সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ৪:১৪ এএম


স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আসছে নীতিমালা

সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশিত: ১০:১৯, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৫২, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বছরের শুরু ও মাঝে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নানা সময়ে নানা হারে বেতন বৃদ্ধির কারণে সাধারণ অভিভাবকদের নাভিশ্বাস ওঠে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েন নির্ধারিত আয়ের অভিভাবকরা, যাদের একাধিক সন্তান পড়াশোনা করে। অভিভাবকদের কাছ থেকে

গলাকাটা টিউশন ফি আদায় বন্ধে এবার উদ্যোগী হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বেপরোয়া টিউশন ফি আদায়ের লাগাম টানতে তৈরি করা হচ্ছে `টিউশন ফি নীতিমালা-২০১৯`। এ নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানভেদে টিউশন ফি নির্ধারণ করে দেবে সরকার। রাজধানী ঢাকা, অন্যান্য মেট্রোপলিটন সিটি, জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ের এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি ঠিক করতে এরই মধ্যে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদ এ কমিটির প্রধান। নীতিমালা প্রণয়ন করতে এ কমিটিতে তার সঙ্গে আরও রয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (অডিট ও আইন) আহমদ শামীম আল রাজী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আনোয়ারুল হক।

এ কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ রোববার বলেন, `আমরা টিউশন ফির নীতিমালা ঠিক করতে কাজ শুরু করেছি। কাজ এরই মধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে কাজটি শেষ করতে পারব বলে আশা করছি।`

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, `টিউশন ফি নির্ধারণ করে দেওয়া খুবই জরুরি। কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বছরে কয়েকবার করে ছাত্র বেতন বাড়িয়ে দেয়। এতে অভিভাবকরা চরম বিপদে পড়েন। সরকার এর আগে ভর্তির নীতিমালা জারি করে ভর্তি ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। এবার টিউশন ফি ঠিক করে দেওয়া হলে শিক্ষা-বাণিজ্যের লাগাম টানা যাবে।` এই অভিভাবক নেতা বলেন, খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কোটি কোটি টাকার আয়-ব্যয়ের হিসাব কাউকে জানতে দেয় না। সরকার ও অভিভাবকদের এই তথ্য জানা থাকতে হবে। না হলে এই বাণিজ্য বন্ধ হবে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অভিভাবকরা দীর্ঘদিন থেকেই মন্ত্রণালয়ের কাছে যৌক্তিক টিউশন ফি নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও দায়িত্ব নিয়েই প্রথম সমন্বয় সভায় গলাকাটা ফি আদায় বন্ধে গুরুত্ব দেন। সর্বশেষ চলতি বছর জেলা প্রশাসক সম্মেলনে জেলা প্রশাসকরাও এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর