বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ৯:২৮ এএম


সান্ধ্য কোর্স নিয়ে যা বললেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা: পর্ব-১ (ভিডিও)

মহিউদ্দিন রাসেল

প্রকাশিত: ১৯:৫২, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৩:০৪, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্স নিয়ে ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির নিয়মিত শিক্ষার্থীরা । একইসাথে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে চালু থাকা সান্ধ্যকালীন কোর্সগুলো বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এডুকেশন বাংলার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় ঢাবির কয়েকজন শিক্ষার্থী এ ক্ষোভ ও দাবির কথা জানান। রোববার (১৫ ডিসেম্বর) এডুকেশন বাংলার পাঠকদের জন্য প্রথম পর্ব প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. নিশাদুর রহমান এডুকেশন বাংলাকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যমান সান্ধ্য কোর্স নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন যে সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ,তার সাথে আমি সম্পূর্ণভাবে একমত পোষণ করছি। আমি চাই এটি দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। সান্ধ্য এই কোর্সগুলোর কারণে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যেটা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কখনোই কাম্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে সান্ধ্য কোর্সের দ্রুত বাতিল দাবি করছি।

ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ইসমাঈল হোসেন সিরাজী এডুকেশন বাংলাকে বলেন, সান্ধ্য কোর্সটা মূলত তারাই করে; যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নয়। আমরা জানি যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী আর বাহিরের শিক্ষার্থীদের মেধা সমান নয়। আবার ইভিনিং কোর্সে অধিকাংশই ভর্তি হয় চাকুরীজীবীরা। তারা এখান থেকে টাকার বিনিময়ে ডিগ্রী নিয়ে যায়। আর সেই ডিগ্রী দিয়ে কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি লাভ করে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ঢাবি থেকে তারা যে সার্টিফিকেটটা নিচ্ছে, সেটা মেধা অনুযায়ী নিচ্ছে না। আর এ সার্টিফিকেট দিয়ে তারা পদোন্নতি পেলেও কর্মক্ষেত্রে পরিপূর্ণ স্কিল প্রদর্শন করতে পারছে না। ফলে তারা যে কর্মক্ষেত্রে যাচ্ছে সেখানে ঢাবির নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ন্যায় আত্মমর্যাদাবোধ, কর্মদক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে। আর এতে ঢাবির সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

এ শিক্ষার্থী আরো বলেন, ইউজিসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা অত্যন্ত যৌক্তিক। রাষ্ট্রপতি মহোদয়ও এব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তারা অর্থনৈতিক মোহ ত্যাগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রতি সচেতন হবেন।

ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের ব্যাংকিং এণ্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সানজেদুল আলম এডুকেশন বাংলাকে বলেন, আমি মনে করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্য কোর্সগুলো বন্ধ হওয়া উচিত। এ কোর্সগুলোর কারণে আমরা ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। এটার কারণে আমরা নিয়মিত শিক্ষার্থীরা যথোপযুক্ত শিক্ষাটা পাচ্ছি না এবং আমাদের একাডেমিক কার্যক্রম ধীরগতি হয়ে গেছে। আমাদের ক্লাস-পরীক্ষাও অনেকসময় যথাসময়ে নেয়া হচ্ছে না। এসব দিক বিবেচনা করে আমি মনে করি, ঢাবির সান্ধ্য কোর্সগুলো বাতিল করা উচিত।

উর্দু বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন এডুকেশন বাংলাকে বলেন, সান্ধ্য কোর্সগুলোর কারণে আমরা নিয়মিত শিক্ষার্থীরা পড়াশুনায় অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। এটি বন্ধ করা অতীব জরুরী। তার কারণ হলো, এ কোর্সগুলোতে শিক্ষকরা ব্যবসায়িক মন মানসিকতা নিয়ে পড়ান। আর এটা করতে গিয়ে তাদের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের কি পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে; সেদিকে তাদের কোনো খেয়ালই থাকে না। এ কোর্সগুলো অবিলম্বে বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে তার স্বতন্ত্র ধারায় ফিরিয়ে আনা হোক।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্টপতি মো. আব্দুল হামিদ সান্ধ্যকালীন কোর্সের সমালোচনা করে এগুলো বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এরপর বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সান্ধ্য কোর্স বন্ধসহ ১৩ দফা নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসির নির্দেশনা জারির পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় , কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নোটিশ দিয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের কথা জানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান গণমাধ্যমে ইভিনিং কোর্স বন্ধ করা হবে বলে জানালেও এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখনো কোনো অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত আসেনি।

এডুকেশন বাংলা / এমআর/এসআই/কেআর

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর