বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২:২১ এএম


সিইনএড স্কেল ক্ষতি বনাম ডিপিএড স্কেল ক্ষতি

মো. আবদুর রহিম

প্রকাশিত: ১১:১১, ১৪ আগস্ট ২০২০  

ইতিমধ্যে আমরা সকলেই জানতে পেরেছি যে এ পর্যন্ত যত শিক্ষক সি ইন এড বা ডিপিএড পাশ করার পর প্রশিক্ষণ স্কেল পেয়েছেন, সবারই বেতন কমে গেছে।
আমার কিছু শিক্ষক বন্ধু যারা নতুন ডিপিএড করেছেন তারা শুধু বলছেন ডিপিএড করার সাথে সাথে উনাদের বেতন কমে গেছে। অথচ ওনারা সি-ইন-এড ধারীদের কথা বলছেন না। সেজন্যই আজকে আমার এই লেখা।
সিইএড স্কেলের ক্ষতিঃ
সি ইন এড পাশ করার পর প্রশিক্ষণ স্কেল পাওয়ার সময় নিম্নধাপে বেতন নির্ধারণ করা হতো এবং অবশিষ্ট বেসিক পিপি আকারে দেওয়া হতো যা পরবর্তিতে সমন্বয় হতো। এতে একটা ইনক্রিমেন্ট কমে যেতো।
উদাহরণঃ ২০০৯-২০১০ শেষনে সিইনএড করে ৫২৩০ টাকা বেসিকের বিপরীতে নতুন বেসিক নির্ধারিত হয় ৫১৯০ টাকা+পিপি ৪০ টাকা। অথচ উচ্চধাপে বেতন নির্ধারিত হলে আমার বেসিক হতো ৫৪৮০ টাকা।
পিপি ৪০ টাকা পরবর্তী ইনক্রিমেন্টে সমন্বয় করা হয়। তাহলে ২০১০ সাল হতেই আমি একটি ইনক্রিমেন্ট কম পাচ্ছি।
ডিপিএড স্কেলের ক্ষতিঃ
২০১৫ সালের নতুন পে-স্কেল হওয়ার পর অতিরিক্ত পিপি আকারে যেটা পাওয়ার কথা সেটা না দিয়ে বেতন নির্ধারিত হতো প্রাপ্ত বেসিকের নিম্নধাপ। এবং এর অতিরিক্ত যেটা পিপি আকারে পাওয়ার কথা তা না দিয়ে সেটা সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হতো।
যেমনঃ ডিপিএড স্কেল পাওয়ার সময় কারো বেসিক যদি ১১২৪০ টাকা হতো তবে ১৪ তম গ্রেডে তার বেসিক হতো নিম্নধাপে ১০৭০০ টাকা। অথচ উচ্চধাপে দিলে বেসিক হতো ১১২৫০ টাকা।
পিপি না থাকায় অবশিষ্ট ৫৪০ টাকা ডিপিএড রেজাল্টের দিন হতে স্কেল লাগানো পর্যন্ত যে কয়মাস অতিবাহিত হয় সে কয় মাস ওভারড্রণ হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হতো।
তাহলে সিইনএড এবং ডিপিএড স্কেলের পার্থক্য কী?
মূলত পার্থক্যটা এমনঃ পূর্বে সিইনএড স্কেলে পিপি আকারে যা পাওয়া যেতো তা জমা দিতে হতোনা। বর্তমানে ডিপিএড স্কেলে পিপি পাওয়া যায় না উল্টো জমা দিতে হয়।  
অথচ দুটো প্রশিক্ষণেই বেতন নিম্নধাপে হওয়ায় শিক্ষকগণ একটি ইনক্রিমেন্ট কম পাচ্ছেন।
তাহলে আমাদের দাবিটা কী হওয়া উচিত?
আমাদের সকলকে দাবি তুলতে হবে
যেহেতু, দুটো প্রশিক্ষণেই অতীতে বেতন নিম্নধাপে নির্ধারিত হয়েছে,
যেহেতু, ২০২০ সাল হতে পরবর্তিতে যারা প্রশিক্ষণ নেবেন তাদের এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ নেই,
সেহেতু,  ২০২০ সালের আগে প্রশিক্ষণ স্কেল পাওয়া সকল শিক্ষককে একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট দিয়ে ফিক্সেশনের আদেশ দেয়া হোক।


লেখক: সহকারী শিক্ষক
দক্ষিণ দেবকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
শাহরাস্তি, চাঁদপুর।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর