আছে।মনে রাখবেন গড়তে সময় লাগে কিন্তু নষ্ট করতে বেশি সময় লাগে না।

তিনি আরো বলেন, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। জাতীয়করণের সুবাতাস বইছে। কিন্তু অতি উৎসাহী হলে সব কিছুই শেষ। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর