শুক্রবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১১:৫৮ এএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

সরকারি কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে অনেক জটিলতা ছিল: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:৪৬, ৬ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৩:০৬, ৭ ডিসেম্বর ২০১৮

সরকারি কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে কোন কাজ করতে গেলেই জটিলতা তার ওপর আবার মামলা। তারপরেও আমরা ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সচিব পদে ১৮০ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ১১৫০ জন, যুগ্ম সচিব পদে ২০২৫ জন এবং উপসচিব পদে ২৬৮৬ জনকে পদোন্নতি দিতে সক্ষম হয়েছি। এর পদোন্নতি বোধ হয় কোনদিন কোন সরকার একসঙ্গে দিতে পারেনি। কিন্তু আমরা সেটা দিতে পেরেছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীর শাহবাগস্থ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১০৭, ১০৮ ও ১০৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যারা নবীন কর্মচারী এবং ক’দিন পরেই কর্মস্থলে যোগদান করবেন তাদেরকে বলবো প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি হিসেবেই আপনারা যোগদান করবেন। দেশের মানুষের সেবা করার জন্য।’ ‘যে যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকবেন সেখানকার কোন কাজটা করলে মানুষের জীবন মান উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে সেটা মাথায় রাখতে হবে এবং সেভাবেই পদক্ষেপ নিতে হবে, ’যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রশাসনের এক শ্রেনীর কর্মকর্তার সমালোচনা করে বলেন, দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। অথচ আমাদের দেশে দেখেছি একটা ধারণা প্রচলিত রয়েছে-কোন একটি প্রশিক্ষণ স্থলে কাউকে পদায়ন করা হলে তিনি মনে করেন তাকে ডাম্পিং স্থলে ফেলে দেয়া হলো। আমি জানি না কেন এই মানসিকতা। অথচ সবথেকে যারা মেধাবী তাদেরকেই এসব প্রশিক্ষণ স্থলে নিয়োগ দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। কারণ আমাদের আগামী দিনে কারিগরগুলো তারা তৈরি করবে সেইভাবে উপযুক্ত হয়ে।

 

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সরকারি কর্মচারিদের বেতন-ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা আমরা এজন্যই করেছি যেন দেশের সেবাটা আপনারা ভালোভাবে করতে পারেন।’

তিনি এই বেতন-ভাতা বৃদ্ধিকে পৃথিবীতে নজীরবিহীন উল্লেখ করে বলেন, তাঁর দেশের অর্থনীতিটা একটা শক্ত ভীতের ওপর দাঁড়িয়েছে বলেই এগুলো করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি হলুদ সাংবাদিকতার সমালোচনা করে বলেন, পত্রিকায় এটা ওটা লেখা হয়, আর আমাদের অনেকেই সেটা নিয়ে ঘাবরিয়ে যায়। আমি অন্তত এটুকু বলতে পারি রাষ্ট্র পরিচলনায় পত্রিকার লেখা পড়ে গাইড লাইন গ্রহণ করি না। তবে, পত্রিকা থেকে তিনি খবর এবং তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন বলেও ইঙ্গিত দেন।

সমাজকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসন ক্যাডারের নবীন কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির হাত থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে হবে। যে যখন যেখানে দায়িত্ব পালন করবেন এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।’

এগুলো একটি সমাজ ও পরিবারকে ধ্বংস করে দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এটুকু বলতে পারি বাংলাদেশ যথেষ্ট দক্ষতার সাথে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। কিন্তু এই অভিযান অব্যাহত রেখে দেশকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী কোর্স সম্পন্নকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ ছাড়াও তাঁদের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশগ্রহণ করেন এবং তিনটি ব্যাচের স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।

 

তিনি বলেন, পাশাপাশি ২০৭১ সাল যখন আমরা স্বাধীনতার শতবার্ষিকী উদযাপন করবো এবং সেই পর্যন্ত আমাদের পরিকল্পনা থেকে যাবে যেন আগামী প্রজন্ম সেই শতবার্ষিকী ভালোভাবে উদযাপন করতে পারে।

জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এবং জন প্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর