বুধবার ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:৩৬ পিএম


সাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো গবেষণা প্রকল্প পরিচালিতই হয়নি

সাইফ সুজন

প্রকাশিত: ০৮:৩৭, ১৯ জুন ২০১৯   আপডেট: ০৮:৩৮, ১৯ জুন ২০১৯

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনই (ইউজিসি) বলছে, ২০১৭ সালে দেশের মোট ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটিতে কোনো গবেষণা প্রকল্প পরিচালিত হয়নি। এর মধ্যে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় কোনো অর্থই বরাদ্দ করা হয়নি।

গবেষণা প্রকল্প না থাকা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়।

বস্ত্র শিল্পে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়। দেশে পোশাক শিল্পের অগ্রগতির লক্ষ্যে আধুনিক মানের টেক্সটাইল প্রকৌশলী গড়ে তুলতে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠা হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়। ইউজিসি প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। গবেষণা খাতে কোনো ব্যয় ও বরাদ্দও নেই তাদের। তাই বাস্তবায়ন হয়নি কোনো ধরনের গবেষণা প্রকল্প।

বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকরা বিভিন্ন ধরনের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আগের তুলনায় এ খাতে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। গবেষণার জন্য অর্থ বরাদ্দও রাখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে তথ্যের অসংগতি থাকতে পারে।’

ইউজিসির দেয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওই বছর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৫০৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৭ সালে ২৮৪টি গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭ সালে গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে ২০৭টি।

অন্যদিকে গবেষণা খাতে ব্যয়ের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৭ সালে গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যয়ের পরিমাণ ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। গবেষণা ব্যয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭ সালে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ওই বছর তৃতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ব্যয় ছিল ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছরই খোলা হচ্ছে নতুন নতুন বিভাগ। বাড়ছে শিক্ষক সংখ্যাও। তবে এর কোনো প্রভাবই দেখা যাচ্ছে না গবেষণা ক্ষেত্রে। ভালো গবেষণা না থাকায় আন্তর্জাতিক মানের কোনো প্রকাশনাও বের হচ্ছে না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বরাদ্দ, গবেষণার চেয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস নিতে শিক্ষকদের অতি আগ্রহ, কনসালট্যান্সি ও প্রেষণে অন্যত্র চাকরির প্রতি আগ্রহ এবং গবেষণার গুরুত্ব অনুধাবন না করাকেই এর কারণ বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা প্রকল্প পরিচালিত হয় না বা গবেষণা ক্ষেত্রে ব্যয় বরাদ্দ দেয়া হয় না, সেগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় বলা যাবে না; সেগুলোর মান কলেজ পর্যায়ের।

গবেষণাবিহীন শিক্ষার মাধ্যমে সনদধারী শিক্ষিতের সংখ্যা বাড়লেও তৈরি হচ্ছে না দক্ষ জনশক্তি। যার ফলে দেশের অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে উচ্চ বেতনে বিদেশী কর্মী নিয়োগ দিতে হচ্ছে। এতে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা।

সার্বিক বিষয়ে ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ইউজিসির দায়িত্বে থাকাকালীন গবেষণা খাতের দুরবস্থার চিত্র দেখতে পেয়েছি। বিভিন্ন ধরনের ফেলোশিপ ও গবেষণা অনুদানের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এর পরও শিক্ষকদের গবেষণায় আগ্রহ অনেক কম। সবাই এখন ডিগ্রি প্রদান ও অর্জন নিয়ে ব্যস্ত। শিক্ষকরা বেশির ভাগ সময় শিক্ষাদানে ব্যস্ত থাকেন। অবসরে গবেষণা করার কথা থাকলেও অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিয়ে থাকেন। গবেষণা করার জন্য মানের শিক্ষকের সংখ্যাও অপ্রতুল। শিক্ষার্থীদের মাঝেও এ বিষয়ে আগ্রহ অনেক কম। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষগুলো গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দও রাখে না। আবার বরাদ্দ রাখলেও সেগুলো খরচ করে না।’

সৌজন্যে: বণিক বার্তা

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর