মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৩:৪৩ পিএম


সরকারি চাকরিতে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না যে কারণে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:০৭, ২১ জানুয়ারি ২০২০  

জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে শূন্য রয়েছে তিন লাখ ১৩ হাজারের বেশি পদ। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের নিয়োগ সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে হয় বলে `নিয়োগজট` কম। কিন্তু মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর দায়িত্বে থাকা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেও বছরের পর বছর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে না। নিয়োগবিধি ও মামলার কারণেও অনেক শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা জানি, একসময় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও নানা জটিলতা ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের টানা তিন মেয়াদে প্রতিবছর বিসিএস পরীক্ষা নিশ্চিত হওয়ায় সেক্ষেত্রে গতি এসেছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে তাহলে এমন জটিলতা কেন? আমরা মনে করি, এর কারণ নিছক নিয়োগবিধি বা মামলা নয়। অনিয়ম ও দুর্নীতিও দায়ী। বস্তুত অনিয়মের অভিযোগ থেকেই পুনঃপরীক্ষা, পুনর্বিজ্ঞপ্তি এমনকি মামলার পরিস্থিতি উদ্ভব হয়। এক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ম নিশ্চিত করতে পারলেই সংকট বহুলাংশে দূর হবে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরির প্রতি যাতে সবাই নির্ভরশীল না হয়, সেই ব্যবস্থাও নিতে হবে। অস্বীকার করা যাবে না, সরকারি চাকরির নিশ্চয়তা ও অন্যান্য সুবিধা বিপুলসংখ্যক সদ্য স্নাতককে আকর্ষণ করে থাকে। কিন্তু এটাও সত্য, যদি প্রতিবছর নিয়মিত সব শ্রেণির কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়, তাতে করেও ওই চাকরির `বাজার` খুব বেশি প্রশস্ত নয়। এক্ষেত্রে সরকারি চাকরির মতো নিশ্চয়তা ও সুযোগ-সুবিধা বেসরকারি চাকরিতেও নিশ্চিত করতে হবে। বস্তুত নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া এবং গত কয়েক বছরে দৃষ্টান্তমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী একটি দেশে বেসরকারি খাতও সরকারি খাতের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে না কেন? অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ভারসাম্য আনতে হলে কেবল চাকরি নয়, উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে নজর দেওয়ার বিকল্প নেই। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও আমরা গভীর হতাশার সঙ্গে দেখি যে, এখনও সামান্য সরকারি কাজে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদেরও ভিড় লেগে যায়। জনমিতির দিক থেকে আমরা ভাগ্যবান যে, নাগরিকদের অধিকাংশই তরুণ। তাদের মধ্যে বাড়ছে শিক্ষা ও প্রযুক্তিমনস্কতা। কিন্তু এই তারুণ্য যখন নিজের চেষ্টায় কিছু করতে চায়- তখন প্রয়োজনীয় উপকরণ পেতে, ঋণ পেতে, সরকারি অনুমোদন পেতে, উদ্যোগ পরিচালনার ক্ষেত্রে পদে পদে বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা যদি বেসরকারি কর্মসংস্থান বাড়িয়ে বেকারত্ব দূর করতে চাই, তাহলে অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করতেই হবে। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে অনেকেই এগিয়ে আসবে স্বকর্মসংস্থানে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নও মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমাবে। তাতে করে কর্মসংস্থান নয়; উন্নয়নেও আসবে ভারসাম্য।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর