শনিবার ২৪ আগস্ট, ২০১৯ ১৯:১০ পিএম


সম্মেলনে ডিসিদের প্রতি সরকারের কী নির্দেশনা থাকতে পারে

শফিকুল ইসলাম

প্রকাশিত: ১২:৩১, ৯ মে ২০১৯  

জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে। এই সম্মেলনে ডিসিদের প্রতি সরকারের কী নির্দেশনা থাকবে, তা নিয়ে প্রশাসনে চলছে ব্যাপক আলোচনা। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এবারের সম্মেলনে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে গতিশীলতা বাড়াতে ডিসিদের ওপর জোর দেওয়া হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের নীতি বাস্তবায়ন এবং সরকারের উন্নয়নমূলক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হবে ডিসিদের।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে রিপোর্ট নেওয়ার ক্ষেত্রে ডিসিদের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান মূল্যায়ন ব্যবস্থার বাইরে অন্য কোনো সংস্থার কাছ থেকে প্রতিবেদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি চাইবেন তারা। তাই এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত চাইবেন ডিসিরা।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেলে জুলাই মাসের ১৮ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত এই পাঁচ দিন এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও অতীতের ডিসি সম্মেলন তিনদিন অনুষ্ঠিত হলেও এবারই প্রথম পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে, যা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অতীতে ডিসি সম্মেলনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি যুক্ত থাকলেও এবার যোগ দিচ্ছেন প্রধান বিচারপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকারও। তবে তারা ডিসিদের কী পরামর্শ-নির্দেশনা দেবেন, সে সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সংস্কার ও সমন্বয়) ড. শামসুল আরেফিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে এখনও কিছু জানি না।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অতীতের মতো এবারের ডিসি সম্মেলনেও বরাবরের মতো সরকারের পক্ষ থেকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, গ্রামের মরুব্বি, নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ী, নারী সংগঠক, আনসার-ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ, এনজিওকর্মীসহ সমাজের সবাইকে সম্পৃক্ত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

সরকারি সেবাগ্রহণে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা, তৃণমূল-পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। যেন মানুষ শহরমুখী না হয়, ধনী-গরিবের মধ্যে বৈষম্য কমানো যায়।

এদিকে, ডিসিরা মনে করেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হওয়ার পর আলামত হিসেবে মাদকদ্রব্য পরীক্ষার ফল পেতে দেরি হয়। এতে বিচারকার্য বিলম্বিত হয়। তাই সমাজকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে এই সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে এসব মামলার আলামত দ্রুত পেতে বিভাগীয় শহরে স্বয়ংসম্পূর্ণ মাদকদ্রব্য টেস্টিং ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রস্তাব জমা দিয়েছেন ডিসিরা। এবারের সম্মেলনে ডিসিরা এর সুরাহা চাইবেন।

এ বিষয়ে জানতে কয়েকজন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়গুলো সরকারের একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয়, যা গোপনীয়ও। তাই এসব বিষয় নিয়ে তারা কথা বলতে রাজি হননি।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন, কোনও কিছুই এখন চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। যে বিষয়গুলো নিয়ে এখনও কাজ চলছে। তিনি জানান, ডিসি সম্মেলনের তারিখ কবে হবে, এখনও সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া যায়নি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সমাজের প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিশেষ পদক্ষেপগুলো কতটুকু বাস্তবায়িত হলো বা হচ্ছে, তা তদারকির জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হবে। থাকবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ ১০ উদ্যোগের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের নির্দেশনাও।

জানা গেছে, সাধারণ মানুষকে সহজে সুবিচার দিতে ও আদালতে মামলার জট কমাতে গ্রাম আদালতগুলোকে কার্যকর করার পরামর্শ থাকলেও তা শতভাগ বাস্তবায়ন করা যায়নি। তবে স্থানীয় সরকার কাঠামোতে বিদ্যমান সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধানে পারিবারিক কিছু সমস্যা সামাধান করা হচ্ছে। গ্রাম আদালতগুলোকে শতভাগ কার্যকর করার মাধ্যমে ছোটখাটো বিষয় নিষ্পত্তির জন্য আদালতের ওপর চাপ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে নেতৃত্ব দিতে হবে, শিক্ষার সর্বস্তরে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগগুলোর বিষয় জনগণকে জানানোর পদক্ষেপ নিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা থাকতে পারে।

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার। এক্ষেত্রে কোনও ছাড় নয়—এই নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা থাকবে ডিসি সম্মেলনে। কোনও নিরপরাধ যেন শাস্তি না পায়, সেদিকে লক্ষ রেখে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা থাকবে সরকারের।

প্রসঙ্গত, এবারের ডিসি সম্মেলনে মোট অধিবেশন থাকছে ২৯টি, এর মধ্যে কার্য-অধিবেশন হবে ২৪টি। অতীতে প্রতিদিন ডিসি সম্মেলন শেষ হতে রাত ৯টা থেকে ১০টা বাজতো। এবার সেই সময় কমিয়ে আনা হয়েছে। এবার ডিসি সম্মেলনের প্রতিদিনের কার্যক্রম বিকাল পাঁচটার মধ্যে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মসূচি সাজানো হয়েছে।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর