বৃহস্পতিবার ২০ জুন, ২০১৯ ২২:১১ পিএম


সোমবার ছুটি নিতে আবেদনের হিড়িক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৩০, ৩১ মে ২০১৯  

প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ঈদের আমেজ। মাঝখানে একটি মাত্র কর্মদিবস আগামী সোমবার ছুটি নিয়ে বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী গতকাল বৃহস্পতিবারই গ্রামের বাড়ি রওনা হন। ওই একদিন ছুটি নিতে আবেদনের হিড়িক পড়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অনুবিভাগে। এই একদিনের ছুটির ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিবারের সঙ্গে টানা ৯ দিনের ছুটির আনন্দ ভোগ করতে পারবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, অন্যান্য ঈদের তুলনায় এবার ছুটি চেয়ে আবেদন পড়েছে অনেক বেশি। সবারই বক্তব্য- একদিন ছুটির পেলে স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে যানজটে আটকা পড়তে হবে না। এই চিন্তা করে অনেকে আগেই টিকিট কেটেছেন। তিনি আরও জানান, এ কারণে ছুটি না দিয়েও পারা যাচ্ছে না।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি শাখার অতিরিক্ত সচিব রইছ উদ্দিন বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন জুন ছুটি দেওয়া হয়নি। তবে কেন দেওয়া হয়নি সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারব না। কারণ, ছুটি দেওয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যেটা ভালো মনে করেন, সেটাই সিদ্ধান্ত নেবেন।

এ ব্যাপারে কয়েকজন অতিরিক্ত সচিব বলেছেন, তারা ৩ জুন অফিস করতে ইচ্ছুক। তবে সাপোর্ট স্টাফ না থাকলে সচিবালয়ে এসে কী হবে? বিশেষ করে দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা যদি ছুটি নেন, তাহলে তো তাদের সচিবালয়ে আসাই মুশকিল হবে। ফলে এদিন একটি অঘোষিত ছুটির দিন হিসেবে পালিত হতে যাচ্ছে সচিবালয়ে।

সচিবালয়ে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে শতকরা ৭০ থেকে ৯০ ভাগই ৩ জুন ছুটির আবেদন করেছেন। উচ্চপদস্থ দু-একজন কর্মকর্তা ছাড়া অধিকাংশই ওইদিন ছুটির আবেদন করেছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ শাখার কর্মকর্তাদের ছুটির সংখ্যাও অনেক বেশি।

জানা যায়, যারা ৩ জুন ছুটি নিয়েছেন, তাদের ঈদের আগের বা পরের ছুটিগুলোকে নিজের ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়েছে। অর্থাৎ যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ৩ জুন ছুটি নিয়েছেন; তাদের ৩১ মে, ১ জুন ও ২ জুনও ছুটি নিতে হয়েছে। অথবা ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৮ জুনও ছুটি নিতে হবে। তারা এসব ছুটিকে নৈমিত্তিক ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবেন। সংশ্নিষ্টদের যদি নৈমিত্তিক ছুটি না থাকে, তাহলে তাদের অর্জিত ছুটির সঙ্গে এসব ছুটি সমন্বয় হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সচিব বলেন, এবার ঈদের আগে ও পরে রাষ্ট্রীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ নেই। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিদেশ সফরে আছেন। এর মধ্যে একদিনের ছুটি ঘোষণা করলে টানা ৯ দিনের ছুটির আনন্দে ভাসতো দেশ। ঈদ-আনন্দ ভাগাভাগি করতে সবাই তখন নিশ্চিন্ত মনে ছুটিতে যেতে পারত গ্রামের বাড়ি। লম্বা ছুটির কারণে রাস্তাঘাটের ওপরও চাপ কমতো, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও স্বস্তি মতো দায়িত্ব পালন করত।

সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের অফিস সময় ও ছুটি নির্ধারণ করে মন্ত্রিসভা। `অ্যালোকেশন অব বিজনেস` অনুযায়ী ছুটির বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি শাখা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন সাধারণ ছুটি। এ ছাড়া এ দুই ঈদের আগের ও পরের দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকে।

এবার বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, রমজান মাস ২৯ দিন ধরে নিয়ে ৪, ৫ ও ৬ জুন ঈদুল ফিতরের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রোজা ৩০টি হলে ঈদ হবে ৬ জুন, সেক্ষেত্রে ৭ জুনও ঈদের ছুটি থাকবে। ৫ জুন ঈদ হলে তিন দিনের ঈদের ছুটির সঙ্গে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ৪ থেকে ৮ জুন টানা পাঁচ দিন ছুটি পাওয়া যাবে।

৪ জুন ঈদের ছুটি শুরুর আগে ২ জুন থাকবে শবেকদরের ছুটি। এরপর ৩ জুন শুধু অফিস খোলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাহী আদেশে ওই দিন ছুটি ঘোষণা করলে টানা নয় দিনের ছুটি পেতেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ২০১৬ সালে রোজার ঈদের সময় প্রধানমন্ত্রী একদিন ছুটি ঘোষণা করায় টানা নয় দিনের ছুটি মেলে।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর