রবিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১:১৪ এএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

সার্ক কোটায় সরকারি মেডিকেলে কাশ্মিরের ১৫ ‘ভুয়া মেধাবী’ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৩০, ২৯ জানুয়ারি ২০১৯  

২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষে সার্কভুক্ত দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত কোটায় ভারতের কাশ্মিরের ১৫ জন ‘ভুয়া মেধাবী’ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে লাখ লাখ টাকা গোপন লেনদেনের মাধ্যমে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুয়া সার্টিফিকেট ও জাল মার্কশিটের মাধ্যমে এ সকল শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৪ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) এর কাছে ভারতের জোনাল হেড কোয়ার্টার ক্রাইম ব্রাঞ্চ শ্রীনগর, কাশ্মির থেকে দেয়া এক চিঠিতে থেকে ১৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জাল মার্কশিটে ভর্তির অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে অনুরোধ জানানো হয়। তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

যে ১৫ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ভুয়া সার্টিফিকেট ও জাল মার্কশিট ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে তারা হলেন- ঢাকা মেডিকেলে দীক্ষা দেবি, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেলে ফজর ফারুক, তায়েবা আফতাব, সাকিরা শওকত ভাট, আহমেদ মুশফিক রাথার, শহীদ সোহরোওয়ার্দী মেডিকেলে সৈয়দ তাবিশ মঈন, সোহায়েব জাহুর, আদিবা রউফ, ইফরা নায়েক, ময়মনসিংহ মেডিকেলে তোবা শাহ, হাশিম শওকাত লাহারওয়াল, হুদা ওয়ানী, রংপুরে মেডিকেলে জিসান মেহেদি হোসাইন, হানান গণি ও ফাতিমা শিকদার ওয়ানি।

কাশ্মির থেকে প্রকাশিত ‘গ্রেটার কাশ্মির’ নামে একটি দৈনিকে ফাহিম রশিদ নামে এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তিনি ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত ১২তম ক্লাসের (দ্বাদশ শ্রেণি) বার্ষিক পরীক্ষায় ৫০০ নম্বরের মধ্যে ৪৯১ নম্বর পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি বায়োলজিতে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯৯ নম্বর পেয়েছেন। ওই বছর তার সঙ্গে যারা পরীক্ষা দিয়েছেন তাদের মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ নম্বর পান। তিনি আশা করেছিলেন, যেকোনো বিবেচনায় তিনি মেধাবী কোটায় ভর্তির সুযোগ পাবেন কিন্তু তিনি তা পাননি। মূলত তার অভিযোগের ভিত্তিতে থলের বিড়াল বের হতে শুরু করে।

ফাহিম রশিদ জানান, তার ব্যাচের আটজন সার্ক কোটায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছে যারা মেধাতালিকা প্রথম ১০ থেকে ১৫ জনের মধ্যেও নেই। নিয়মানুযায়ী যারা শতকরা ৯৫ ভাগ নম্বর পান তারাই সার্ক কোটায় ভর্তির সুযোগ পান। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীরা তা পাননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক সূত্র জানায়, সার্ক কোটায় ভুয়া সার্টিফিকেটে ভর্তির ঘটনা এটাই প্রথম নয়। মন্ত্রী, সচিব, রাজনৈতিক ও চিকিৎসক নেতাদের নাম ভাঙিয়ে এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা গোপন আর্থিক লেনদেন করে ভুয়া সার্টিফিকেটে অতীতেও সরকারি মেডিকেলে ভর্তি করেছে। কমিটি গঠন করে তদন্ত করলে সে সব ঘটনা উদঘাটিত হবে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রশীদ আজ (মঙ্গলবার) সকালে বলেন, ‘সার্ক কোটায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা হয়। সেখান থেকে আবেদনপত্র ও সার্টিফিকেট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আসে। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে সার্ক ও নন সার্ক কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য একটি কমিটি রয়েছে।

তিনি জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চিকিৎসা শিক্ষা) ও তিনি যথাক্রমে এ কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিব। এ কমিটিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তারা যাচাই-বাছাই করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুপারিশ করেন। কমিটির কাউকে উৎকোচ দিয়ে ভর্তির কোনো সুযোগ নেই।

কাশ্মিরের ১৫ জন শিক্ষার্থী জাল সার্টিফিকেট দিয়ে ভর্তির অভিযোগ উঠেছে এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে, বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত করে দেখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর