বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২০ ১৫:৫৮ পিএম


'ডিজিটাল গভর্ন্যান্স আইন-২০২০' করতে যাচ্ছে সরকার

বাহরাম খান

প্রকাশিত: ০৯:১২, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ০৯:১২, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

‘ডিজিটাল গভর্ন্যান্স আইন-২০২০’ করতে যাচ্ছে সরকার। আইনটি প্রণয়ন হলে কর্মস্থলের বাইরে অবস্থান করেও প্রয়োজনীয় ফাইলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এমনকি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারবেন। এতে হয়রানি কমে সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তি সহজ হবে। অন্যদিকে সরকারের ব্যয় কমবে। স্বচ্ছতার পাশাপাশি কাজে গতি আসবে। আইনটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সরকারি চাকরির ধরনই বদলে যাবে। চাকরি প্রার্থীর যোগ্যতার ক্ষেত্রে তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষতার বিষয়টিও যুক্ত হবে। খসড়াটি অনুমোদনের জন্য দ্রুতই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠছে বলে জানা গেছে।

খসড়া আইনের ৩৭ ধারা অনুযায়ী, আইনটি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। আর আইনটি প্রয়োগে ‘তথ্য অধিকার আইন’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে তথ্য অধিকার আইনের প্রাধান্য থাকবে। তবে অন্য সব আইনের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে ‘ডিজিটাল গভর্ন্যান্স আইন’।

আইনের খসড়ার ১০ ধারায় ‘সরকারি দপ্তরে সংরক্ষিত তথ্য সরবরাহ ও যাচাই’-এর কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে সরকারের দপ্তরগুলোর কোনো একটির কাছে যদি নাগরিকদের তথ্য সংরক্ষিত থাকে তাহলে অন্য দপ্তর সেখান থেকে তথ্য যাচাই করতে পারবে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অর্থ এমন কোনো পদ্ধতি, যাহার মাধ্যমে কোনো কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস বা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করিয়া সরকারি কার্যক্রম সঠিক ও সুচারুরূপে সম্পাদন করা এবং সেবাসমূহ দ্রুত জনগণের নিকট পৌঁছানো যায়।’ ডিজিটাল তথ্যের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘ডিজিটাল উপায়ে প্রস্তুতকৃত, প্রেরিত, প্রাপ্ত বা সংরক্ষিত কোনো বার্তা, স্বাক্ষর, সিল, দলিল, অনুলিপি, সত্যায়িত অনুলিপি বা রেকর্ড।’

প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে না থাকলেও ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ফাইল অনুমোদন দিতে পারবেন। ডিজিটাল স্বাক্ষর খুবই সুরক্ষিত তথ্য হিসেবে স্বাক্ষরকারীর কাছে গোপন থাকবে। স্বাক্ষরটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কি না তা অনলাইনে যাচাইয়ের সুযোগও থাকবে। যেকোনো চুক্তি স্বাক্ষরের কাজটিও ডিজিটাল মাধ্যমে করা যাবে। আইনটির উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলবে।

প্রস্তাবিত আইনটিতে অনেক বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়নি। মাত্র ৪০টি ধারাসংবলিত আইনটির পৃথক বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সামগ্রিক বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা যুক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বাস্তবায়নে সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কোনো বিষয়ে বিশেষভাবে ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিতে পারবে। প্রতিবন্ধীরা যাতে প্রযুক্তিগত এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সে জন্য সরকারি সব ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম তাদের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।

আইনটি বাস্তবায়ন করতে গেলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবলের জোগান। আবার সেবাপ্রার্থীদেরও বড় অংশই প্রযুক্তিগত সেবা সম্পর্কে ভালোভাবে জানে না। এ কারণে ডিজিটাল মাধ্যমে নতুন দালাল শ্রেণি মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা আছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, নতুন কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগে। সেবাদাতা ও গ্রহীতা উভয়ের জন্যই এটা সত্য। এসব চিন্তা করে উদ্যোগ বন্ধ রাখা যাবে না। কাজ শুরু হলে মানুষ প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতায় পর্যায়ক্রমে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (আইন ও বিধি) শফিউল আজিম বলেন, আইনের খসড়াটি প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আইনটি পাস হলে তা ডিজিটাল সরকার ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর