বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল, ২০২০ ১৩:৩৭ পিএম


২৪ স্কুল বন্ধ রেখে শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে পিকনিকে শিক্ষকরা

সাইফ আমীন

প্রকাশিত: ১২:৩০, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রেখে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বনভোজনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ক্লাস হয়নি ওই ২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তবে বনভোজনে অংশ নেয়া একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, চাকরিতে নানা সমস্যা সৃষ্টির ভয় দেখিয়ে তাদেরকে বনভোজনে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

একাধিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিরা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফয়সল জামিল ও সহকারী শিক্ষা অফিসার পলাশ সরদারের উদ্যোগে এই বনভোজনের আয়োজন করা হয়। গৌরনদী সদর ক্লাস্টারের ২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সর্বমোট ১১৫ জন শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বনভোজনের উদ্দেশ্যে রোববার সকালে তিনটি বাসে রওনা দেন। ফলে রোববার উপজেলা সদর ক্লাস্টারের ২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ ছিল। এ ঘটনায় বেশিরভাগ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ।

তাদের আরও অভিযোগ, বনভোজন সফল করার লক্ষ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফয়সল জামিল ও সহকারী শিক্ষা অফিসার পলাশ সরদারের উদ্যোগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি, ১১ ফেব্রুয়ারি ও ১৩ ফেব্রুয়ারি গৌরনদী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন দফা প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা থেকে বনভোজনের জন্য শিক্ষকদের জনপ্রতি এক হাজার ২০০ টাকা চাঁদা নির্ধারিত করা হয়। কোনো কারণ দেখিয়ে কোনো শিক্ষক বনভোজনে যেতে না চাইলে, তাকেও চাঁদা দিতে হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়। রোববার সকালে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফয়সল জামিল ও সহকারী শিক্ষা অফিসার পলাশ সরদারের তদারকিতে শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যশোর সদরের একটি পার্কের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

গৌরনদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আতিকুর রহমান শামীম জানান, কয়েকজন শিক্ষক তার কাছে অভিযোগ করেছেন, বনভোজনে অংশ না নিলে তাদের বিপদে পড়তে হতো। চাকরিতে সমস্যার সৃষ্টি হতো। এ কারণে বাধ্য হয়েই তারা বনভোজনে অংশ নিয়েছেন।

গৌরনদী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও গৌরনদী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রেজাউল করিম টিটু জানান, তার বিদ্যালয়টি খোলা ছিল। তবে কোনো ক্লাস হয়নি। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে আবার ফিরে গেছে। তার বিদ্যালয়ের একজন অসুস্থ শিক্ষক বনভোজনে যাননি। তার কাছ থেকেও চাদা আদায় করা হয়েছে বলে জানান তিনি। -জাগ্ েনিউজ

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর