সোমবার ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ১১:৪৯ এএম


সহযোগী অধ্যাপক নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:১০, ২ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ০৮:১১, ২ আগস্ট ২০১৯

ঢাকার সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের সার্বক্ষণিক সেবা দিতে একজন সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি সব হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা করতেও বলা হয়েছে।

ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণুবাহক এডিস মশা নিধনে ওষুধ আমদানির বিষয়ে তিন দফা শুনানির পর বৃহস্পতিবার বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এছাড়া এডিস মশা নিধনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ওষুধ আমদানি করতে দুই সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর এ বিষয়ে সব ধরনের সহায়তা করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট যাতে স্বল্পমূল্যে দ্রুততম সময়ে সরবরাহ করা হয় সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে। যারা ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে যাবেন, মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের সবার চিকিৎসা বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সংকট মোকাবেলায় সম্ভব হলে সরকারকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ওষুধ আমদানি করে দুই সিটি কর্পোরেশনসহ সব সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভাসহ দেশব্যাপী সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ১৮ আগস্ট হাইকোর্টের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিয়ে আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়। এর আগে মশা নিধনে কার্যকর ওষুধ আনতে কত দিন লাগবে, তা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। দুই সিটি কর্পোরেশন ও রাষ্ট্রপক্ষকে সুনির্দিষ্টভাবে তা হলফনামা আকারে জানাতে বলা হয়েছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপু। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সায়রা ফাইরোজ।

আদেশের পর সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট অর্থাৎ জিটুজি পদ্ধতির মাধ্যমে মশা মারার ওষুধ আমদানিতে অসুবিধা কোথায়। আমি বললাম, এটা আমার জানার দরকার। এজন্য আমাকে ১ ঘণ্টা সময় দিলেন। ১ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে আমি সব মহলের সঙ্গে ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। যেহেতু এটায় (ওষুধ) মানবদেহে কোনো প্রভাব আছে কিনা সেটাও আমাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দরকার। এটা পৃথিবীর কোনো দেশে সরকারিভাবে প্রসেস করা হয় না। বেসরকারি খাতে এটা প্রস্তুত করা হয়। সুতরাং, সিটি কর্পোরেশন হল একমাত্র প্রতিষ্ঠান মশা নিধনের জন্য। মন্ত্রণালয় হিসেবে সার্বিক সহযোগিতা করব। আমদানি করতে গিয়ে দূতাবাস, প্রয়োজনীয় অর্থ, জনবল যা যা দরকার সব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তা দেবে।

ডেঙ্গু ও এডিস মশা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর-প্রতিবেদন নজরে আসার পর ১৪ জুলাই হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগরীতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহী অন্যান্য রোগের বিস্তার রোধে এডিসসহ মশা নির্মূলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নিতে বলা হয় ওই আদেশে।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর