রবিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৪:০৬ পিএম


৪০ হাজার পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭:৪৭, ২৮ এপ্রিল ২০১৮   আপডেট: ০০:০৮, ১ মে ২০১৮

দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ। এ সময়ে ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষকের পদ খালি হয়েছে। এর ফলে মানসম্মত শিক্ষাদান দূরের কথা, শিক্ষা কার্যক্রমই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ অবস্থায় অতি দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে পিএসসির আদলে স্বতন্ত্র কর্মকমিশন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় সভা বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় রাজধানীর ৪৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এবং প্রধান শিক্ষকরা এসব কথা বলেন। বিকাল ৪টা থেকে ৩ ঘণ্টা ধরে চলা ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। মাউশিতে শিক্ষার মানোন্নয়নে গত ১০ বছরের মধ্যে এটা প্রথম কোনো সভা।

সভা সূত্র জানায়, শিক্ষকরা এতে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা-সম্ভাবনা সম্পর্কে ৩৩ দফা প্রস্তাব ও সুপারিশ করেন। পাশাপাশি ওইসব সুপারিশ শিক্ষামন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য মহাপরিচালকের প্রতি অনুরোধ করেন।

সুপারিশমালা ও প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- প্রাইভেট, কোচিং ও টিউশন যে কোনো উপায়ে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা। কেননা এটা শিক্ষা বিশেষ করে ক্লাস কার্যক্রমের ক্ষতি করছে। এ সংক্রান্ত সরকারি উদ্যোগে তারা সহায়তা করবেন। এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের সময় আরও কমিয়ে আনা।

পাবলিক পরীক্ষার মানোন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়া। প্রশ্ন ফাঁস ও নকল বন্ধ করার স্বার্থে যত্রতত্র পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি না দেয়া। সৃজনশীল পদ্ধতির ওপর শিক্ষকদের আরও প্রশিক্ষণ দেয়া। এমসিকিউ প্রশ্ন বাতিল করা।

পাঠ্যবইয়ের মান আরও ভালো করা এবং বইয়ের সংখ্যা কমানো। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেতন বৈষম্য দূর করা। শিক্ষা ব্যাংক চালু করা। শিক্ষা বোর্ডসহ শিক্ষা বিভাগে সব ধরনের কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্নের ব্যবস্থা করা।

মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি নীতিমালা যথাযথ বাস্তবায়ন। প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি, অনুমোদন, বিষয় ও শাখা খোলার কাজ মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে বোর্ড বা মাউশিতে পুনরায় ন্যস্ত করা। স্বীকৃতির নবায়নের মেয়াদ আগের মতো ৩ বছর করা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বিচারে আসন সংখ্যা অনুমোদন না করা। যেহেতু এমপিওভুক্তির জন্য ন্যূনতম শিক্ষার্থী সংখ্যা নির্দিষ্ট আছে, তাই সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করে দেয়া। গণহারে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শাখা, ব্র্যাঞ্চ, ডাবল শিফট ইত্যাদি খুলতে না দেয়া।

যত্রতত্র প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমতি না দেয়া। স্কুল-কলেজের পরিচালনা কমিটির সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেয়া। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সদস্যপদ মেধাবী শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের জন্য বরাদ্দ করা।

সভা সূত্র জানায়, মাউশি মহাপরিচালক এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে এবং বিভিন্ন ভর্তিতে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ না করার আহ্বান জানান। এক্ষেত্রে সরকারের নীতিমালা ও নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রতিপালনের নির্দেশ দেন।

জবাবে শিক্ষকরা নীতিমালা মেনে চলছেন বলে মহাপরিচালককে আশ্বস্ত করেন। তিনি জনবল কাঠামো মেনে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের পরামর্শ দেন। এছাড়া অবসরে যাওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসর এবং কল্যাণ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে সৃষ্ট জট নিরসনে ৪ শতাংশ বর্ধিত চাঁদা দেয়ার ব্যাপারে মতামত আহ্বান করেন।

তখন শিক্ষকদের পক্ষ থেকে মিশ্র মতামত আসে। এ সময় তারা অবসর ও কল্যাণ খাতের অর্থ সংকট মেটাতে বিকল্প উৎস থেকে আয় বৃদ্ধির সুপারিশ তুলে ধরেন। কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বার্ষিক চাঁদা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে থোক বরাদ্দ নেয়া, সম্পদশালী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান নেয়া, প্রয়োজনে বিশেষ প্রকল্প চালুর পরামর্শ দিয়ে শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ নেয়া ঠিক হবে না।

জানা গেছে, সভায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি সম্পর্কে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়। একটি অংশ পরিচালনা কমিটি প্রথা বাতিলের দাবি তুলেছেন। তারা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালনা কমিটি অথবা সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পরামর্শ দেন।

তখন আরেক অংশ পরিচালনা কমিটির ইতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন, ভালো কাজ করা মানুষও পরিচালনা কমিটিতে আসছে।

জানা গেছে, অধ্যক্ষ ও প্রধানরা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবিলম্বে বৈশাখী ভাতা ও বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে বর্ধিত বেতন দেয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের মতো এই আর্থিক সুবিধা তাদের দিতে হবে। নইলে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেবে। সূত্র: যুগান্তর

আরো পড়ুন : সরকারি হাইস্কুলের চিত্র : ৩৪০ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের পদ শূন্য ২৮৭৫টি

 

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর