রবিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:৩৪ এএম


সিদ্ধেশ্বরী গার্লস  স্কুলে কথায় কথায় টাকা আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:৩৪, ১৭ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৮:৫২, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস পার্টির নামে ছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত  টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ছাত্রীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি, সেশন ফি, মাসিক বেতন, পরীক্ষা ফিসহ অন্যান্য খাত থেকেও বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

টাকা না দিলে ছাত্রীদের মানসিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে  অভিভাবকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। উল্টো অভিযোগকারী অভিভাবকদের সন্তানদের স্কুল থেকে বের করে দেয়ার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। এডুকেশন বাংলা‘র কাছে এমন অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

রশিদ ছাড়াই টাকা আদায়

অভিভাবকরা জানান, রাজধানীর বেইলী রোডে সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অবস্থান। এই প্রতিষ্ঠানে বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সন রয়েছে। দুই শিফটে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৪০০। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ক্লাস পার্টির নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।  বার্ষিক পরীক্ষা উপলক্ষে ক্লাস পার্টির জন্য প্রথম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ৫০০টাকা ও ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ৭০০ টাকা বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে এই টাকা না দিলে পরীক্ষার প্রবেশপত্র দেয়া হবে না বলে ছাত্রীদের হুঁশিয়ার করা হয়। তবে ওই ফি’র কোনো রশিদ দেয়া হয়নি। গত ১২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটিতে ক্লাসটি পার্টি অনুষ্ঠিত হয়।

শুধু তাই নয়, চলতি বছর স্কুলে ডেঙ্গু মশা নিধনে ফগার মেশিন কেনার নামে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবছর মাল্টি মিডিয়া ক্লাসের নামে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ৫০০ টাকা আদায় করা হয়। এছাড়াও দুই মাস তিন মাস পর পর গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হয় ছাত্রীদের। এমনকি স্কুলের টয়লেট টিস্যু, সাবান কেনার টাকাও ছাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অভিযোগ

গত এপ্রিলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন অভিভাবকরা। ওই অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি, সেশন ফি ও মাসিক বেতন  বৃদ্ধি, বিশেষ প্রকাশনীর গাইড বই কিনতে বাধ্য করা, স্কুলে কোচিং বাধ্যামূলক করা এবং বিভিন্ন খাত-উপখাত তৈরি করে উন্নয়ন খাতের নামে টাকা আদায় করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। যা অভিভাবকদের পক্ষে দেয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।  এর প্রতিকারের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ১৩টি দাবি উপস্থাপন করেন অভিভাবকরা।

অভিভাবকরা জানান, শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে হুমকি দেয়া হয়েছে। স্কুল থেকে ছাত্রী বের করে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয়। তাই নিরুপায় হয়ে সব মেনে নিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

অপসারণের পর ফের ফিরিয়ে আনা হয় দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষককে

অভিভাবকদের অভিযোগ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন মোল্লাকে অনিয়ম-দুর্নীতির দায়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। পরে তাকে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলে নিয়ে আসেন সভাপতি ময়না। এরপর থেকেই দুজনে মিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিকরণের মাধ্যমে দুর্নীতির আখরায় পরিণত করেছেন।

প্রধান শিক্ষক নিজেই বললেন প্রধান শিক্ষক অফিসে নেই!

এ সব অভিযোগের সত্যতা জানার জন্য শনিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে  প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন মোল্লার সাথে স্কুলের বিটিসিএল নম্বরে কল করা হয়। প্রথমে ফোন রিসিভ করে কথাও বলেন তিনি। কিন্তু এক পর্যায়ে অভিযোগুলোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রধান ‍শিক্ষক এখন অফিসে নেই।’

প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করা হয় তাহলে আপনি কে?  উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি হারুন’। এরপর ফোনটি বিচ্ছিন্ন করেন দেন তিনি। এরপর আরো কয়েকবার ফোন করা হলেও  তিনি রিসিভ করেননি।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বক্তব্য

তবে এডুকেশন বাংলার কাছে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ রইসুল ইসলাম ময়না। তিনি বলেন, ‘আমি সবার সহযোগিতা চাই। কিন্তু কিছু মানুষ অসহযোগিতা করে।’

তিনি বলেন, আমার জানা মতে, ক্লাস পার্টির টাকা বাধ্যতামূলক কোনো ছাত্রীর কাছ থেকে নেয়া হয়নি। ছাত্রীরা নিজেরাই এটা করেছে।

ছাত্রীদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে টয়লেট টিস্যু ও সাবান নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কৌশলী জবাবে বলেন, আপনি, আমি স্কুল-কলেজে পড়াশুনা করেছি, তখন কি টয়লেট ব্যবহার করতে পেরেছি?

ছাত্রীদের কাছ থেকে মশা নিধনে ফগার মেশিন কেনার টাকা নয়, মশা নিধনের ওষুধ কেনার জন্য টাকা নেয়া হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

প্রতিবছর মাল্টি মিডিয়া ক্লাসের নামে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ৫০০ টাকা আদায়, দুই মাস তিন মাস পর পর গাইড বই কিনতে ছাত্রীদের বাধ্য করার অভিযোগও মিথ্যা বলেন দাবি করেন সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ রইসুল ইসলাম ময়না।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে যেসব অভিভাবক অভিযোগ করেছেন তাদের সন্তানদের স্কুল থেকে বের করা দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ রইসুল ইসলাম ময়না বলেন, অভিযোগকারীরা অভিভাবক নয়। যারা অভিযোগ করছেন, তারা ভাল কাজ নষ্ট করছেন।

 

এডুকেশন/কেআর/এসআই/ এসএম

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর