শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২০ ১০:০৫ এএম


স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা পাচ্ছে সরকারি প্রাথমিকের মর্যাদা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:১৯, ২৯ এপ্রিল ২০১৮   আপডেট: ১৯:৫২, ২৯ এপ্রিল ২০১৮

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমমর্যাদা ও সুযোগ সুবিধার বিধান রেখে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি নীতিমালার প্রস্তাব করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগ। এ নীতিমালা বাস্তবায়নে অর্থের সংশ্লেষ থাকায় তা অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাঠানোর দুই সপ্তাহের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও মতামতসহ তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসবে। এরপর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলেই তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

নীতিমালায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার কাঠামো, শর্ত, শিক্ষার ধরন, মঞ্জুরি ও স্বীকৃতির শর্ত, শিক্ষকের শিাগত যোগ্যতা, শিক্ষক নিয়োগ ও সংখ্যা এবং বেতন কাঠামোসহ মাদরাসা পরিচালনা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে ২৫টি ধারা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এসব ধারায় আরো বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো হবে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করবে, এখানে শিক্ষক সংখ্যা হবে একজন, প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন সহকারী শিক্ষক। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রিত হবে। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুরূপ মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা পাবে।
;
দেশে বর্তমানে এক হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা রয়েছে। এ সব মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকেরা যথাক্রমে দুই হাজার ৫০০ ও দুই হাজার ৩০০ টাকা হারে বেতন পাচ্ছেন প্রতি তিন মাস পরপর। নতুন করে এ রূপ মাদরাসার স্বীকৃতি-অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবিত নীতিমালায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্যকে প্রধান করে একটি করে শিক্ষা কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই আগামীতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা যাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে দেশে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার স্বীকৃতি-অনুমোদন বন্ধ রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল এই নীতিমালাটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। গত বছরের ৪ অক্টোবর কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রওনক মাহমুদকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের কমিটি নীতিমালা চূড়ান্ত করেন।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সংগঠনগুলো নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষা চালু হলেও কোনো ধরনের সরকারি সুযিাগ-সুবিধা পেতেন না। ১৯৯৪ সাল থেকে এ সব মাদরাসার শিক্ষকদের বেতনভাতা চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি পরিপত্র জারি করে নিবন্ধিতদের ৫০০ টাকা করে ভাতা দেয়া শুরু হয়। নিবন্ধনের জন্য কিছু যোগ্যতা-শর্তারোপের ফলে মোট সাড়ে চার হাজার আবেদনের মধ্য থেকে মাত্র এক হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকেরা এর আওতায় আসে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আদলেই এসব মাদরাসা চালু হলেও শুরু থেকেই এর শিক্ষকেরা বৈষম্যের শিকার। শুধু তাই নয়, একই শিক্ষাব্যবস্থায় দাখিল মাদরাসার সাথে সংযুক্ত ইবতেদায়ির শিক্ষকেরা ৯ হাজার ৯১৮ টাকা বেতন পেলেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রধান শিকেরা বেতন প্রাচ্ছেন মাত্র আড়াই হাজার টাকা এবং সহকারী শিকেরা পাচ্ছেন মাত্র দুই হাজার ৩০০ টাকা। এ হারও চালু হয় গত ২০১৬ সাল থেকে। এর আগে ২০১৭ সালে তাদের দেয়া ওই বেতন সুবিধাও এক বছর বন্ধ ছিল।

বর্তমানে দেশে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার সংখ্যা ছয় হাজার ৯৯৮টি। ব্যানবেইসের ২০১৬ সালের তথ্যানুসারে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা রয়েছে তিন হাজার ৪৩৩টি। এর মধ্যে অনুদান পাওয়া মাদরাসার সংখ্যা এক হাজার ৫১৯টি। এসব মাদরাসায় ১৫ হাজার ২৪৩ জন শিক রয়েছেন।

নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাদরাসা) রওনক মাহমুদ বলেন, নীতিমালায় ইবতেদায়ি শিকদের মর্যাদা প্রাথমিক শিকদের সমমান এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমান মর্যাদা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নীতিমালায় শিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ ও এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সংক্রান্ত নানা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামীতে এরই ভিত্তিতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয়া হবে।

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের মহাসচিব মাওলানা শামসুল আলম বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন থেকেই নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার। কোনো ধরনের নীতিমালা না থাকায় আমরা বঞ্চনার মুখে পড়েছি। নীতিমালা অনুমোদিত হলে এ বৈষম্য অনেকাংশে লাঘব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

সৌজন্যে: নয়া দিগন্ত

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর