মঙ্গলবার ২৫ জুন, ২০১৯ ১৩:২৪ পিএম


সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি: শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ করবেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭:৩৭, ১০ জুন ২০১৯  

নতুন শিক্ষানীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরীক্ষা পদ্ধতিও যুগোপযোগী করার চেষ্টা চলছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল প্রশ্ন চালু তারই অংশ। এ পদ্ধতি চালুর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্নিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর কর্তৃপক্ষ সচেতন ছিল না- সেটা বলা যাবে না। বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে পাঠদান, প্রশ্নপত্র তৈরি, উত্তরপত্র মূল্যায়নসহ সংশ্নিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। কিন্তু চাহিদার সঙ্গে জোগানে অসঙ্গতি থেকে যাচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এর শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তাদের শিক্ষায় ঘাটতি থাকছে। পরীক্ষার ফল কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হচ্ছে না। রোববার সমকালে প্রকাশিত `সৃজনশীল প্রশ্ন :শিক্ষকরাই বোঝেন না, শিক্ষার্থীর কী হবে` শিরোনামের প্রতিবেদনে এ বিষয়টির প্রতি সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে তথ্যের উৎস মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর-মাউশি। সনাতনি পদ্ধতির পরিবর্তে সৃজনশীল পদ্ধতির পরীক্ষা চালুর কারণে কী কী সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেটা জানায় তাদের সমীক্ষার উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু এর যে ফল মিলেছে, সেটা গভীর উদ্বেগের কারণ বৈ কি। সমীক্ষা বলছে, প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষক সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি ভালোভাবে বোঝেন না। তবে সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমীক্ষায় বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ফুটে ওঠেনি। শিক্ষা কার্যক্রমে বিভিন্নভাবে যুক্তদের কারও কারও ধারণা, মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষক এ ধরনের পাঠদান, প্রশ্নপত্র তৈরি ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিষয়টি আয়ত্ত করতে পেরেছেন। এ চিত্র থেকে কী করণীয়, সেটাও কিন্তু স্পষ্ট হয়ে যায়- শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রদান এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক বছর আগে যাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে, তাদের পুনঃপ্রশিক্ষণের বিষয়টির প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় শিক্ষক সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। মাউশির সমীক্ষাই বলছে, এক লাখ ৮০ হাজার শিক্ষককে জরুরি ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। এটাও মনে রাখতে হবে, প্রশিক্ষণ হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি বিবেচনা থেকে। এমনটি কোনোভাবেই কাম্য নয় যে, সৃজনশীল পাঠদান ও পরীক্ষা পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের কার্যক্রম শেষ হতে না হতেই পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড এবং শিক্ষা প্রশাসন ও পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্তরা একসঙ্গে বসে বিষয়টি বিবেচনা করে যথাযথ সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন- এটাই কাম্য। একসময় বিভিন্ন বিষয়ে অবজেকটিভ টাইপের জন্য অর্ধেক নম্বর রাখা হতো। এখন তা ক্রমে কমিয়ে আনা হচ্ছে। সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে না- সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া চাই। নইলে প্রশিক্ষণের জন্য ব্যয় একেবারেই পানিতে ফেলা হবে। যাই করুন না কেন, ভেবেচিন্তে করুন। ছাত্রছাত্রীদের গিনিপিগ করবেন না।


এডুকেশন বাংলা/এজেড

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর