রবিবার ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৩ পিএম


সরকারি মাধ্যমিক: বিএড না করেও সিনিয়র গ্রেডেশন তালিকায়!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:০৫, ৩১ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ০১:৪৫, ১ নভেম্বর ২০১৯

গত মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারি শিক্ষকদের সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য ৫৮৫৪ জনের খসড়া গ্রেডেসন তালিকা প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। তালিকা প্রকাশের পর বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে আলোচনা সমালোচনা।

বিশেষ করে সিনিয়র গ্রেডেশন তালিকায় হবিগঞ্জ জেলার বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষকের নাম থাকা নিয়ে তাদের সাবেক এবং বর্তমান সহকর্মীরা ফেসবুকে প্রশ্ন তুলেছেন ।

২০১১ এর নীতিমালা অনুযায়ি সরকারি মাধ্যমিকের একজন সহকারি শিক্ষকের সিনিয়র গ্রেড পাবার প্রথম শর্ত হলো দ্বিতীয় বিভাগ পেয়ে বিএড কোর্স সম্পন্ন করা। যা চাকরিতে যোগদানের ৫ বছরের মধ্যেই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রেষণ মঞ্জুরের মাধ্যমে ছুটি নিয়ে করতে হয়। ওই শিক্ষকদ্বয় বিধিমালার এই প্রধান শর্তটি লঙ্ঘণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পাবনা জিলা স্কুলের সহকারি শিক্ষক জাহান রোকশানা দুইজন শিক্ষক সম্পর্কে ফেসবুকে লিখেছেন ` শুধু কি তাই আমার জানামতে এই (গ্রেডেশন তালিকা) লিস্টে দুইজন শিক্ষক আছেন যারা বিএড করেননি, কিন্তু পিডিএস-এ বিএড যোগ্যতা ২০১২ দেখিয়েছেন, এই গ্রেডেশন তালিকায়ও তাদের বিএডসহ নাম দেখতে পাচ্ছি`। এই পোস্টের জবাবে হেমন্ত সরকার` নামে একজন শিক্ষক লিখেছেন সিরিয়াল নাম্বার বলুন অথবা ইনবক্সে দিন।` প্রতি উত্তরে জাহান রোকশানা লিখেছেন ৪২১৪, ৫০৭৫(গ্রেডেশন তালিকার নম্বর)। সেলিনা নাছরিন নামের আরেকজন শিক্ষক এই পোস্টের মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছেন ; এটা সত্য হলেতো খারাপ কথা, শিক্ষক হয়েও ছলনার আশ্রয় নেয়া কি ঠিক হলো`?। তারপর জাহান রোকশানা লিখেছেন, অবশ্যই সত্য, উনারা বিএড-এর বর্ধিত ইনক্রিমেন্ট পাননা, খোঁজ নিয়ে দেখেন। পরবর্তিতে উন্মুক্ত ভার্সিটি থেকে বিএড করেছেন ডিজির অনুমোদন ছাড়া, তাই এই সার্টিফিকেট ডিজি অনুমোদন দেয়নি এবং বর্ধিত ইনক্রিমেন্টটাও দেয়নি। উনাদের বেতন স্কেল যাচাই করলে বা বিএড সার্টিফিকেট যাচাই করলেই ভুল ধরা পড়বে। তবে উনাদের হাত অনেক লম্বা ধরতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে।`

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/120191031071002.jpg

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/bed20191031070816.jpg

গ্রেডেশন তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় তালিকায় থাকা ৪২১৪ ক্রমিক নম্বরের শিক্ষক হচ্ছেন হবিগঞ্জ জেলার বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক (ব্যবসায় শিক্ষা) মো. বিল্লাল হোসেন এবং ৫০৭৫ ক্রমিক নম্বরের শিক্ষক হচ্ছেন একই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক (ইংরেজি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/e20191031075139.jpg

এ বিষয়ে মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি এডুকেশন বাংলাকে বলেন, তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে বিএড করেছেন । মাউশি থেকে প্রেষনে ছুটি মঞ্জুর হয়েছিলো কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি ছুটির জন্য আবেদন করেছিলেন তবে মঞ্জুররের কোনো কাগজপত্র থাকার বিষয়টি এডুকেশন বাংলাকে নিশ্চিত করতে পারেন নি। এরপরই ফোনের লাইন কেটে দেন হাবিবুর রহমান।

 http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/b20191031075410.jpg

একই অভিযোগ থাকা বিল্লাল হোসেনকে(৪২১৪) কয়েকবার ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উল্লেখিত দুই শিক্ষকের বিষয়ে বিকেজিসি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধাংশু কুমার কর্মকার এডুকেশন বাংলা`কে বলেন,আমি তথ্য দেয়ার সময় মন্তব্যের কলামে লিখে দিয়েছি যে তারা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড করেছেন। তারপর কাগজপত্র ডিডি অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি। তবে মাউশি থেকে প্রেষনে ছুটি মঞ্জুরের কোনো সার্টিফিকেট তারা আমাকে দেখাতে পারেননি। তিনি বলেন, তাদের সিনিয়র গ্রেডেশন তালিকায় নাম থাকার ব্যাপারে আমার কোনো দায় নেই। তবে আমি আবারও বলছি প্রেষণ মঞ্জুরের কোনো সার্টিফিকেট তারা দেখাতে পারেন নি।`

গ্রেডেশন তালিকায় দেখা যায় ৪৪৬২ ক্রমিকে থাকা মৌলভীবাজারের আলী আমজাদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাওলানা মো গোলাম রাব্বানি ২০০৬ সালে চাকরি হলেও বিএড করেছেন ২০১৮তে। এবং রেজাল্ট হয়েছে ২০১৯-এ । সিনিয়র গ্রেডেশন তালিকার জন্য তথ্য প্রদানের সময় এই শিক্ষকের বিএড কোর্স চলমান। কিন্তু প্রকাশিত তালিকায় বিএড রেজাল্ট পাবার আগেই তার নামও সিনিয়র গ্রেডেশন তালিকাভুক্ত হওয়ায় শিক্ষকরা অবাক হয়েছেন।এছাড়া গ্রেডেশন তালিকার ৪১৭৫ ক্রমিকে থাকা বসুর হাট সরকারি এ এইচ সি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো.আব্দুর রহিম  `ইসলাম শিক্ষা` বিষয়ের শিক্ষক হয়েও ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসাবে সিনিয়র গ্রেডেশন তালিকায় স্থান পেয়েছে। 

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/bed220191031071844.jpg

মো. মুহিতুর রহমান নামের একজন শিক্ষক লিখেছেন ২০১৭ সালে মাধ্যমিক ছেড়ে অন্য চাকুরিতে যাওয়ার পরেও গ্রেডেশনে নাম দেখছি!!! তিনি তো কোন কাগজই পাঠাননি তবু তার নাম কিভাবে এলো?

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/grade20191031073906.jpg

অপরদিকে যোগ্যতা থাকা সত্বেও জগন্নাথপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জয়ন্ত শেখর রায়ের গ্রেডেশন তালিকায় নাম আসেনি।

শিক্ষকরা জানায় এসব অসঙ্গতির কারণে অনেক শিক্ষকই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সিনিয়রিটি পাবেন না। কিন্তু ভুল তথ্য দিয়ে অনেকেই অনৈতিকভাবে সিনিয়রিটি পাবেন। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. মো. আবদুল মান্নান এডুকেশন বাংলা`কে বলেছিলেন তালিকা প্রকাশ করার কারণ হলো কোনো ভুল ত্রুটি হয়েছে কিনা তা শিক্ষকদের অবহিত করার জন্য। পাশাপাশি সংশোধন পরিমার্জন করার জন্য।


এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর