বৃহস্পতিবার ২০ জুন, ২০১৯ ১৬:১৩ পিএম


হাবিপ্রবিতে ভিসিসহ শিক্ষকরা অবরুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৩১, ১১ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১২:৩২, ১১ জানুয়ারি ২০১৯

গতকাল দিনভর আলোচনার পরও শিক্ষা কার্যক্রমে টানা প্রায় দুই মাসের অচলাবস্থার অবসান হয়নি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি)। এদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য, রেজিষ্ট্রারসহ অন্য শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বেতন বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে গত ১৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৬১ জন সহকারী অধ্যাপক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিধান চন্দ্র হালদারের কক্ষে গেলে সেখানে তাদের উপর হামলা, মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। এই অভিযোগে পরের দিন থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে অনশনে যান পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামও। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষক ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয় ভর্তি পরীক্ষা এবং কর্মকর্তা ও শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা।

এরই মধ্যে ২৯ নভেম্বর রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলমকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় আন্দোলনরত দুই শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হলে আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে উঠে। এমতাবস্থায়, ৩ ডিসেম্বর ঢাকাস্থ হাবিপ্রবি’র রিজেন্ট বোর্ডের এক সভায় ৪ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এক মাস বন্ধ শেষে গত ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলে এবং ৬ জানুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা চালু হওয়ার কথা। কিন্তু ৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে আবারও আন্দোলনে নামেন দেড় শতাধিক শিক্ষক। ফলে প্রায় দুই মাস ধরে শিক্ষা কার্যক্রমে একপ্রকার অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এদিকে অচলাবস্থা নিরসন করে ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবিতে গত ৯ জানুয়ারি রাস্তায় নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এই অবস্থায় সংকট মোকাবিলায় গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় আন্দোলনরত প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম ও বিকেল ৪টায় সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৬১ জন সহকারী অধ্যাপকের সাথে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আলোচনায় হাবিপ্রবি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম, রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সহ-সম্পাদক প্রফেসর ড. এস.এম হারুনর রশিদসহ অন্য নেতৃবৃন্দ এবং আন্দোলনরত সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক কৃষ্ণ চন্দ্র রায়সহ ৬১ জন সহকারী অধ্যাপক উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা আলোচনায় কোনো সমাধান হয়নি।

আলোচনা শেষে আন্দোলনরত সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপকদের প্রতিনিধি কৃষ্ণ চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তাদের দাবির ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ ও আশ্বাস না দিয়েই ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জানান, তাদের দাবির ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরে যাবেন না।

হাবিপ্রবি’র রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম জানান, বৃহস্পতিবারের আলোচনাটি ছিলো প্রাথমিক আলোচনা। এই আলোচনায় কোনো সমাধান না হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আজ বিকেল ৩টায় আবার আলোচনায় বসা হবে।

এদিকে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমে অচলাবস্থার অবসান না হওয়ায় প্রশাসনিক ভবনের গেটে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ অন্য শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে নিয়ে আনার দাবি জানায়। তারা ঘোষণা দেয়, সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি থেকে তারা সরে আসবে না।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর