সোমবার ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ৬:২১ এএম


'ধন্যবাদ, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়'

জাকির হোসেন

প্রকাশিত: ১০:৩৯, ১৩ জানুয়ারি ২০২০  

আমরা অত্যন্ত খুশি যে, অতঃপর আপনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাব বুঝতে পেরেছেন।
তবে আমরা আরো খুশি হতাম যদি আপনি ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লক্ষ শিক্ষকের মাঝে আপনার এই অভিযোগ তুলে ধরতেন।

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়,
আপনি ব্র্যাকের কার্যক্রমকে প্রশংসা করতে পারেন। তারা SSC ও HSC পাশের বেকারকে আন্তরিক শিক্ষক হিসেবে দাঁড় করাতে পারার প্রশংসা করতে পারেন কিন্তু "সরকারী মাল দরিয়া মে ডাল "
এমন কথা বলে যা বুঝাতে চেয়েছেন তা হয়তো আমাদের বোধগোম্য হয়নি। কিন্তু গোটা শিক্ষক পরিবার নিজেদের অপমানিত ভাবছেন।

লক্ষ লক্ষ উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষক আপনার দপ্তরের বিভিন্ন বিধিমালার শিকল বন্ধি থাকায় আন্তরিক সত্ত্বেও তাদের মতো করে স্বাধীন কাজ করতে পেরে উঠছেন না। কেননা জোর করে ক্লাসে ঢুকানো গেলেও আন্তরিকতাবিহীন মানসম্মত পাঠ হয় না।

শ্রেণী পাঠদান ছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে নানাবিধ কাজে জড়াতে হয়, এমনকি কাজের ফাঁকে বিদ্যালয়ের টয়লেট পরিষ্কারক হিসেবে কাজও করতে হয় প্রাথমিক এই শিক্ষককে। তারপরও শিক্ষক আন্তরিক নয় কথাটি কষ্টই বাড়ায়!

তাহলে কি আমরা দেশের এই লক্ষ মেধাবী তৈরী করতে বার্থ হচ্ছি ? নিশ্চয়ই না!

মাননীয় মন্ত্রী,
মোবাইল ফোন আবিষ্কৃত হয়েছিল কথা আদান প্রদানের জন্য। কিন্তু আজকে সেই বার ফোনটি স্মার্টফোন, এন্ড্রয়েড ফোন হিসেবে ক্যামেরার কাজ করছে,অডিও এর কাজ করছে, ভিডিও এর কাজ করছে, ব্যবহৃত ঘড়িসহ নানান ধরনের কাজে, আর কথা বলার কাজে খুব কমই ব্যবহার হচ্ছে, এমনকি আলাদা বার ফোন ব্যবহার করছে কথা বলতে ।

ঠিক তেমনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত হওয়ার কথা শুধু শিক্ষা ভিত্তির কাজে অথচ শিক্ষককে থাকতে হয় নানান কাজে।

প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কেজি স্কুলে যাচ্ছে সেটি শিক্ষকের দোষে নয় মাননীয় মহোদয়!

নিশ্চয়ই তারা, যারা কিনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি সহ বিভিন্ন নিয়মনীতি সমাজের সেই উচ্চ পর্যায়ের লোকদের কাছে গ্রহণ যোগ্য হয়নি বলে। আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষিত মেধাবী শিক্ষকেরা তাদের চাহিদা মেটাতে পারছে না, এটি শিক্ষকের ব্যর্থতা নয়,এটি প্রক্রিয়ায় ব্যর্থতা।
তারপরও আপনার এই দপ্তরের সাথে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমে, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা করে বুঝে নিন আপনার দপ্তর কতটা এগিয়ে আছে!

তাই মহোদয়, আন্তরিকতা নাই এটি যেমন খুঁজে পেয়েছেন,তেমনি এই আন্তরিকতা না থাকার কারণটি খুঁজে বের করুন। সেই সাথে এটিও অনুরোধ করছি, ঢাকার হোটেলে গিয়ে তাদের প্রশংসা করতে সরজমিন তাদের বিদ্যালয় পরিদর্শন করলেই সব সত্য বের হয়ে আসবে। শুধু শুধু অন্ধের আলোতে চোখ বন্ধ রেখে সত্য পাওয়া যায় না।যায়, সেটি হলো ইচ্ছে করে মিথ্যে সাজিয়ে নতুবা বাস্তবতা বিহীন কৃত্রিম কাগজপত্রের নথিতে।

সর্বপরি বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ ব্র্যাক শিক্ষকের সাথে তুলনা, আপনার এমন অগ্রহণযোগ্য মন্তব্যের দুঃখপ্রকাশ করছে।

সেই সাথে হতাশা হয়ে পরা প্রাথমিক শিক্ষকেরা মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের এমন মন্তব্যে তাদের মনে যে আন্তরিকতা বিমুখ হওয়ার দাগ বসেছে তা মুছে ফেলার প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা না করলে মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের দায় শুধুই শিক্ষক নহে।

লেখক, শিক্ষক নেতা, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর