শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২০ ১:০৪ এএম


৪ শতাংশ কর্তনের বিষয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব যা বললেন (ভিডিও)

মহিউদ্দিন রাসেল

প্রকাশিত: ২০:২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:০৭, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তনের বিষয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু বলেছেন, একজন শিক্ষক হিসেবে আমিও চাই শিক্ষকরা অধিক সুবিধা পাক।

কল্যাণ ট্রাস্টের আইন অনুযায়ী, একজন শিক্ষক যে টাকা বেতন পাবেন; তার ২ শতাংশ টাকা তিনি কল্যাণ ট্রাস্টে কনট্রিবিউশন করবেন। আর ৪ শতাংশ অবসর বোর্ডে রাখবেন। আইনে এটাও সুস্পষ্ট ভাবে বলা আছে; যদি কেউ চাঁদা রাখতে অস্বীকার করে, তাহলে তিনি কল্যাণ সুবিধা পাবেন না। এটা কিন্তু বাধ্যতামূলক না। আমি আবারো বলছি, চাঁদাটা মেন্ডাটরি না বলে মনে করেন কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ব্যানবেইসের কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যালয়ে এডুকেশন বাংলার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন।

কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব বলেন, আমরাও চাই সরকার শিক্ষকদের অধিক সুবিধা দিক। টোটাল শিক্ষাটাকে জাতীয়করণ করা হোক। জাতীয়করণটা এখন সময়ের ব্যাপার। বর্তমান শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী, কর্মবীর শিক্ষামন্ত্রী বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছেন। এগুলো নিয়ে আমরাও কথা বলছি। আমরা চাই, টোটাল শিক্ষাটাকে জাতীয়করণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার বৈষম্যটা দূর করা হোক। তাহলে এ সঙ্কট, মামলা-মোকদ্দমা কিছুই থাকবে না।

৪ শতাংশ কর্তন নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রুলের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু বলেন, ব্যাপারটা যেহেতু আইনের আওতায় আছে। আমরা যতটুকু শুনেছি হাইকোর্ট রুল দিয়েছে। তবে আমরা এখনো কপি পাইনি। যদি আমরা রুলের কপি পাই; তাহলে আমাদের আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী যেটা করার সেটাই করবো। যেহেতু আইনে বলা আছে যদি কোনো শিক্ষক চাঁদা না দেন, তাহলে তিনি সুবিধাও নিতে পারবেন না। নিশ্চয় সে আলোচনা উকিলরা কোর্টে করবেন।

কল্যাণ ট্রাস্টের সঙ্কট সম্পর্কে তিনি বলেন , ১৯৯০ সালে কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের আমলে এটা বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়ে ২ শতাংশ চাঁদা আদায় বন্ধ ছিল। এই ৬ বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়নি। সেকেন্ডলি আমাদের আয়ের আরেকটা উৎস ছিল, ছাত্রদের কাছ থেকে ৫ টাকা চাঁদা । আর এটাও ২০০২ সালে বিএনপি আইন করে বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে ২০০২ থেকে ২০১৯ এই ১৭ বছরে আরো ১০০-১৫০ কোটি কমে গেল। এক জায়গায় ২০০ কোটি, আরেক জায়গায় ১৫০ কোটি, এরপর আবার নতুন পে স্কেল হওয়ায় কল্যাণ ট্রাস্টে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে।

এ সঙ্কট সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকদের কথা বিবেচনা করে কল্যাণ ও অবসর বোর্ডে গত তিন অর্থ বছরে বরাদ্দ দিয়েছেন ১৬৭৪ কোটি টাকা।

২ শতাংশ অতিরিক্ত নেওয়ার বিষয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের এই সচিব বলেন, আমাদের টার্গেট ছিল ২ শতাংশ যদি অতিরিক্ত কার্যকর করা হয় তাহলে তিন মাসের মধ্যে আমরা আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করতে পারবো। আমরা চাই শিক্ষাবান্ধব এ সরকার শিক্ষকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে হলেও এ সঙ্কট সমাধান করবেন।

এডুকেশন বাংলা / এমআর/এসআই

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর