রবিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২১:০৩ পিএম


সরকারি কলেজ প্রভাষকের নির্যাতনে স্ত্রীর চােখ-কান নষ্ট!

পাইকগাছা ( খুলনা ) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৮:৪৬, ১৯ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১০:৪১, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

পাইকগাছা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মাসুদুর রহমান মন্টুর বিরুদ্ধে প্রথম স্ত্রী প্রভাষক রেবা আক্তার কুসুমকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার নিজ বাসভবনে স্ত্রী কুসুমকে মারপিট করলে তিনি আহত হন। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ প্রভাষক মন্টুকে থানায় তলব করেছেন। রেবা আক্তার কুসুম গড়ইখালী শহীদ আইয়ুব ও মুসা মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক।

জানা যায়, মন্টু ও কুসুমের পারিবারিকভাবে ১৯৯১ সালে বিয়ে হয়। ২০০৯ সাল থেকে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহের সৃষ্টি হয়। ওই সময় মন্টু এক এনজিও কর্মীকে দ্বিতীয় বিবাহ করেছে এমন অভিযোগ উঠে। দ্বিতীয় স্ত্রী স্বীকৃতির দাবীতে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগসহ ঘুরতে দেখা গেছে। যদিও ওই নারীর অভিযোগ মন্টু অস্বীকার করে আসছে। ২০১৬ সালে একই কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক সুলতানা জাহান পান্নাকে মন্টু বিয়ে করে। মন্টু সুলতানাকে নিয়ে পৌর সদরের একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন বলে জানা যায়।

রেবা আক্তার কুসুম অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে মন্টু আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং শারীরিক নির্যাতন করে আসছে। সম্মানের দিকে তাকিয়ে আমি অনেক যন্ত্রণা নিজের মধ্যে চেপে রেখেছিলাম। শনিবার বিদ্যুতের মিটার পরিবর্তনের কথা বললে মন্টু আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াসহ অকথ্য অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে আমার মুখে আঘাত করলে সিঁড়িতে পড়ে যায়।

কুসুমের ভাই হাদিছুজ্জামান জানান, মন্টু দীর্ঘদিন আমার বোনকে অমানসিক নির্যাতন করে আসছে। যার ধারাবাহিকতায় শনিবারও সে বেদম মারপিট করে। বর্তমানে বোন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার চোখ ও কানের অবস্থা খুবই খারাপ। বাম চোখ দিয়ে দেখতে এবং বাম কান দিয়ে শুনতে পাচ্ছেন না। বিষয়টি মৌখিকভাবে থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ মন্টুকে থানায় তলব করে করেছে।

মাসুদুর রহমান মন্টু জানান, ঘটনার দিন বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কুসুমের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আমি তাকে একটা চড় মেরেছিলাম। তবে কোন গুরুতর আঘাতের ঘটনা ঘটেনি। এরপর ওসির সঙ্গে দেখা করে হাসপাতালে কুসুমকে দেখতে গিয়েছি। তাকে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি সঠিক নয়।

ওসি এমদাদুল হক শেখ জানান, আমি তাদেরকে অভিযোগ কিংবা মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর