বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল, ২০২০ ১:০২ এএম


১৩তম গ্রেডে বেতন: খুশি নন প্রাথমিক শিক্ষকরা

এডুকেশন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:৩১, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৮:৩৪, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সারাদেশের ৩ লাখ ৭৫ হাজার শিক্ষকের বেতন বাড়িয়ে গতকাল রোববার আদেশ জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই শিক্ষকরা এখন জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে (১১ হাজার টাকার স্কেল) বেতন পাবেন। যা পূর্বে ছিলো ১৪ ও ১৫তম গ্রেডে।

তবে বেতন বাড়ানোর এ পদক্ষেপে খুব বেশি সন্তুষ্ট নন প্রাথমিক শিক্ষকরা। কারণ তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি বেতন। সহকারী শিক্ষকরা আশা করছিলেন, তাদের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে (১২ হাজার ৫০০ টাকা) উন্নীত করা হবে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবে সায় দেয়নি। বেতন স্কেল উন্নীতকরণের দাবিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।

বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনরত দেশের ১৪টি প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত `বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ`-এর সদস্য সচিব ও সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামসুদ্দিন মাসুদ গতকাল জানান, তারা এ পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন। খুব শিগগিরই তারা সব সংগঠন মিলে বসে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের সর্বশেষ বেতন বাড়ানো হয়েছিল ২০১২ সালের ৯ মার্চ। তখন সহকারী শিক্ষকদের বেতন এক ধাপ বাড়িয়ে ১৫তম থেকে ১৪তম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছিল।

বর্তমানে সারাদেশে ৬৫ হাজার ৯০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোতে তিন লাখ ৭৫ হাজার সহকারী শিক্ষক ও ৪২ হাজার প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা বাকি বিদ্যালয়গুলো চলতি দায়িত্ব দিয়ে চালানো হচ্ছে। এ বছর বেতন বাড়লে সহকারী ও প্রধান শিক্ষক, সব মিলিয়ে প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক এর সুবিধা পাবেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, পদ অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের নিচের ধাপে সহকারী শিক্ষকদের অবস্থান। অথচ এতদিন প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৪তম গ্রেডে রাখা হয়েছে। এটি বৈষম্যমূলক। তাই প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে নিয়ে সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১তম ধাপে নির্ধারণ করার দাবি সাত বছর ধরে জানিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু তাদের দাবি পূরণ না করে প্রত্যাশার চেয়ে নিম্নতম ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হলো। এতে সারাদেশের লাখ লাখ প্রাথমিক শিক্ষক আশাহত। কারণ তাদের প্রাণের দাবি ছিল ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ।

শিক্ষক নেতা শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, বর্তমানে একজন প্রধান শিক্ষক যে স্কেলে চাকরি শুরু করেন, একজন সহকারী শিক্ষক সেই স্কেলের এক গ্রেড নিচে চাকরি শেষ করেন, যা সহকারী শিক্ষকদের জন্য চরম বৈষম্য। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা যে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে চাকরিতে যোগ দেন, একই যোগ্যতায় অন্য ডিপার্টমেন্টের সরকারি চাকরিরত সবার বেতন গ্রেডই তাদের তুলনায় তিন থেকে চার ধাপ ওপরে। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে শিক্ষকদের চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অন্য ডিপার্টমেন্টে সহকারী শিক্ষকদের তুলনায় বেশি বেতনে চাকরি করেন। তারা সম্মানজনক বেতন স্কেল প্রত্যাশা করছেন, যা তাদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

নতুন বেতন স্কেল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রংপুর ক্যাডেট কলেজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রওশন আরা বীথি বলেন, নতুন বেতন স্কেলে বেতন ফিক্সেশন নিয়ে নতুন সমস্যা তৈরি হবে। এতে তিনি অবসরে যাওয়ার সময় নতুন শিক্ষকদের চেয়ে অন্তত সাত থেকে আট লাখ টাকা বঞ্চিত হবেন।

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার মৈশাষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম  বলেন, তারা চেয়েছিলেন জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেড। অথচ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হলো ১৩তম গ্রেড। এতে শিক্ষক সমাজ অসন্তুষ্ট ও মনঃক্ষুণ্ণ। কারণ শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ালে তা হবে জাতি গড়ার জন্য বিনিয়োগ।

 এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর