মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ১৭:৩৮ পিএম


২৩৫ প্রতিষ্ঠানের জন্য এমপিও নীতিমালা শিথিল

সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশিত: ১১:৩৯, ২৫ অক্টোবর ২০১৯  

 

এমপিওভুক্তির প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে বেসরকারি শিক্ষকদের। বুধবার সারাদেশের দুই হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি পাওয়ায় শিক্ষা-সংশ্নিষ্ট মহলগুলোতে এখন চলছে চুলচেরা বিচার-বিশ্নেষণ। তাতে দেখা গেছে, যোগ্যতায় না টিকলেও উপজেলাভিত্তিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে সারাদেশের ২৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে `এমপিওভুক্তির নীতিমালা-২০১৮` শিথিল করে বিশেষ বিবেচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নীতিমালার ২২ নম্বর ধারায় এ সুযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক কোনো বিবেচনা স্থান না পাওয়ায় কেবল বগুড়া জেলাতেই প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে এমপিওভুক্তিতে। স্থান পেয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি রক্ষার্থে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিও। আবার স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাও স্থান পেয়েছে এমপিওর তালিকায়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সারাদেশের মোট ৮৯টি উপজেলা ও থানা থেকে একটি প্রতিষ্ঠানও এমপিওভুক্তির জন্য কাম্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। সে ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সামঞ্জস্য বিধানের জন্য এমপিও নীতিমালা ২০১৮-এ ২২ ধারা প্রয়োগ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। এ ধারায় বলা হয়েছে, শিক্ষায় অনগ্রসর, ভৌগোলিকভাবে অসুবিধাজনক, পাহাড়ি, হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল, নারীশিক্ষা, সামাজিকভাবে অনগ্রসর গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় শর্ত শিথিল করা যেতে পারে।

৮৯টি উপজেলায় শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০০ জন এবং স্বীকৃতির মেয়াদ দুই বছর বিবেচনায় নিয়ে সংশ্নিষ্ট উপজেলায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ৫৮টি প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হয়। বাকি ৩১টি উপজেলা থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদনই করেনি বলে বিবেচনা করতে পারেনি।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতায় প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ১৭৭টি উপজেলা থেকে একটি করে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য কাম্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। সে ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সামঞ্জস্য বিধানের জন্য এমপিও নীতিমালা ২০১৮-এর ২২ ও ৩৫/৩৬ ধারা প্রয়োগ করে শিক্ষা উপজেলা বা থানায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ৫৪টি কারিগরি ও ৪৫টি মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের দুর্গম অঞ্চল হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা এবং উপকূলীয় এলাকার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫০০ বা তদূর্ধ্ব এবং স্বীকৃতির মেয়াদ কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হয়েছে, এমন ৫১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নীতিমালা ২২ অনুযায়ী এমপিও দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত) এক হাজার ৯৬৭টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এর মধ্যে ৪৩৯টি এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরের (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) ১০৮টি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় (নবম থেকে দশম শ্রেণি) ৮৮৭টি স্কুল এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। এ স্তরে এক হাজার ৭৩৯টি প্রতিষ্ঠান

আবেদন করেছিল। উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ) ৩৩৬টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এর মধ্যে ৬৮টি এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। কলেজ (একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি) ৫৪৪টি আবেদন করে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে ৯৩টি প্রতিষ্ঠান।

ডিগ্রি কলেজ (স্নাতক প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ) ৫৫৫টি আবেদন করলেও ৫৬টি এমপিভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, ৬০০ নতুন স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্তর পরিবর্তন তথা যেসব স্কুল নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের এমপিওভুক্ত ছিল, সেগুলো মাধ্যমিক (নবম ও দশম শ্রেণি) স্তরে এমপিভুক্ত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এমপিওভুক্ত বাছাই কমিটির আহ্বায়ক জাবেদ আহমেদ বলেন, "এবারের এমপিওভুক্তি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে। কারণ এখানে কোনো তদবির বা অন্য কিছুর আশ্রয় নেওয়া হয়নি। তবে ভৌগোলিক ভারসাম্য রক্ষায় `বিশেষ বিবেচনায়` কিছু প্রতিষ্ঠান এমপিও পেয়েছে, সেটি একটি মানদণ্ড রক্ষা করেই।"

গত বছর ৫ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তৈরি করা বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির আবেদন নেওয়া হয়। এমপিওভুক্তির নীতিমালা-২০১৮ এর ১৪ ধারা অনুযায়ী, চারটি মানদণ্ডে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাচাই করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা হিসেবে প্রতিষ্ঠানের বয়স বা সরকারি স্বীকৃতি ২৫ নম্বর, শিক্ষার্থীর সংখ্যার ক্ষেত্রে ২৫ নম্বর, পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ নম্বর এবং পাসের হারে ২৫ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে মূল্যায়ন করা হয়। সেখানে কমপক্ষে ৭০ নম্বর পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য বলে এবার বিবেচিত হয়েছে।

এমপিও নীতিমালা-২০১৮তে এমপিওভুক্তির জন্য পাঁচটি স্তর নির্ধারণ করা হয়। স্তরগুলো হলো- নিম্ন মাধ্যমিক (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম), মাধ্যমিক (নবম থেকে দশম), উচ্চ মাধ্যমিক (ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ), কলেজ (একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি), স্নাতক (পাস) তথা ডিগ্রি কলেজ (একাদশ থেকে মাস্টার্স)। এমপিওভুক্তির জন্য এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মোট আবেদন জমা পড়েছিল ছয় হাজার ১৪১টি। সূত্র: সমকাল

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর