শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:২১ পিএম


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ে ডিম, কলা ও পাউরুটি

শরীফুল আলম সুমন

প্রকাশিত: ১৩:৫০, ১৮ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৩:৫৭, ১৮ আগস্ট ২০১৯

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ে রান্না করা খাবারের পরিবর্তে ডিম, কলা ও পাউরুটির প্রস্তাব করা হচ্ছে। মূলত রান্না করার ঝামেলা থেকে মুক্ত হতে এই বিকল্প প্রস্তাবের কথা ভাবছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। রান্না করা খাবারের মতোই ডিম, কলা ও পাউরুটি শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিশ্বের অনেক দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিডডে মিল হিসেবে রান্না করা খাবার দেওয়া হয়। তবে ভারতসহ অনেক দেশে স্কুলে রান্না হয় না। একটি সেন্ট্রাল কিচেনে রান্না করে তা একাধিক স্কুলে সরবরাহ করা হয়। বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থাসহ নানা দিক বিবেচনা করে ওই ব্যবস্থায় যাওয়া কষ্টকর। আর সেন্ট্রাল কিচেন করতে গেলে বিশাল অবকাঠামো, বিপুলসংখ্যক জনবল, যানবাহনসহ নানা খাতে বড় বরাদ্দ লাগবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, স্কুলে প্রতিদিন খাবার রান্না করতেও বেশ ঝামেলায় পড়তে হবে। একটি স্কুলে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ বাচ্চা থাকলে তাদের রান্নায় প্রতিদিন উৎসবের মতো বড় আয়োজন করতে হবে। রান্নার কাজে যদি শিক্ষকরা সম্পৃক্ত হন, তাহলে পড়ালেখা নষ্ট হবে। স্কুলগুলোতে খুব বেশি জায়গা না থাকায় রান্নাঘর করতে সমস্যার সৃষ্টি হবে। পড়ালেখার সময় ধোঁয়াসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। আমাদের দেশের স্কুল ম্যানেজিং কমিটিও দক্ষ নয়, ফলে রান্নার কাজ পরিচালনায় বেশ ঝামেলা পোহাতে হবে। এ ছাড়া রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঝামেলা হতে পারে। স্বাস্থ্যসম্মত স্থায়ী রান্নাঘর করা সম্ভব নয় বলে খাবারে দূষণ ছড়াতে পারে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডাব্লিউএফও) সহযোগিতায় ২০১০ সাল থেকে দেশের ১০৪টি দারিদ্র্যপ্রবণ উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং হিসেবে বিস্কুট বিতরণ শুরু হয়। আগামী ৩১ ডিসেম্বর এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালে বরগুনার বামনা, জামালপুরের ইসলামপুর এবং বান্দরবানের লামা উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে দুপুরে রান্না করা খাবার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।

জানা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় স্কুল মিল’ নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ২০১৬ সালে একটি কমিটি গঠন করে। ২০১৭ সালে এ নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতিমালা-২০১৯’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে। সেখানে রান্না করা খাবারের কথা বলা হয়েছে। এতে প্রতিবছর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা। শুধু পূর্ণ দিবস স্কুলের জন্য মিড ডে মিল রাখা হয়েছে।

নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হলেও রান্না করা খাবারের ঝামেলার কথা ভাবছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে থাকছে ডিম, কলা ও পাউরুটি। আগামী জানুয়ারিতে স্কুল ফিডিংয়ের জন্য ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। সেখানে রান্না করা খাবার এবং ডিম-কলা-পাউরুটি এই দুটি ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল যেটি পছন্দ করবে সে অনুযায়ী মিড ডে মিল চলবে। একটি শিশুর জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ টাকা বরাদ্দ ধরে ডিপিপি তৈরি করা হচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের রান্না করা খাবার তৈরির জন্য আমাদের আলাদাভাবে কোনো কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। আর স্কুল প্রাঙ্গণে খাবার রান্না করলে নানা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। শিক্ষকরা সম্পৃক্ত হলে পড়ালেখার ক্ষতি হবে। বিদ্যালয়ের পরিবেশেরও ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে ডিম-কলা-পাউরুটি রাখা হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গ্রামের বেশির ভাগ বাচ্চা প্রতিদিন ডিম খেতে পায় না। স্কুলের খাবারে ডিম দিলে তাদের পুষ্টির অভাব পূরণ হবে। ফলের চাহিদা পূরণ করবে কলা। আর এর সঙ্গে পাউরুটি থাকলে একটি শিশুর পেটও ভরবে।’

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর