শনিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৩:২৯ পিএম


সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে জাবি শিক্ষার্থীর অনশন

জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:৫৩, ২৬ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৯:১১, ২৬ জানুয়ারি ২০২০

সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ এবং তা বন্ধের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৪৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আদিব আরিফ। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শনিবার থেকে তিনি অনশনে বসেছেন। তবে রাতে নিরাপত্তা শঙ্কায় রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান করেছেন; সকালে আবারও প্রেসক্লাবের সামনে অনশনে বসেছেন তিনি।

আদিব আরিফ চার দফা দাবিতে অনশনে বসেছেন। চার দফা দাবিগুলো হলো:
১. ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সকল হত্যার আন্তর্জাতিক আইনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
২. ভারতকে সীমান্ত হত্যার জন্য ক্ষমা চেয়ে আর হত্যা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
৩. সীমান্তে হত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারকে তদন্ত সাপেক্ষে দুই দেশের যৌথভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৪. বাংলাদেশের সংসদে সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদ করে নিন্দা জানাতে হবে।
অনশনে বসার কারণ হিসেবে আদিব বলেন, আমরা যে মানুষ এবং আমাদের যে হত্যা করা হচ্ছে, এই অনুভূতিটা এখন আর আমাদের মাঝে নেই। আমরা প্রতিদিন ধর্ষন করে হত্যা, নির্যাতনে হত্যা, ক্রসফায়ারে হত্যা, বোমা মেরে হত্যা শুনতে শুনতে একেবারে অনুভূতিহীন হয়ে গেছি। এই অনুভূতিটা তখনই জেগে ওঠে যখন নিজের বাবা, ভাই কিংবা বোন হয় এরকম ঘটনার শিকার হয়।

একটি পরিসংখ্যান দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১০ সাল থেকে ২০১৯ সালে সীমান্তে ভারত প্রায় ৩০০ মানুষ হত্যা করেছে। ২০১৯ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ৪৬। আর ২০২০ সালের প্রথম ২৬ দিনেই হত্যা করেছে ১৫ জন। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে সীমান্তে হত্যা তিনগুণ। আর এভাবে চলতে থাকলে ২০২০ সালে সংখ্যাটা ৪০০ ও ছাড়াতে পারে। কিছুদিন আগে দেখলাম ১১ বছর আগে বাবাকে মেরেছে বিএসএফ এবার মারলো ছেলেকে।’

আদিবের মতে, আমরাই ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য চার জনের হত্যার প্রতিবাদে পুরো দেশ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে লড়াই করেছি। সেই আমরাই স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে এসে চেতনাহীন হয়ে গেছি। এভাবে চলতে দেয়া যায়না; এভাবে চলতে পারে না। পাশের দেশ নেপালও দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে এক জন মানুষকেও মারলে তার প্রতিবাদ করতে হয়। এবার জেগে উঠুন, প্রতিবাদ করুন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা কত সময় কত কাজে সময় ব্যয় করি। আড্ডা দেই, ফোনে গেম খেলে নষ্ট করি। এবার একটু বাস্তব জীবনে আসুন। দশটা মিনিট দেশের জন্য প্রতিবাদ করুন। ভাইয়ের জন্য দাড়াঁন, দেশের জন্য দাড়াঁন। আর কোন হত্যা নয়, এবার হবে প্রতিবাদ।


এডুকেশন বাংলা / এসআই

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর