শনিবার ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০:৪৩ এএম


সরকারি চাকরিজীবীদের ফৌজদারী অপরাধেও গ্রেপ্তার করা যাবে না

খায়ের

প্রকাশিত: ১৬:১৪, ২০ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ০৮:৪৭, ২৩ আগস্ট ২০১৮

নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ফৌজদারী অপরাধেও গ্রেপ্তার করা যাবে না সরকারি চাকরিজীবীদের এমন বিধান রেখে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই আইনের শিরোনাম আগে ‘সরকারি কর্মচারী আইন’ থাকলেও এখন তা নাম বদলে হয়েছে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, “অনেক দিন আলোচনার পর আইনটি আসছে। … অনেক বিষয়ই বিধির জন্য রাখা হয়েছে।”

শফিউল বলেন, “সরকারি কর্মচারীদের ফৌজদারি অপরাধে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার আগে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। চার্জশিট গৃহীত হলে আর অনুমোদন নেওয়া লাগবে না।”

এই আইন পাস হলে দুদক ফাঁদ পেতে কোনো সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করতে পারবে কি না- এ প্রশ্নে সচিব বলেন, “চার্জশিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। চার্জশিট হওয়ার আগে গ্রেপ্তার করতে হলে আগে অনুমতি নিতে হবে।”

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ২০০৬ সালে ‘সিভিল সার্ভিস আইন’ নামে গণকর্মচারীদের জন্য আইন তৈরির উদ্যোগ নিলেও সে সময় কোনো খসড়া প্রণয়ন হয়নি।

পরে ফখরুদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ওই আইনের খসড়া তৈরি করে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি কর্মচারী আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে ২০১৩ সালের ১৪ জানুয়ারি একটি কমিটি করে দেয়।

২০১৪ সালের ২১ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওই আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে। ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই প্রস্তাবিত খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর সরকারি কর্মচারী আইনের খসড়া ফের মন্ত্রিসভায় তোলা হলেও তাতে চূড়ান্ত অনুমোদন না দিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুশাসন দেয় মন্ত্রিসভা।

পরে জনপ্রশাসন ও আইন মন্ত্রণালয়ের যৌথ কমিটি এই আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে। ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় তা খসড়া উপস্থাপন করা হয়।

এরপর প্রস্তাবিত আইনটির কয়েকটি ধারা বিশ্লেষণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইনকে প্রধান করে আট সদস্যের একটি উপ-কমিটি করে দেয় সরকার। গত এপ্রিলে ওই কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলে সচিব কমিটির সভায় তা অনুমোদন দেওয়া হয়।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর