বৃহস্পতিবার ২৩ মে, ২০১৯ ২৩:৩৯ পিএম


'আমাদের বেনু পাশ করেছে ঢং!

জাকির হোসেন

প্রকাশিত: ১১:১৬, ১৪ মে ২০১৯  

সাদা মনের মানুষ উমির মন্ডল। উনার মেয়ের নাম ছিল বেনু। সুন্দরী বেনু এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করেছে। গ্রাম অঞ্চলে মেট্রিক পরীক্ষায় যদি কেহ ফেল করত, তবে তাকে বলত আন্ডার মেট্রিক পাশ করেছে । কিন্তু এই সাদা মনের মানুষ বুঝত না এই " আন্ডার মেট্রিক পাশ " মানে সে মেট্রিক ফেল করেছে।

তাই সে আনন্দে আনন্দে হাতে তালি দিয়ে থমক মেড়ে হাঁটতে হাঁটতে বলত - আমাদের বেনু পাশ করেছে ঢং। অর্থাৎ এই বাক্যটি দিয়ে সে বুঝাতে চাচ্ছে যে - তার মেয়ে পাশ করার আনন্দে ঢং করছে। বোঝেনি বেনু ফেল করেছে!
ব্যাছ্ মিটে গেল!
পরন্ত বিকেল থেকে ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখে, খুব মনে পড়ছিল এই সাদা মনের মানুষ উমিরের কথা। আল্লা তাকে মাফ করুক।
তাই নয়ত কি?
১. আজকের মিটিং সচিব ও ডিজি মহোদয়ের সাথে হয়েছে এতে নেতাদের প্রথম পাশ।

২. দ্বিতীয়ত উনারা সাফল্য পেয়েছে যে, সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।

৩. তৃতীয়ত তারা পাশ করতে পেরেছে যে, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকেরা ১০০% প্রমোশন পাচ্ছে।

৪. চতুর্থত উনারা পাশ করেছে যে, ১০০% সহকারী শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক পদে প্রমোশন পাবে।

৫. শ্রান্তি বিনোদন ভাতা নিয়মিত ,ভ্যাকেশন ছুটি, সময় কমবেশি করা ইত্যাদির মুক্ত কিছু দাবী আদায় করতে স্যারের নোট বইয়ে নোট করাতে পেরেছেন, এটা হলো পঞ্চম পাশ।

৬. ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্য ভাগে ষষ্ঠতম বছরে আসিয়া,বহু আন্দোলন করে,৭১`-এর বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদের মতো সম্মুখ ও গেরিলা যুদ্ধ শেষে সম্মানিত গ্রেড পেতে সচিব মহোদয় আশ্বস্ত করেছেন শতভাগ মানসম্মত পাশের শর্তে। এটা তাদের ষষ্ঠ পাশ।

ঠিক যেন আমাদের নেতা পাশ করেছে ঢং! !

কেননা, আমাদের সহকারী শিক্ষকের মূল দাবীই ছিল প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপের গ্রেড পাওয়া।এই মূল চাওয়াকে লক্ষ্য করেই আমাদের যত আন্দোলন, কৌশলগত অবস্থান,নাটক বা বৈধ অবৈধ রেজিস্ট্রেশন নিয়ে বিভিন্ন গজে উঠা সংগঠনের দাবী। আদৌ কি সেই দাবী আদায়ে আমাদের নেতা গণ সফল হয়েছেন? এটা আপনিই বিচার করে নিন।

আমি আগের একটি স্ট্যাটাসে বলেছি-
কৌশল পরিবর্তন করতে হবে দাবী আদায়ের আন্দোলনে।
এখানে যখন জেনেছেন যে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদটি চালু করবেনই,তখন পদটি চালু হলে কি ক্ষতি হবে তার যুক্তি পোষণ না করে,কেন যুক্তি পোষণ করে বলা হল না ঠিক আছে স্যার,
যেহেতু আমরা সহকারী থেকে সহপ্রধান,সহপ্রধান থেকে প্রধান শিক্ষক প্রমোশনের ক্ষেত্রে ক্রসপন্ডিং সুবিধা দিতে হবে।এই ক্রসপন্ডিং সুবিধা না পেলে শিক্ষকের এই শতভাগ প্রমোশনে শুধু সরকারই লাভবান হবে,শিক্ষক নয়। কারণ এতে সরকারকে এই দুটি পদের জন্য অতিরিক্ত টাকা গুনতে হবে না।ঠিক যেমন বর্তমানে প্রমোশন পাওয়া প্রধান শিক্ষকের মতো। অথচ সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা মামলা করে এই সুবিধা ঠিকই নিয়েছে।
সুতরাং সচিব মহোদয়ের সাথে মিটিং হওয়া, উপস্থিত নেতাদের কাছে সফল হলেও আমি তা মনে করছি না।কারণ-
শতভাগ শিক্ষক প্রমোশন পেয়ে সহ প্রধান ও প্রধান হলেও শোনা হয়নি কত % অফিসার হবে?
শোনা হয়নি স্পষ্ট করে পরবর্তী নিয়োগ বিধি সংশোধন কত সময়ের মধ্যে।
আবার কোন নেতা দাবী করছে যে ২০ তারিখের কর্মসূচীর কারণেই মিটিং এ আসতে পেরেছে,এটাও তাদের নাকি সফলতা!
বোকার ফসল খায় পোকা। যেমন, বৈধ নেতারা চায়নি আন্দোলন হোক, তাই কৌশলে তারা স্থগিত করাতে পেরেছে। সফল তারা হয়েছে, যারা ২০ তারিখে কর্মসূচী ডেকেছে সেই সংগঠন নয়? তারা পক্ষে ছিল ১০,১১ ও ১২ গ্রেডের সেটাও যে হতে যাচ্ছে তা অস্বীকার করার নেতাকে চিনতে বড্ড ইচ্ছে করছে
জাকিরের ডাকে এক টেবিলে না বসে সচিব মহোদয়ের ডাকে বসাতে পেরে বৈধ চার নেতা নিজেদের সফল ভাবলেও পরক্ষভাবে তারা শিক্ষকদের সাথে প্রতারণা করেছে তা না বোঝার মতো মস্তিষ্ক নয় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকের।
আর তাই সফল মিটিং হয়েছে বলে কথিত নেতারা দাবী করলেও চরমভাবে তারা যে ব্যর্থ হয়েছে এটা বলার আর অপেক্ষা রাখেনা।
সহ পাঠ্যক্রমে নেতারা সফল হলেও মূল বিষয়ে শূন্য পেয়েছে, অর্থাৎ বিফল হয়েছে।
সুতরাং আমাদের নেতা পাশ করেছে ঢং, কেন নয়? ?

সহকারী শিক্ষক
আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।
লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর