বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২০ ১:৫৮ এএম


সরকারিকৃত সব শিক্ষক-কর্মচারিদের অ্যাডহক নিয়োগ ও পদসৃজনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৪৩, ১৭ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১২:৩২, ১৭ মার্চ ২০২০

মুজিববর্ষের মধ্যেই সরকারিকৃত সব শিক্ষক-কর্মচারিদের অ্যাডহক নিয়োগ ও পদসৃজনের দাবি রয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের ।

২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন, দেশের যেসব উপজেলায় স্কুল ও কলেজ নেই, সেসব উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণ করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের আগস্টে ২৭১টি কলেজ জাতীয়করণের সরকারি আদেশ জারি হয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে আরও ২৮টি কলেজসহ সরকারের গত আমলে মোট ২৯৯ কলেজ জাতীয়করণ করা হয়। এরপর দেখা দেয় নতুন সমস্যা। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দাবি ছিল- সরকারি করা কলেজের শিক্ষকদের নন-ক্যাডার রাখতে হবে। এ জন্য তারা দীর্ঘদিন আন্দোলনও করেন। আর সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষকদের দাবি ছিল তাদেরও ক্যাডারভুক্ত করার।

দুই পক্ষের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যেই চূড়ান্ত হয়, ‘সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা-২০১৮’। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে আসার পর প্রায় দশ হাজার কলেজ-শিক্ষক ও ছয়-সাত হাজার কর্মচারী ভেবেছিলেন শিগগির তাদের সুদিন আসবে। কিন্তু তাদের সেই অপেক্ষার প্রহর আজও শেষ হয়নি।

তাদের দাবি পদসৃজনের কাজে তাদের অযাচিত ‘নোট’ ও ‘মন্তব্য’ করার কারণে অসংখ্য শিক্ষক-কর্মচারীর সরকারিকরণের পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এভাবেই তারা বছরের পর বছর ধরে আটকে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা-সরকারি কলেজবিহীন উপজেলা সদরে একটি করে কলেজ সরকারিকরণ। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে লাখ লাখ শিক্ষার্থী প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকরা। কলেজ সরকারি হলেও সরকারি কোনও সুবিধা কেউই পাননা।

এক স্মারকলিপিতে বলা হয়, শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে থাকা প্রতিহিংসাপরায়ণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ষড়যন্ত্রেই সরকারিকৃত তিনশতাধিক কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক কেউই সরকারিকরণের সুফল পাচ্ছেন না। এখনও পর্যন্ত একজন শিক্ষকেরও পদসৃজন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষক কর্মচারিদের মধ্য থেকে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক কর্মচারি সরকারিকরণের সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত হয়ে শূন্য হাতে অবসরে চলে গিয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও কোনো সুফল পাচ্ছেন না।

স্মারকলিপিতে শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, কর্তৃপক্ষের ষড়যন্ত্রের কারণে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক কর্মচারী আত্তীকরণের বাইরে থেকে গেলে তাদের পক্ষে বয়সের কারণে নতুন চাকরিতে যোগদান করা এবং আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকা তো দূরের কথা পরিবার, পরিজন ও সমাজের কাছে মুখ দেখানোই দায় হয়ে দাঁড়াবে। একইসাথে সরকারিকৃত কলেজের সব শিক্ষক কর্মচারিদের মুজিববর্ষের মধ্যই পদসৃজন ও অ্যাডহক নিয়োগের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন শিক্ষক নেতারা।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর