রবিবার ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:৫৮ পিএম


এখনো হল ছাড়েনি জাবি শিক্ষার্থীরা, বিক্ষোভ

জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:৩৩, ৬ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:৩৫, ৬ নভেম্বর ২০১৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ও হল ছাড়ার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৪টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশনা দিলেও তা প্রত্যাখান করে হলেই রাত্রী যাপন করেছে শিক্ষার্থীরা। পরে বুধবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিভিন্ন হল থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে তারা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের গেট বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পরে তা খুলে দেয়া হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের মুরাদ চত্বরে আসলে সেখানে অবস্থান নেয়া শিক্ষকরা এতে যোগ দেন।

এরপর মিছিলটি শহীদ মিনার ঘুরে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে যায়। সেখানে সড়কে বসে বিক্ষোভ করেন তারা। দুপুর ১২টার পর সেখানে সংহতি সমাবেশ শুরু করেছেন।

সমাবেশে জাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে আসা একটি প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ক্যাম্পাসে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে ওই সভায় ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু এই ঘোষণা প্রত্যাখান করেই বিকেলে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।

এর আগেও সোমবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে তার ভবনে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল আন্দলোনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে আন্দোলনকারীদের ঘিরে চার স্তর বিশিষ্ট বহর তৈরি করে মুখোমুখি অবস্থান নেন উপাচার্যপন্থী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

এদিকে, মঙ্গলবার সকাল ১১টায় আন্দোলনকারীরা যখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় তখন উপাচার্যপন্থী শিক্ষকেরা সেখানে যান। তারা আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তুলে দিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে তারা বাসভবনে ঢুকতে পারেননি।

তবে কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি মিছিল সেখানে আসে। ওই মিছিলে দুই শতাধিক নেতাকর্মী ছিলেন। মিছিল থেকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করা হয়। মিছিলকারীরা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন। তারপর তারা ওই জায়গায় অবস্থান নেন।

পরে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো হামলা করে নাই। তারা আমার বাসভবনের সামনে থেকে আন্দোলনকারীদের সুশৃঙ্খলভাবে সরিয়ে দিয়েছে।

ভিসি বলেন, আন্দোলনকারীদের পেছনে জামায়াত-শিবির রয়েছে। তারা গত কয়েকদিন ধরে আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। আমি বের হতে পারিনি। আমি এখন অফিস করবো।

এডুকেশন/কেআর

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর