মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:১৭ পিএম


সরকারি হাইস্কুলের চিত্র

৩৪০ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের পদ শূন্য ২৮৭৫টি

প্রকাশিত: ০৭:৩৮, ৮ এপ্রিল ২০১৮   আপডেট: ০০:৪৬, ৯ এপ্রিল ২০১৮

সারাদেশে মোট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে (নতুন জাতীয়করণসহ) ৩৪০টি। টানা সাত বছর এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ ছিল। এই সাত বছরে মৃত্যু অথবা অবসরজনিত কারণে প্রায় দুই হাজার ৮৭৫টি শিক্ষক পদ শূন্য হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে কারিকুলাম ও সিলেবাস পরিবর্তনের কারণে  বিদ্যালয়গুলোতে গত সাত বছরে চারটি নতুন বিষয় চালু হয়েছে। এগুলো হলো- তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি), শারীরিক শিক্ষা, কর্মমুখী শিক্ষা, চারু ও কারুকলা। এসব ক্ষেত্রেও কোনো বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে নেই। এক বিষয়ের শিক্ষক পড়াচ্ছেন অন্য বিষয়। তথ্যপ্রযুক্তির মতো মৌলিক ও বিশেষ বিষয়ও পড়ানো হচ্ছে অন্য বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে। মাধ্যমিকও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ১৫ মে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তায় উন্নীত করেন। এতে শিক্ষক নিয়োগের মূল ক্ষমতা চলে যায় মাউশির বদলে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) হাতে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পিএসসিকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বার বার অনুরোধ করা হলেও এতদিন তাতে রাজি হয়নি পিএসসি। পিএসসি জানিয়ে দিয়েছিল, নিয়োগ বিধি গেজেট আকারে জারি না হলে এ পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ সম্ভব নয়। ২০ দিন আগে নিয়োগবিধির গেজেট জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৩৪০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শূন্য পদের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে এক বিষয়ের শিক্ষক অন্য বিষয়ের ক্লাস নিচ্ছেন। মহানগরীর বিদ্যালয়গুলোতে তেমন সংকট না থাকলেও উপজেলা পর্যায়ের স্কুলগুলোতে এ সংকট তীব্র। এছাড়া এসব সরকারি বিদ্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তিসহ নতুন চালু করা বিষয়গুলোর শিক্ষকও নেই। আবার বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লাইব্রেরিয়ানের পদ থাকলেও সরকারি বিদ্যালয়ে এ পদটি এখনও সৃষ্টি করা হয়নি।

মাউশির তথ্যমতে, ৩৪০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট প্রধান শিক্ষকের পদ ১৭১টি। এর মধ্যে শূন্য রয়েছে ৫৭টি। প্রধান শিক্ষিকার ১৪৮টি পদের ৭৪টিই শূন্য। জেলা শিক্ষা অফিসার (প্রধান শিক্ষকের সমমান) পদের ৬৪টির মধ্যে ২৪টিই খালি। সহকারী প্রধান শিক্ষকের ২৪৮টি পদের মধ্যে ২৪২টিই শূন্য। সহকারী প্রধান শিক্ষিকার ২১৬টি পদের মধ্যে ২১৫টিই শূন্য। আর সহকারী শিক্ষকের ১০ হাজার ৩৫০টি পদের মধ্যে খালি রয়েছে দুই হাজার ২৬৩টি।

তিন দশকেও ১৪৩টি বিদ্যালয়ে পদ সৃষ্টি হয়নি : ৩৪০টি সরকারি হাইস্কুলের মধ্যে ১৪৩টি বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি হয়নি তিন দশকেও! এরশাদ সরকারের আমলে বেসরকারি স্কুল থেকে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়গুলোও এর মধ্যে রয়েছে। পদবিন্যাস অনুসারে, সরকারি একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কমপক্ষে ২৫ জন শিক্ষক থাকার কথা। ডাবল শিফট বিদ্যালয়ে শিক্ষক থাকবেন ৫০ জন। অথচ এই ১৪৩টি বিদ্যালয় তিন দশক আগের সেই ১১ জন শিক্ষক দিয়েই চলছে। নতুন করে পদ সৃষ্টি না হওয়ায় বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম রীতিমতো ধুঁকছে। অথচ পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত এসব বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী বেড়েছে আরও কয়েক গুণ। এমনই দুটি বিদ্যালয় টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার আবদুল জব্বার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সন্তোষ ইসলামিয়া গভর্নমেন্ট হাইস্কুল।

এ দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সমকালের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, পদ সৃষ্টি না হলে কখনোই সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান বাড়বে না।

একইভাবে উপজেলা সদরের কোনো সরকারি হাইস্কুলেই পদ সৃষ্টি করা হয়নি। পুরনো কাঠামোতেই চলছে এসব বিদ্যালয়।

পদোন্নতি পাচ্ছেন পাঁচ শতাধিক শিক্ষক : দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত এসব বিদ্যালয়ের ৫২৯ সহকারী শিক্ষককে সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষা অফিসার পদে পদোন্নতির প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব শিক্ষকের নামের তালিকাসহ বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) প্রস্তাব পাঠাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

সরকারি হাইস্কুল শিক্ষকদের পদোন্নতির নীতিমালা অনুযায়ী ২০১০ সাল পর্যন্ত বিএড ডিগ্রি অর্জনের দিন থেকে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হয়। তবে চাকরিতে যোগদানের দিন থেকে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হতো না। এ কারণে চাকরিতে যোগ দিয়ে নবীন শিক্ষকরা বিএড করে দ্রুত পদোন্নতি পেতেন। চাকরির যোগ্যতা হিসেবে বিএড ডিগ্রি বাধ্যতামূলক না থাকায় বঞ্চিত হন বিএড না করা প্রবীণ শিক্ষকরা। এমন পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে নীতিমালাটি সংশোধন করা হয়। নতুন নীতিমালায় চাকরিতে যোগদানের দিন থেকেই জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হয়। তবে বিএড ডিগ্রি থাকাও এ ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক। এদিকে, মাউশির নতুন নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করে ৭৫ জন সহকারী শিক্ষক ২০১৫ সালের মার্চে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর রিটের রায় দেয় আদালত। রায়ে বলা হয়, ২০১০ ও ২০১১ সালের নিয়োগবিধি সাংঘর্ষিক। ২০১০-এর পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের পক্ষে মত দেন উচ্চ আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা আপিল করেন। গত বছরের ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত রায় দেন।

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর