সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৪:৩২ এএম


ইবতেদায়ি শিক্ষকদের জন্য সুখবর, নীতিমালায় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:৩৩, ২ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৯:৩৯, ২ অক্টোবর ২০১৮

স্বতন্ত্র এবেতদায়ি শিক্ষকদের জন্য সুখবর, এবার তাদের ভাগ্য খুলেছে এজন্য যে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন এবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায়। অর্থ বিভাগে পাঠানো কারিগরি মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের চিঠিদেশের প্রায় ১৮ হাজার ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা’র (যেসব মাদ্রাসায় কেবল প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত রয়েছে) ৩০ বছর ধরে বঞ্চিত ৫০ হাজারেরও বেশি শিক্ষকের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে।

এই অনুমোদন নিয়ে চূড়ান্ত খসড়া নীতিমালাটি মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাদ্রাসা) রওনক মাহমুদ বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন ছাড়া নীতিমালা অনুমোদন দেয়নি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে খসড়া নীতিমালা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।’

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. আব্দুল খালেক মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) চূড়ান্ত খসড়াসহ অর্থ বিভাগের সচিব বরাবর চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।’

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের বৈষম্য নিরসনে হাই কোর্টের নির্দেশের পর ২০১০ সালের শিক্ষানীতি অনুযায়ী মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেয় সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গত বছর ৪ অক্টোবর নীতিমালা প্রস্তুত করতে একটি কমিটি গঠন করে সরকার। ওই কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আদলে ‘স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলতে নীতিমালা চূড়ান্ত করে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।

চূড়ান্ত নীতিমালায় এবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান মর্যাদা দেওয়া হয়। এরপর সরকারি নির্ধারিত বেতন-ভাতা দেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। আর্থিক স্বার্থ সম্পৃক্ত থাকায় চূড়ান্ত করা নীতিমালা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় নীতিমালাটির অনুমোদন দেয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিমতে বলা হয়েছে, ‘নীতিমালা অনুমোদনে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিমতের পর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে খসড়া অনুমোদনের জন্য পাঠায় মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগ।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালের একই পরিপত্র অনুযায়ী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সমমানের নিবন্ধিত ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা’ গঠন করা হয়। শুরু থেকেই ৫০০ টাকা করে ভাতা পাওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি হলেও ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষককরা বঞ্চিত হন। শুধু তাই নয়, একই শিক্ষা ব্যবস্থায় দাখিল মাদ্রাসার সঙ্গে সংযুক্ত ইবতেদায়ি শিক্ষকরা ৯ হাজার ৯১৮ বেতন পেলেও ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা’র প্রধান শিক্ষক পাচ্ছেন আড়াই হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা পাচ্ছেন মাত্র দুই হাজার ৩০০ টাকা।

এই বৈষম্য দূর করতে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্দশনা দেন হাইকোর্ট। ওই নির্দেশনার আলোকে ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর এবতেদায়ি শিক্ষকদের বেতন-কাঠামোর আওতায় নিতে কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে সারাদেশের ১৮ হাজার ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা’কে নিবন্ধন দেয় সরকার। এরমধ্যে ১৯৯৪ সালে এক হাজার ৫১৯টিকে এমপিওভুক্ত করা হয়। এই মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষকদের প্রথমবারের মতো মাসিক অনুদান বা ভাতা দেওয়া হয় ৫০০ টাকা করে। ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে তা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা হয়। ২০১৪ সাল থেকে মহার্ঘ্য ভাতা হিসেবে ২৫০ টাকা বাড়িয়ে মোট এক হাজার ২৫০ টাকা দেওয়া হয়।

‘বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি’র সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘সর্বশেষ ২০১৬ সালে অনুদান বাড়িয়ে এমপিওভুক্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকদের দুই হাজার ৫০০ টাকা এবং সহকারী শিক্ষকদের দুই হাজার ৩০০ টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ১৯৯৪ সালের একই পরিপত্র অনুযায়ী নিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সমমানের নিবন্ধিত ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা’র শিক্ষকরা সবাই ৫০০ টাকা করে ভাতা পেতেন। ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক স্কুল সরকারি করা হয়। কিন্তু ‘স্বতন্ত্র এবতেদায়ি শিক্ষক’দের জন্য নামমাত্র অনুদান দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করার পর থেকে জাতীয় স্কেলে বেতন দাবি করছেন ইবতেদায়ি শিক্ষকরা।

‘বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি’র সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে অনুদান পাওয়া এবং অনুদানের জন্য আবেদন জানানো প্রায় ১৮ হাজার স্বতন্ত্র মাদ্রাসায় ৫০ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত।’

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর