শনিবার ২৫ মে, ২০১৯ ১৬:৫৫ পিএম


৪% কর্তনের শর্তে সুবিধা এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ

প্রকাশিত: ১৬:৪০, ২১ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ২০:০৬, ২১ এপ্রিল ২০১৯

৪ শতাংশ কর্তনের শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অন্যান্য সুবিধা আনা হয়েছে, শিক্ষক নেতা শাহজাহান আলম সাজুর এমন বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছে শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম।

বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় একযুগের মেয়াদে লাভজনক পদে আসীন শাজাহান আলম সাজু স্যারের এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শিক্ষক কর্মচারীদের নেতৃত্বে থেকে সরকারি আমলাদের মতো প্রকৃত সত্যের বিপরীত বক্তব্য প্রত্যাহারেরও দাবি জানাচ্ছি।

প্রকৃত সত্য হলো, মমতাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের বঞ্চনা বৈষম্যের বিষয়টি দৃষ্টিতে আসার কারণে তিনি বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতা প্রদানের ঘোষণা দেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতা প্রদানকে নিজেদের অর্জন ও অর্থমন্ত্রণালয়ের শর্ত সাপেক্ষ খোঁড়া যুক্তি উপস্থাপন ধৃষ্টতা প্রদর্শনের শামিল। নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী প্রশংসনীয় ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিস্ময়কর অবদানকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বক্তব্যে।

উল্লেখিত বক্তব্য প্রকৃত সত্যকে মিথ্যার আশ্রয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়েছে।
(এক)
২০১৫ সালে জাতীয় পে-স্কেল নির্ধারণের পর সকল সরকারী, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের জাতীয় স্কেলে বেতন-ভাতা প্রদান করা হলেও বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের স্কেলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। পরবর্তীতে বেসরকারি শিক্ষকদের আন্দোলনের ফলে সরকার জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভূক্ত করে।

(দুই)
জাতীয় পে-কমিশনে বলা হয়েছে, স্কেলভূক্ত সকলকে বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নূন্যতম বার্ষিক ৫% প্রবৃদ্ধি/ ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হবে। উক্ত মতে জাতীয় স্কেলে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীরাও বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রাপ্য ছিল। অথচ বিগত তিন অর্থ বৎসর ধরে আমলাদের বিদ্বেষী মনোভাবের কারণে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।

(তিন)
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী সকলের প্রণোদনার জন্য বেতন স্কেলের ২০% বৈশাখী ভাতা প্রদানের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। সেই একই কারণে বিগত তিন বছর যাবত বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ব্যতীত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

(চার)
বিগত ২০১৮ সালে মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ২০ দিন যাবত অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি পালন করে। সেই অনশন কর্মসূচি স্থগিত করতে সরকারের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই জন সচিব বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন।

(পাঁচ)
তারই ফলশ্রুতিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বিগত ০৮/১১/২০১৮ তারিখ মানবতার জননী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতা প্রদানের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।
(ছয়)
২০১৭ সালের জুন মাসে শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন ও অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের সচিবগণের যোগসাজশে বিভিন্ন শিক্ষক নেতৃবৃন্দকে সভায় ডেকে উপস্থিতি স্বাক্ষর নিয়ে ৪% অতিরিক্ত কর্তনের রেজুলেশন তৈরি করেন। শিক্ষা সচিব মহোদয়ের অতি আগ্রহে শিক্ষা মন্ত্রনালয় তাড়াহুড়ো করে বর্ধিত কোন সুবিধা না রেখেই শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪% কর্তনের প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

(সাত)
এই অমানবিক কর্তনের প্রজ্ঞাপনটি বাতিলের দাবিতে ২০১৭ সাল থেকেই বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম তীব্র প্রতিবাদ জানালে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনটি তখন স্থগিত করে। অতঃপর বিগত বছরের ১৪ নভেম্বর`১৮ তারিখ শিক্ষা মন্ত্রণালয় আবারো প্রজ্ঞাপনটি বাস্তবায়নে তৎপর হয়ে ওঠে এবং আদেশ জারি করে। সেদিনও শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম তীব্র প্রতিবাদ জানালে শিক্ষা সচিব বিবৃতিতে বলেন ভুলবশত একজন উপসচিবের স্বাক্ষরিত আদেশ জারি করা হয়েছে। আবারও সেই একই প্রজ্ঞাপনটি বাস্তবায়নে বিগত ১৫/০৪/২০১৯ তারিখ সোমবার বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ হারে অর্থ কেটে নেয়ার স্থগিত সিদ্ধান্ত প্রায় ২ বছর পর পুনরায় আদেশ দেয়া হয়েছে। এই অমানবিক কর্তনের আদেশে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের ব্যানারে আবারো দেশব্যাপী শিক্ষক কর্মচারীরা ১৯/০৪/২০১৯ তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

মূলত বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতা শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের আন্দোলনে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। অর্থ মন্ত্রণালয় কোন শর্ত দিয়ে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতা প্রদান করা হয়নি।

সারাংশ অবিলম্বে এই ধৃষ্টতাপূর্ণ ও বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছি। সাথে সাথে শিক্ষকদের কোন বর্ধিত সুবিধা না দিয়ে অমানবিক কর্তনের প্রজ্ঞাপনটি বাতিলসহ সকল বৈষম্য নিরসনেরও দাবি জানাচ্ছি।

নিম্নে মমতাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের আদেশ পত্র দেয়া হলো। ২নং পত্রে স্পষ্টতই উল্লেখ করে বলা হয়েছে , কোন শর্তে নয়, মমতাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ও নির্দেশেই বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।

মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম
সভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর