শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২০ ১৮:০০ পিএম


স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:২৯, ২৮ জানুয়ারি ২০২০  

রাজধানীতে দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়া প্রচারণা যখন তুঙ্গে, তখন সারাদেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হইয়া গেল স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যখন নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন বহু দিন ধরিয়া অনুষ্ঠিত হইতেছে না, তখন ইহা লইয়া অনেকের নানা বক্তব্য থাকিতে পারে। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতি লইয়া অনেকের মনে প্রশ্ন থাকাটাও অস্বাভাবিক নহে। তাহার পরও স্কুল-মাদ্রাসায় এই ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠানকে আমরা ইতিবাচক হিসাবেই দেখিতে চাই। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক চর্চা ও নিজেদের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হইলে তাহা হইবে দেশ ও দশের জন্য মঙ্গলজনক। গত ২৫ জানুয়ারি শনিবার আটটি বিভাগ ও আটটি মহানগরের আওতাধীন ৫৫৯টি উপজেলা/থানায় ২২ হাজার ৯২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইয়াছে। শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের সহায়তায় এই নির্বাচন যে উত্সবমুখর ও শান্তিপূর্ণ হইবে ইহা কাহারও অজানা ছিল না। শিক্ষার্থীরা লাইনে দাঁড়াইয়া আনন্দমুখর পরিবেশে তাহাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করিয়াছে। নির্বাচন কমিশনার হইতে শুরু করিয়া নিরাপত্তাকর্মী ও ভোটগ্রহণকর্মী ইত্যাদি সকলেই ছিল শিক্ষার্থী। সারা বিশ্বে গণতান্ত্রিক সংকট থাকিলেও শিক্ষার্থীদের এই গণতন্ত্র চর্চাকে আমরা ছোটো করিয়া দেখিতে চাহিনা।

স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন নিয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য হইল, ইহা গণতন্ত্র চর্চার এক অনন্য প্ল্যাটফরম। আমাদের দেশে প্রাথমিক পর্যায়েও এমন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইতে দেখা যায়। আসলে ইহার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? সরকার কর্তৃক প্রদত্ত স্টুডেন্টস কেবিনেট ম্যানুয়েল-২০১৫-এ এই স্টুডেন্টস কেবিনেট গঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে বলা হইয়াছে। যেমন—শিশুকাল হইতে গণতন্ত্রের চর্চা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, অন্যের মতামতের প্রতি সহিষ্ণুুতা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন, বিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন কার্যক্রমে শিক্ষকমণ্ডলীকে সহায়তা করা, বিদ্যালয়ে ১০০ শতাংশ ছাত্র ভর্তি এবং ঝরিয়া পড়া রোধে সহযোগিতা করা, শিখন-শিখানো কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। নিয়ম অনুযায়ী আটটি খাতে আট জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। এই আটটি খাত হইল : পরিবেশ সংরক্ষণ (বিদ্যালয়, আঙিনা ও টয়লেট পরিষ্কার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা), পুস্তক ও শিখনসামগ্রী, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, পানিসম্পদ, বৃক্ষরোপণ ও বাগান তৈরি ইত্যাদি, অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। নির্বাচিত আট জন বসিয়া একজনকে তাহাদের কেবিনেট প্রধান নির্বাচন করেন এবং প্রতি শ্রেণি হইতে দুই জন করিয়া তাহাদের সহযোগী মনোনীত করেন। এইভাবে কেবিনেট মেম্বারের সংখ্যা দাঁড়ায় মোট ১৮ জন।

জাতীয় নির্বাচনের আদলেই এই নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হইয়াছে এবার। এমনকি প্রচার-প্রচারণার জন্য কমপক্ষে ১০ দিন সময় নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচন কমিশনারগণ এমন ব্যবস্থা করেন, যাহাতে সকল প্রার্থী সকল শিক্ষার্থীদের নিকট ভোট চাওয়ার সমান সময় ও সুযোগ পায়। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডও নিশ্চিত করা হয়। ইহা যথেষ্ট তাত্পর্যপূর্ণ।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর