রবিবার ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ২০:৫৩ পিএম


'প্রকৌশলীদের শিক্ষা যাতে কোনভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়'

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৩২, ১৯ জুলাই ২০১৯  

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রকৌশলীদের বিশেষায়িত পদ এবং শিক্ষা যাতে কোনভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে মনে রাখতে হবে। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আপনাদের সুখ-দুঃখকে ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় গণপূর্ত অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে গণপূর্ত অধিদফতরের তিন দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের উদ্দেশে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘কোন কোন জেলায় আমাদের প্রকৌশলীরা বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রভাবে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিতে পড়েন। যতদিন আমি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আছি, আমাদের একজন কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক বা অন্য কোন ক্ষমতা দেখিয়ে প্রভাবান্বিত বা হয়রানি করতে চাইলে আমাকে জানাবেন, আমি আপনাদের পাশে দাঁড়াব। টেন্ডার এবং অন্যান্য কর্মকান্ডে কাজ শেষ না করে দ্রুত বিল দিতে হবে, জোরপূর্বক তার লোককে টেন্ডার দিতে বাধ্য করা হবে- এই প্রবণতা কোনভাবেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং আমি নিজে এটাকে কোনভাবে অনুমোদন করব না। আপনাদের ভীতসন্ত্রস্ত্র হওয়ার কোন কারণ নেই’।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘গণপূর্ত অধিদফতরের অধিকাংশ কর্মকর্তারাই সততা, স্বচ্ছতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এর ভেতরে কিছু ব্যত্যয়ও ঘটেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের ঘটনা আমাদের ইমেজকে ভীষণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমি সবখানেই বলি রূপপুর প্রকল্পের একটি ঘটনা দিয়ে গোটা অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। অনেক সময় কেউ কেউ অতি লোভী হয়ে গোটা ডিপার্টমেন্টের ভাবমূর্তি ধ্বংস করার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন’।

মন্ত্রী প্রকৌশলীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি অতীতে এমপি-মন্ত্রী ছিলাম না। কিন্তু আমার জীবনে আন্দোলন, সংগ্রাম ও লড়াইয়ের কারণে মার্শাল ল সরকারের আমলে জেল খাটতে হয়েছে। আমি কিন্তু কোনদিন মুচলেকা দিয়ে বের হইনি। এই শক্ত অবস্থানে থাকা আত্মবিশ্বাসী মানুষ আমি। টিম ওয়ার্কে আপনারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উইং। আপনাদের এটাকে ধারণ করতে হবে’।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘এ দেশটা ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া। এ দেশের জন্য অনেক মানুষ জীবন দিয়েছেন। বাঙালী জাতির অধিকার আদায়ের জন্য আমাদের জাতির জনক পাকিস্তানের সঙ্গে সমঝোতা করেননি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্তত ১৯ বার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন, কিন্তু একবারের জন্যও তিনি শঙ্কিত হয়ে আমাদের অধিকার প্রশ্নে ছাড় দেননি। কর্তব্য পালনে আমি চাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। অনিয়মের পরিসর থেকে সকলকে বেরিয়ে আসতে হবে। আপনারা মর্যাদাপূর্ণ পদ পান, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পান, বেতন-ভাতা পান। কোনভাবেই যেন চিহ্নিত না হন যে, অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সঙ্গে আপনারা সম্পৃক্ত। এক দুজনের জন্য কেন বদনামের বোঝা আমাদের কাঁধে আসবে। তাদের উদ্দেশে বলছি, আসুন আমরা আত্মশুদ্ধি করি, আত্মসমালোচনা করি। আমার ভুল-ত্রুটিকে শুধরে নেই। তাহলে এই ডিপার্টমেন্টের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হবে’।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর