মঙ্গলবার ২৫ জুন, ২০১৯ ১৪:১৪ পিএম


'আর করব না ধান চাষ, দেখব এবার কী খাস’- ১৪ ছাত্রকে শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:২৮, ২ জুন ২০১৯  

সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আগেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন ‘অতি উৎসাহ’ নিয়ে আন্দোলন করা হচ্ছে—সে সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা কবে কোথায় সরকার ও প্রশাসনবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে—বিস্ময়করভাবে নোটিশে সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা নোটিশের কী জবাব দেবে তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা ধারণা করছে, কৃষকদের ধান-চালের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের কারণে তাদের এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. নূরউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এই কারণ দর্শাও নোটিশ প্রদান করা হয় গত বৃহস্পতিবার। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে ওই শিক্ষার্থীদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, ‘অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করার অভিপ্রায়ে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সরকার ও প্রশাসনবিরোধী প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন বহন এবং উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করার এবং অত্যুৎসাহী হয়ে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন করার আগেই (এই) আন্দোলনের সাথে আপনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিপন্থী একটি গর্হিত কাজ।’

নোটিশ পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলো সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দিগন্ত লস্কর, শেখ মেহেদী হাসান, এম এম নিউটন মজুমদার, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ইসমাইল হোসেন রিয়াদ, সিকদার মাহবুব, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মো. নাজমুল হুদা, রথীন্দ্রনাথ বাপ্পী, মো. শিবলী সাদিক, চতুর্থ বর্ষের মো. সিরাজুল ইসলাম, লোক প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মো. মিথুন সোহাইন, দ্বিতীয় বর্ষের সৌরভ সমাদ্দার, পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের বিসালাত আহমেদ অর্ণব, আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এস এম আব্দুল্লাহ কাফি ও ইংরেজি বিভাগের এম এ বুলবুল আহমেদ।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অন্য শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা বলেন, ‘আমরা কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্যের জন্য মানববন্ধন করি। সেখানে নাকি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আশিকুজ্জামান ভূইয়া নোটিশের সত্যতা নিশ্চিত করন। তবে ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে মানববন্ধন করার কারণেই এমন নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। নোটিশে কারণ দর্শানোর বিষয়টি উল্লেখ করা আছে।’ আন্দোলনের জন্য প্রশাসনের অনুমতির প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ ক্যাম্পাসে যে যাই করুক না কেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। আমরা এদের অভিভাবক, যাই করুক অনুমতি নিয়েই করতে হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে ধানের ন্যায্য মূল্য চেয়ে একটি মানববন্ধন করে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাতের প্ল্যাকার্ডে লিখা ছিল ‘আর করব না ধান চাষ, দেখব এবার কী খাস’, ‘কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, পাকা ধানে আগুন কেন’, ‘কৃষক মরে হীরক রাজার টনক কী নড়ে, ফসল জ্বললে জ্বলবে গদি’। তবে এই মানববন্ধনের কারণেই নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না তা পত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর